ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

কুবি উপাচার্যের বক্তব্যের প্রমাণ দিতে শিক্ষক সমিতির সাত দিনের আল্টিমেটাম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪ ৪৫৯ বার পড়া হয়েছে

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বক্ষেত্রে জামায়াতের অনুসারীদের আধিক্য রয়েছে’ দাবি করে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন। যা বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এসেছে। এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ও অকাট্য প্রমান চেয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রমান দিতে না পারলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার(১ এপ্রিল)  শিক্ষক  সমিতির  সভাপতি  অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মাহমুদুল হাছানের সাক্ষরিত  এক  প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ  জানানো  হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরুর দিকে ১৫ জন শিক্ষক নিয়োগ পান। তার মধ্যে এখন ৮ জন শিক্ষক রয়েছেন যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৬ জন শিক্ষকের সিংহভাগ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন ও চর্চার মাধ্যমে শিক্ষা-গবেষণার উন্নয়ন এবং দেশ গঠনে অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং এ শিক্ষকগণই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিকে নিরঙ্কুশ ভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নীল দলের সদস্যগণ। ২০২৪ সালের শিক্ষক সমিতিতেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধামে নীল দল পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়, যাদের কয়েকজন সদস্য মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। সমিতির সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গুটি কয়েক শিক্ষক প্রকাশ্যে ভিন্ন ধারার আদর্শের চর্চা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধি চর্চার জায়গা এবং সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের প্রতিটি ব্যক্তি নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ চর্চার অধিকার রাখেন।

গত ৩১ মার্চ ২০২৪, সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপাচার্য উল্লেখ করেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বক্ষেত্রে জামায়াতের অনুসারীদের আধিক্য রয়েছে” এবং এটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে একজন উপাচার্য হিসেবে গঠনমূলক সমালোচনায় অংশগ্রহণ না করে তিনি ঢালাওভাবে শিক্ষকদের মিথ্যা কালিমালেপনের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছেন এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করার মাধ্যমে শিক্ষকদের সাথে ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়েছেন যা মোটেও উপাচার্যসুলভ আচরণের মধ্যে পরেনা। শিক্ষক সমিতি মনে করে এটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সৃষ্ট বিভিন্ন অরাজকতা ধামাচাপা দেওয়ার একটি অপপ্রয়াস। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সকল শিক্ষকের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষক সমিতি কার্যনির্বাহী পরিষদ মনে করে মাননীয় উপাচার্য প্রত্যেক শিক্ষকের নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ ও বিশ্বাসকে আঘাত করেছেন।

উপাচার্যের নানা অনিয়ম প্রসঙ্গে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে উপাচার্যের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, অব্যবস্থাপনা, নিয়োগ/পদোন্নতিতে বিধি বহির্ভূত অবৈধ শর্ত আরোপ, ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষকদেরকে পদোন্নতি বঞ্চিত করা, স্বায়ীকরণ রোধ করা, আইনের ব‍্যত‍্যয় ঘটিয়ে ডিন ও বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ, টেন্ডার বাণিজ্য, ভর্তি পরীক্ষার অর্থ আত্মসাৎ, গবেষণা প্রকল্পের তহবিল তসরুফ, তথ্য গোপন করে অবৈধ ইনক্রিমেন্ট গ্রহণ, নিয়োগে আত্মীয়করণ, যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে নির্ধারিত যোগ্যতার চেয়ে কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ, নানাবিধ আর্থিক দুর্নীতি ও অশিক্ষকসুলভ আগ্রাসী আচরণের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা তাদের যৌক্তক দাবিসমূহ আদায়ে সামষ্টিক প্রতিবাদ করে, যা এখনো চলমান। শিক্ষকদের আন্দোলনের চাপে কোণঠাসা হয়ে এখন তিনি মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গুণবাচক যেসকল উন্নয়ন তিনি নিজের বলে দাবি করেন, যেমন: বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট নিরসন, র‍্যাঙ্কিং বৃদ্ধি, শিক্ষকদের গবেষণা প্রকাশনার মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য, শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সফলতা- সবগুলোই মূলত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক অর্জন। এটি বিগত ১৮বছরের সামষ্টিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। অবকাঠামোগত যেসকল উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর আর্থিক বরাদ্দ কোনটিই তার আমলের নয়। অবকাঠামোগুলোর কিছু কিছুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে তার আমলে। বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, সামাজিক বিজ্ঞান বা বাণিজ্য, যে পরিসরেই গবেষণা করা হোক না কেন, ‘২ বছর’ পরিবর্তনের সূচনা আনতে পারে, কখনোই গুরত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারেনা। সফলতার কোনো শর্টকাট পদ্ধতি নেই। পৃথিবীর ইতিহাসে ধর্ম, রাজনীতি, বিপ্লব, আবিষ্কার বা পরিবর্তন একটি ধারাবাহিক এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। উপাচার্যের ‘২ বছরের উন্নয়নের ফিরিস্তি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী অর্জনগুলোকে ম্লান করে দেয় এবং তার বক্তব্য, বিবৃত্তি, আলোচনা সর্বক্ষেত্রে আরকেন্দ্রীক যেখানে তিনি কখনোই নিজেকে ভিন্ন অন্য কাউকে স্বীকৃতি দিতে শিখেননি। যেটি মূলত নেতৃত্বের সংকট। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কোন অর্জন এককভাবে নয়, অর্জিত হয় সামষ্টিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে।

এছাড়া আরো বলা হয়, শিক্ষক সমিতির দ্বার্থহীন ভাষায় বলতে চায়, ২০০৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত যে ৪জন উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হযেছিলেন, তাদের হাত দিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর প্রায় ৯০ শতাংশ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে উপাচার্য যে বিরুপ মন্তব্য করেছেন, এটি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যাচার এবং তার মনগড়া বক্তব্য। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার উপাচার্যের এহেন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জ্ঞাপন করছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উপাচার্যকে তার বক্তব্য শুধু প্রত্যাহার নয়, বরং বক্তব্যের সমর্থনে আগামী সাত দিনের মধ্যে অকাট্য তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানাচ্ছে। তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হলে শিক্ষক সমিতি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে এক দফা আন্দোলনের কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

কুবি উপাচার্যের বক্তব্যের প্রমাণ দিতে শিক্ষক সমিতির সাত দিনের আল্টিমেটাম

আপডেট সময় : ১১:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বক্ষেত্রে জামায়াতের অনুসারীদের আধিক্য রয়েছে’ দাবি করে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন। যা বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এসেছে। এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ও অকাট্য প্রমান চেয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রমান দিতে না পারলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার(১ এপ্রিল)  শিক্ষক  সমিতির  সভাপতি  অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মাহমুদুল হাছানের সাক্ষরিত  এক  প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ  জানানো  হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরুর দিকে ১৫ জন শিক্ষক নিয়োগ পান। তার মধ্যে এখন ৮ জন শিক্ষক রয়েছেন যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৬ জন শিক্ষকের সিংহভাগ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন ও চর্চার মাধ্যমে শিক্ষা-গবেষণার উন্নয়ন এবং দেশ গঠনে অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং এ শিক্ষকগণই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিকে নিরঙ্কুশ ভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নীল দলের সদস্যগণ। ২০২৪ সালের শিক্ষক সমিতিতেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধামে নীল দল পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়, যাদের কয়েকজন সদস্য মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। সমিতির সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গুটি কয়েক শিক্ষক প্রকাশ্যে ভিন্ন ধারার আদর্শের চর্চা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধি চর্চার জায়গা এবং সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের প্রতিটি ব্যক্তি নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ চর্চার অধিকার রাখেন।

গত ৩১ মার্চ ২০২৪, সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপাচার্য উল্লেখ করেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বক্ষেত্রে জামায়াতের অনুসারীদের আধিক্য রয়েছে” এবং এটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে একজন উপাচার্য হিসেবে গঠনমূলক সমালোচনায় অংশগ্রহণ না করে তিনি ঢালাওভাবে শিক্ষকদের মিথ্যা কালিমালেপনের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছেন এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করার মাধ্যমে শিক্ষকদের সাথে ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়েছেন যা মোটেও উপাচার্যসুলভ আচরণের মধ্যে পরেনা। শিক্ষক সমিতি মনে করে এটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সৃষ্ট বিভিন্ন অরাজকতা ধামাচাপা দেওয়ার একটি অপপ্রয়াস। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সকল শিক্ষকের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষক সমিতি কার্যনির্বাহী পরিষদ মনে করে মাননীয় উপাচার্য প্রত্যেক শিক্ষকের নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ ও বিশ্বাসকে আঘাত করেছেন।

উপাচার্যের নানা অনিয়ম প্রসঙ্গে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে উপাচার্যের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, অব্যবস্থাপনা, নিয়োগ/পদোন্নতিতে বিধি বহির্ভূত অবৈধ শর্ত আরোপ, ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষকদেরকে পদোন্নতি বঞ্চিত করা, স্বায়ীকরণ রোধ করা, আইনের ব‍্যত‍্যয় ঘটিয়ে ডিন ও বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ, টেন্ডার বাণিজ্য, ভর্তি পরীক্ষার অর্থ আত্মসাৎ, গবেষণা প্রকল্পের তহবিল তসরুফ, তথ্য গোপন করে অবৈধ ইনক্রিমেন্ট গ্রহণ, নিয়োগে আত্মীয়করণ, যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে নির্ধারিত যোগ্যতার চেয়ে কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ, নানাবিধ আর্থিক দুর্নীতি ও অশিক্ষকসুলভ আগ্রাসী আচরণের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা তাদের যৌক্তক দাবিসমূহ আদায়ে সামষ্টিক প্রতিবাদ করে, যা এখনো চলমান। শিক্ষকদের আন্দোলনের চাপে কোণঠাসা হয়ে এখন তিনি মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গুণবাচক যেসকল উন্নয়ন তিনি নিজের বলে দাবি করেন, যেমন: বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট নিরসন, র‍্যাঙ্কিং বৃদ্ধি, শিক্ষকদের গবেষণা প্রকাশনার মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য, শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সফলতা- সবগুলোই মূলত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক অর্জন। এটি বিগত ১৮বছরের সামষ্টিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। অবকাঠামোগত যেসকল উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর আর্থিক বরাদ্দ কোনটিই তার আমলের নয়। অবকাঠামোগুলোর কিছু কিছুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে তার আমলে। বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, সামাজিক বিজ্ঞান বা বাণিজ্য, যে পরিসরেই গবেষণা করা হোক না কেন, ‘২ বছর’ পরিবর্তনের সূচনা আনতে পারে, কখনোই গুরত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারেনা। সফলতার কোনো শর্টকাট পদ্ধতি নেই। পৃথিবীর ইতিহাসে ধর্ম, রাজনীতি, বিপ্লব, আবিষ্কার বা পরিবর্তন একটি ধারাবাহিক এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। উপাচার্যের ‘২ বছরের উন্নয়নের ফিরিস্তি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী অর্জনগুলোকে ম্লান করে দেয় এবং তার বক্তব্য, বিবৃত্তি, আলোচনা সর্বক্ষেত্রে আরকেন্দ্রীক যেখানে তিনি কখনোই নিজেকে ভিন্ন অন্য কাউকে স্বীকৃতি দিতে শিখেননি। যেটি মূলত নেতৃত্বের সংকট। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কোন অর্জন এককভাবে নয়, অর্জিত হয় সামষ্টিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে।

এছাড়া আরো বলা হয়, শিক্ষক সমিতির দ্বার্থহীন ভাষায় বলতে চায়, ২০০৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত যে ৪জন উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হযেছিলেন, তাদের হাত দিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর প্রায় ৯০ শতাংশ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে উপাচার্য যে বিরুপ মন্তব্য করেছেন, এটি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যাচার এবং তার মনগড়া বক্তব্য। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার উপাচার্যের এহেন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জ্ঞাপন করছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উপাচার্যকে তার বক্তব্য শুধু প্রত্যাহার নয়, বরং বক্তব্যের সমর্থনে আগামী সাত দিনের মধ্যে অকাট্য তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানাচ্ছে। তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হলে শিক্ষক সমিতি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে এক দফা আন্দোলনের কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।