ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চাকুরীচ্যুত প্রকৌশলী নাসির বহাল তবিয়তে পায়রা বন্দরে: গড়েছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়!  Logo যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সকল দলকে নিয়ে বিএনপির যৌথসভা Logo ১০ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে বরিশাল-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী স্বপনের মনোনয়নপত্র দাখিল Logo রাজপথ বিএনপির দখলে না থাকলেও বিটিভি  বিএনপি জামায়াতের দখলে! Logo দেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বেস্ট হোল্ডিং Logo অগ্রণী ব্যাংকের ডিজিএম সৈয়দ সালমা উসমানের বেপরোয়া দুর্নীতি! Logo বরিশালের বাকেরগঞ্জে পল্লী চিকিৎসকের ঘরে লুটপাট Logo ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন এখন করাপশনের ত্রিমুখী জুটি Logo মনোনয়নপ্রত্যাশী ৩৩৬২ জনের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন শেখ হাসিনা Logo থিয়েটার কুবি’র নেতৃত্বে সুইটি-হান্নান




ঈদ ঘিরে তৎপর সাতক্ষীরার মাদক সিন্ডিকেট

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা;

ভারত সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা। জেলায় ২৩৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভারতীয় সীমান্ত। সুন্দরবনের মধ্যে একশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জলসীমানা বেষ্টিত আর ১৩৮ কিলোমিটার রয়েছে স্থল ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা। এসব ভারতীয় সীমানা দিয়ে চোরাই পথে মাদক ঢুকে বাংলাদেশে।

চোরাই পথে ভারত থেকে আসা মাদকের মধ্যে রয়েছে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও বিভিন্ন ধরনের মদ। এবার ঈদকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। তবে এসব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তৎপরতাও রয়েছে। ভারত সীমান্ত পেরিয়ে মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য অবৈধ পথে ভারত থেকে দেশে আসার সময় আটক করছে বিজিবি।

তবে মাঝেমধ্যে বিজিবি ও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে সাতক্ষীরার স্থলভাগে প্রবেশের পর তা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হয়ে যায়। এরই মধ্যে ঈদকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।

জানা যায়, প্রশাসনের এত অভিযানের পরও টাকা হলে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সাতক্ষীরা শহরেই পাওয়া যায়। তবে শহরের মধ্যে একটু দাম বেশি। সীমান্ত এলাকায় গেলে কম দামে পাওয়া যায়। শহরের মধ্যে প্রতি পিস ফেনসিডিল পাওয়া যায় ৮০০-৯০০ টাকায়। ভোমরা সীমান্ত এলাকায় পাওয়া যায় ৫০০ টাকায়।

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর সীমান্ত এলাকায় রয়েছে মাদকের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা। পাইকারি বিক্রেতার মধ্যে বড় ব্যবসায়ী হলেন শান্ত। যশোর জেলার শার্শা উপজেলায় বাড়ি হলেও থাকেন সাতক্ষীরাতে।

ভোমরা এলাকার সবুর ও বাবুকে দিয়ে শান্ত নিয়ন্ত্রণ করেন তার ফেনসিডিল ব্যবসা। মাদক ব্যবসার টাকা ভাগ- বাটোয়ারার হিসাব রয়েছে চারটি খাতায়। চারটি খাতার মধ্যে একটি পুলিশের, একটি সাংবাদিকদের, আরেকটি সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও অন্যটি বিবিধ খরচ। মাদক বিক্রেতা শান্ত যখন যাকে টাকা দেন তখন তার খাতায় সেগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাদক ব্যবসায়ী বলেন, রায়হান, বাবু ও আরিফ ভোমরা এলাকার মাদকের খুচরা বিক্রেতা। ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিকিকিনি করেন তারা। ভোমরা এলাকায় ইয়াবার খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন শিমুল। সদরের আলীপুর চেকপোস্ট এলাকার ফেনসিডিলের পাইকারি বিক্রেতা রয়েছেন মুজিব। পাচানি স্কুল এলাকায় জিল্লু ও হবি করেন মাদকের খুচরা ব্যবসা। এসব মাদক ব্যবসায়ীর নামে থানায় মামলা রয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আলী আহম্মেদ হাশেমী বলেন, ভারত থেকে ফেনসিডিলসহ যেসব মাদক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে সেগুলো আটক করতে গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে মাদক ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলেও আমাদের প্রশাসনিক নজরদারি ও টিম বাড়ানো হয়েছে। আমরা খোঁজখবর রাখছি। একই সঙ্গে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীসহ ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে। আটক করা হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের।

চোরা চালান ও মাদকের বিষয়ে সাতক্ষীরা ৩৩-বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মহিউদ্দিন খন্দকার বলেন, সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে। বিজিবির অভিযানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার হচ্ছে। এছাড়া অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ভারতীয় পণ্যও উদ্ধার করা হচ্ছে। চোরাচালানিরা সক্রিয় হলেও সীমান্ত এলাকায় তৎপর রয়েছে বিজিবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




ঈদ ঘিরে তৎপর সাতক্ষীরার মাদক সিন্ডিকেট

আপডেট সময় : ০৪:১৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯

জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা;

ভারত সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা। জেলায় ২৩৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভারতীয় সীমান্ত। সুন্দরবনের মধ্যে একশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জলসীমানা বেষ্টিত আর ১৩৮ কিলোমিটার রয়েছে স্থল ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা। এসব ভারতীয় সীমানা দিয়ে চোরাই পথে মাদক ঢুকে বাংলাদেশে।

চোরাই পথে ভারত থেকে আসা মাদকের মধ্যে রয়েছে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও বিভিন্ন ধরনের মদ। এবার ঈদকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। তবে এসব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তৎপরতাও রয়েছে। ভারত সীমান্ত পেরিয়ে মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য অবৈধ পথে ভারত থেকে দেশে আসার সময় আটক করছে বিজিবি।

তবে মাঝেমধ্যে বিজিবি ও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে সাতক্ষীরার স্থলভাগে প্রবেশের পর তা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হয়ে যায়। এরই মধ্যে ঈদকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।

জানা যায়, প্রশাসনের এত অভিযানের পরও টাকা হলে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সাতক্ষীরা শহরেই পাওয়া যায়। তবে শহরের মধ্যে একটু দাম বেশি। সীমান্ত এলাকায় গেলে কম দামে পাওয়া যায়। শহরের মধ্যে প্রতি পিস ফেনসিডিল পাওয়া যায় ৮০০-৯০০ টাকায়। ভোমরা সীমান্ত এলাকায় পাওয়া যায় ৫০০ টাকায়।

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর সীমান্ত এলাকায় রয়েছে মাদকের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা। পাইকারি বিক্রেতার মধ্যে বড় ব্যবসায়ী হলেন শান্ত। যশোর জেলার শার্শা উপজেলায় বাড়ি হলেও থাকেন সাতক্ষীরাতে।

ভোমরা এলাকার সবুর ও বাবুকে দিয়ে শান্ত নিয়ন্ত্রণ করেন তার ফেনসিডিল ব্যবসা। মাদক ব্যবসার টাকা ভাগ- বাটোয়ারার হিসাব রয়েছে চারটি খাতায়। চারটি খাতার মধ্যে একটি পুলিশের, একটি সাংবাদিকদের, আরেকটি সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও অন্যটি বিবিধ খরচ। মাদক বিক্রেতা শান্ত যখন যাকে টাকা দেন তখন তার খাতায় সেগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাদক ব্যবসায়ী বলেন, রায়হান, বাবু ও আরিফ ভোমরা এলাকার মাদকের খুচরা বিক্রেতা। ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিকিকিনি করেন তারা। ভোমরা এলাকায় ইয়াবার খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন শিমুল। সদরের আলীপুর চেকপোস্ট এলাকার ফেনসিডিলের পাইকারি বিক্রেতা রয়েছেন মুজিব। পাচানি স্কুল এলাকায় জিল্লু ও হবি করেন মাদকের খুচরা ব্যবসা। এসব মাদক ব্যবসায়ীর নামে থানায় মামলা রয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আলী আহম্মেদ হাশেমী বলেন, ভারত থেকে ফেনসিডিলসহ যেসব মাদক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে সেগুলো আটক করতে গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে মাদক ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলেও আমাদের প্রশাসনিক নজরদারি ও টিম বাড়ানো হয়েছে। আমরা খোঁজখবর রাখছি। একই সঙ্গে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীসহ ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে। আটক করা হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের।

চোরা চালান ও মাদকের বিষয়ে সাতক্ষীরা ৩৩-বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মহিউদ্দিন খন্দকার বলেন, সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে। বিজিবির অভিযানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার হচ্ছে। এছাড়া অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ভারতীয় পণ্যও উদ্ধার করা হচ্ছে। চোরাচালানিরা সক্রিয় হলেও সীমান্ত এলাকায় তৎপর রয়েছে বিজিবি।