ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এমপি আনার খুন: রহস্যময় রূপে শীর্ষ দুই ব্যবসায়ী Logo রূপালী ব্যাংকের ডিজিএম কর্তৃক সহকর্মী নারীকে যৌন হয়রানি: ধামাচাপা দিতে মরিয়া তদন্ত কমিটি Logo প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা হাতিয়ে বহাল তবিয়তে মাদারীপুরের দুই সহকারী সমাজসেবা অফিসারl Logo যমুনা লাইফের গ্রাহক প্রতারণায় ‘জড়িতরা’ কে কোথায় Logo ঢাকাস্থ ভোলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আহসান কামরুল, সম্পাদক জিয়াউর রহমান Logo টাটা মটরস বাংলাদেশে উদ্বোধন করলো টাটা যোদ্ধা Logo আশা শিক্ষা কর্মসূচী কর্তৃক অভিভাবক মতবিনিময় সভা Logo গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলীর গাড়ি চাপায় পিষ্ট সহকারী প্রকৌশলী -উত্তাল গণপূর্ত Logo শাবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ Logo সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাহিনুরের সীমাহীন সম্পদ ও অনিয়ম -পর্ব-০১




শিক্ষার্থীদের ৫ টাকায় দুপুরের খাবার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০১৯ ৬৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী;
মাত্র ৫ টাকায় শিক্ষার্থীদের দুপুরে ডালভাত খাওয়ানোর ‘প্যাকেজ’ চালু করেছেন রাজশাহীর আড়ানীর একজন হোটেল ব্যবসায়ী। পাঁচ বছর ধরে পাঁচ টাকায় শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার খাওয়াচ্ছেন তিনি।

পাঁচ টাকার প্যাকেজের কথা জিজ্ঞেস করতেই হোটেল মালিক বিপ্লব সরকার বলেন, গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে আসে না। অনেকের বেশি টাকা দিয়ে হোটেলে দুপুরের খাবার কিনে খাওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। তারা স্কুলে এসে টিফিনের সময় আশপাশের দোকান থেকে মুখরোচক কিছু একটা কিনে খায়। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অথচ দুপুরে এক প্লেট ভাত খেতে পারলে তাদের শরীর ভালো থাকে। এই চিন্তা থেকেই পাঁচ বছর আগেই এই প্যাকেজ চালু করেছি আমি।

বিপ্লব সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের কয়েকটি শর্তে খেতে দেই আমি। হোটেলের এই প্যাকেজ খেতে হলে অবশ্যই স্কুল ড্রেস পরে আসতে হবে। আর খাবার আগে বা পরে বাইরের দোকানে অন্য কোনো মুখরোচক খাবার খাওয়া যাবে না। আমি দেখেছি বেশির ভাগ বাচ্চা এক প্লেটের বেশি ভাত খেতে পারে না। ভাতের সঙ্গে সবজি আর ডাল দিয়ে এই প্যাকেজটি চালু করেছি। খাবার সময় কোনো বাচ্চা যেন সবজি নষ্ট না করে সেটিও আমি দেখি।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শরীরের জন্য সবজির বড় প্রয়োজন। তাই তাদের সবজি খেতে বাধ্য করি। টমেটোর মৌসুমে টমেটোর সালাদ খেতে বাধ্য করি। এই প্যাকেজটির মূল্য পাঁচ টাকা। তবে পাশাপাশি খেতে বসে কোনো বাচ্চা যদি বেশি টাকা দিয়ে মুরগির মাংস খেতে চায়। তাহলে পাশের বাচ্চাটাকেও ছোট এক টুকরা মুরগির মাংস ও একটু ঝোল দেই। যাতে তার মন খারাপ না হয়। এসব আমি লক্ষ্য করি।

বিপ্লব সরকার বলেন, মনের আনন্দে এই কাজটি করছি আমি। সেবার মানসিকতা থেকে করছি। কারণ আমার এসএসসি পরীক্ষা দেয়া হয়নি। লেখাপড়া না করে কী ভুল করেছি এখন তা বুঝতে পারি। এজন্য যেসব শিশু লেখাপড়া শিখছে, তারা যেন শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে, সেজন্য সাধ্যের মধ্যে যতটুকু পারছি সহযোগিতা করছি তাদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




শিক্ষার্থীদের ৫ টাকায় দুপুরের খাবার

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী;
মাত্র ৫ টাকায় শিক্ষার্থীদের দুপুরে ডালভাত খাওয়ানোর ‘প্যাকেজ’ চালু করেছেন রাজশাহীর আড়ানীর একজন হোটেল ব্যবসায়ী। পাঁচ বছর ধরে পাঁচ টাকায় শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার খাওয়াচ্ছেন তিনি।

পাঁচ টাকার প্যাকেজের কথা জিজ্ঞেস করতেই হোটেল মালিক বিপ্লব সরকার বলেন, গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে আসে না। অনেকের বেশি টাকা দিয়ে হোটেলে দুপুরের খাবার কিনে খাওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। তারা স্কুলে এসে টিফিনের সময় আশপাশের দোকান থেকে মুখরোচক কিছু একটা কিনে খায়। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অথচ দুপুরে এক প্লেট ভাত খেতে পারলে তাদের শরীর ভালো থাকে। এই চিন্তা থেকেই পাঁচ বছর আগেই এই প্যাকেজ চালু করেছি আমি।

বিপ্লব সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের কয়েকটি শর্তে খেতে দেই আমি। হোটেলের এই প্যাকেজ খেতে হলে অবশ্যই স্কুল ড্রেস পরে আসতে হবে। আর খাবার আগে বা পরে বাইরের দোকানে অন্য কোনো মুখরোচক খাবার খাওয়া যাবে না। আমি দেখেছি বেশির ভাগ বাচ্চা এক প্লেটের বেশি ভাত খেতে পারে না। ভাতের সঙ্গে সবজি আর ডাল দিয়ে এই প্যাকেজটি চালু করেছি। খাবার সময় কোনো বাচ্চা যেন সবজি নষ্ট না করে সেটিও আমি দেখি।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শরীরের জন্য সবজির বড় প্রয়োজন। তাই তাদের সবজি খেতে বাধ্য করি। টমেটোর মৌসুমে টমেটোর সালাদ খেতে বাধ্য করি। এই প্যাকেজটির মূল্য পাঁচ টাকা। তবে পাশাপাশি খেতে বসে কোনো বাচ্চা যদি বেশি টাকা দিয়ে মুরগির মাংস খেতে চায়। তাহলে পাশের বাচ্চাটাকেও ছোট এক টুকরা মুরগির মাংস ও একটু ঝোল দেই। যাতে তার মন খারাপ না হয়। এসব আমি লক্ষ্য করি।

বিপ্লব সরকার বলেন, মনের আনন্দে এই কাজটি করছি আমি। সেবার মানসিকতা থেকে করছি। কারণ আমার এসএসসি পরীক্ষা দেয়া হয়নি। লেখাপড়া না করে কী ভুল করেছি এখন তা বুঝতে পারি। এজন্য যেসব শিশু লেখাপড়া শিখছে, তারা যেন শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে, সেজন্য সাধ্যের মধ্যে যতটুকু পারছি সহযোগিতা করছি তাদের।