ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এবার গ্র্যামির দৌড়ে ‘ধুরন্ধর ২’ Logo রিকশাচালক থেকে মুচি, ১ নভেম্বর থেকে সবাই বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবেন Logo প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত ও গ্রেপ্তার করতে হবে: আখতার হোসেন Logo ৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ Logo ককরোচ পার্টির কর্মসূচি : দিল্লিতে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ আটক ১০০০ Logo মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক: তারেক রহমান Logo মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo যাত্রাবাড়ীতে বাসে তল্লাশি, ৯ হাজার ই’য়া’বা’স’হ গ্রে’প্তা’র ২ Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল 

চীনে পড়ুয়া ইউনিভার্সিটির ছাত্র দেশে অবসরে বিক্রি করছেন ‘ঝালমুড়ি’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ২১৫ বার পড়া হয়েছে

জেলা সংবাদদাতা:
চীনের শিডিয়ান ভার্সিটির ছাত্র দেশে অবসরে বিক্রি করছেন ‘ঝালমুড়ি’ছবি: খুলনার বিখ্যাত ‘চুই মরিচের ঝালমুড়ি’ বিক্রি করছেন আবিদ রহমান
রাজশাহীর পদ্মাপাড়। সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে সুদর্শন এক যুবককে দেখা গেল ঝালমুড়ির ছোট্ট একটি দোকান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্যুট পরা। হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক। প্রথম দর্শনেই বোঝার উপায় নেই তিনি ক্রেতা না বিক্রেতা। কাছে গিয়ে জানা গেল, তিনি ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন।

সুদর্শন যুবকটির নাম আবিদ রহমান (২২)। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পড়াকালীন স্কলারশিপ পেয়ে চীনের শিডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। কিন্তু করোনার কারণে চীনে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। এ অবসরে নিজেকে ভিন্নধর্মী উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রাজশাহীর পদ্মা গার্ডেন এলাকায় স্যুটবুট পরেই বিক্রি করছেন খুলনার বিখ্যাত ‘চুই মরিচের ঝালমুড়ি’।

যশোরের অভয়নগরের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান আবিদ। পরিবারের প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত। বাবা আব্দুর রহিম মোল্লা প্রথম জীবনে শিক্ষকতা করলেও পরে পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী হয়েছেন। ১৯৭৮ সালে এসএসসি পাস করা মা সুফিয়া রহিম গৃহিণী। বড় ভাই জার্মানি থেকে এমএসসি করে হংকং সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। ভাবি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে লেখাপড়া শেষ করেছেন। মেজ ভাই স্নাতকোত্তর শেষ করে ‘নগদ’-এ চাকরি করেন।

আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সদস্য হয়েও ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন, এমনটা খুব বেশি দেখা যায় না। আলাপকালে আবিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘একজন উদ্যোক্তা হিসেবে ইউনিক কিছু করতে চেয়েছি। ইউনিক কিছুর মধ্যে অনেকে দেখছি মধু, ঘি, খেজুর গুড়, পোশাকসহ বিভিন্ন আইটেম নিয়ে কাজ করছেন। ভেবে দেখলাম, মানুষকে ভিন্নধর্মী জিনিসের স্বাদ দিতে হবে, তবেই সফল হওয়া যাবে। তখন এই ঝালমুড়ি বিক্রির কথা মাথায় আসে।

আবিদ বলেন, ‘ঝালমুড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে চিন্তা করে দেখলাম অনেকেই এটা বিক্রি করেন, তাহলে মানুষ কেন আমারটা কেন খাবেন? সেজন্যই ঝালমুড়িতে খুলনার বিখ্যাত চুইঝাল যোগ করি, যেটা সচরাচর রাজশাহীতে পাওয়া যায় না। এরপর গত ৬ অক্টোবর থেকে পদ্মা গার্ডেনে ঝালমুড়ি বিক্রি শুরু করি।

সাত হাজার টাকায় ঝালমুড়ি বিক্রি শুরু করেন আবিদ। বর্তমানে তার তিনজন সহকর্মী রয়েছেন। তারা মাসিক বেতনে কাজ করেন। তারাও স্নাতক পর্যায়ে লেখাপড়া করছেন। খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লাভ থাকে।

আবিদের ঝালমুড়ি ইতোমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনন্য স্বাদ আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নজর কাড়ে ক্রেতাদের। আবিদ বলেন, ‘ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। ঝালমুড়ির সেই পুরাতন স্বাদ নাকি মানুষের মধ্যে আবার ফিরে এসেছে। ক্রেতাদের মুখে এমন প্রশংসাসূচক কথা শুনলে নিজেকে আর ছোট মনে হয় না। সামনের দিকে ছুটে চলার অনুপ্রেরণা পাই।’

এই উদ্যোগকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চান আবিদ। রাজশাহী থেকে পথ চলা শুরু। তাই রাজশাহীতে আরও ১০টি শাখা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তার। এরমধ্যে ফ্রেব্রুয়ারিতেই চালু করবেন দুটি শাখা।

আবিদ বলেন, ‘স্বপ্ন দেখি দেশের ৬৪ জেলায় ও ৪৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ঝালমুড়ি দোকানের একটি করে শাখা রয়েছে। যেটা ‘আবিদ মুড়ি ঘর’ নামে পরিচিত হবে।’

বেকারদের উদ্দেশে এই তরুণ বলেন, ‘পৃথিবীতে কোনো কাজই ছোট নয়। আপনারা চাকরি না খুঁজে ব্যবসা করুন। এতে নিজে স্বাবলম্বী হবেন, অন্যকেও কাজের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারবেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

চীনে পড়ুয়া ইউনিভার্সিটির ছাত্র দেশে অবসরে বিক্রি করছেন ‘ঝালমুড়ি’

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২১

জেলা সংবাদদাতা:
চীনের শিডিয়ান ভার্সিটির ছাত্র দেশে অবসরে বিক্রি করছেন ‘ঝালমুড়ি’ছবি: খুলনার বিখ্যাত ‘চুই মরিচের ঝালমুড়ি’ বিক্রি করছেন আবিদ রহমান
রাজশাহীর পদ্মাপাড়। সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে সুদর্শন এক যুবককে দেখা গেল ঝালমুড়ির ছোট্ট একটি দোকান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্যুট পরা। হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক। প্রথম দর্শনেই বোঝার উপায় নেই তিনি ক্রেতা না বিক্রেতা। কাছে গিয়ে জানা গেল, তিনি ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন।

সুদর্শন যুবকটির নাম আবিদ রহমান (২২)। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পড়াকালীন স্কলারশিপ পেয়ে চীনের শিডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। কিন্তু করোনার কারণে চীনে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। এ অবসরে নিজেকে ভিন্নধর্মী উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রাজশাহীর পদ্মা গার্ডেন এলাকায় স্যুটবুট পরেই বিক্রি করছেন খুলনার বিখ্যাত ‘চুই মরিচের ঝালমুড়ি’।

যশোরের অভয়নগরের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান আবিদ। পরিবারের প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত। বাবা আব্দুর রহিম মোল্লা প্রথম জীবনে শিক্ষকতা করলেও পরে পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী হয়েছেন। ১৯৭৮ সালে এসএসসি পাস করা মা সুফিয়া রহিম গৃহিণী। বড় ভাই জার্মানি থেকে এমএসসি করে হংকং সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। ভাবি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে লেখাপড়া শেষ করেছেন। মেজ ভাই স্নাতকোত্তর শেষ করে ‘নগদ’-এ চাকরি করেন।

আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সদস্য হয়েও ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন, এমনটা খুব বেশি দেখা যায় না। আলাপকালে আবিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘একজন উদ্যোক্তা হিসেবে ইউনিক কিছু করতে চেয়েছি। ইউনিক কিছুর মধ্যে অনেকে দেখছি মধু, ঘি, খেজুর গুড়, পোশাকসহ বিভিন্ন আইটেম নিয়ে কাজ করছেন। ভেবে দেখলাম, মানুষকে ভিন্নধর্মী জিনিসের স্বাদ দিতে হবে, তবেই সফল হওয়া যাবে। তখন এই ঝালমুড়ি বিক্রির কথা মাথায় আসে।

আবিদ বলেন, ‘ঝালমুড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে চিন্তা করে দেখলাম অনেকেই এটা বিক্রি করেন, তাহলে মানুষ কেন আমারটা কেন খাবেন? সেজন্যই ঝালমুড়িতে খুলনার বিখ্যাত চুইঝাল যোগ করি, যেটা সচরাচর রাজশাহীতে পাওয়া যায় না। এরপর গত ৬ অক্টোবর থেকে পদ্মা গার্ডেনে ঝালমুড়ি বিক্রি শুরু করি।

সাত হাজার টাকায় ঝালমুড়ি বিক্রি শুরু করেন আবিদ। বর্তমানে তার তিনজন সহকর্মী রয়েছেন। তারা মাসিক বেতনে কাজ করেন। তারাও স্নাতক পর্যায়ে লেখাপড়া করছেন। খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লাভ থাকে।

আবিদের ঝালমুড়ি ইতোমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনন্য স্বাদ আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নজর কাড়ে ক্রেতাদের। আবিদ বলেন, ‘ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। ঝালমুড়ির সেই পুরাতন স্বাদ নাকি মানুষের মধ্যে আবার ফিরে এসেছে। ক্রেতাদের মুখে এমন প্রশংসাসূচক কথা শুনলে নিজেকে আর ছোট মনে হয় না। সামনের দিকে ছুটে চলার অনুপ্রেরণা পাই।’

এই উদ্যোগকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চান আবিদ। রাজশাহী থেকে পথ চলা শুরু। তাই রাজশাহীতে আরও ১০টি শাখা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তার। এরমধ্যে ফ্রেব্রুয়ারিতেই চালু করবেন দুটি শাখা।

আবিদ বলেন, ‘স্বপ্ন দেখি দেশের ৬৪ জেলায় ও ৪৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ঝালমুড়ি দোকানের একটি করে শাখা রয়েছে। যেটা ‘আবিদ মুড়ি ঘর’ নামে পরিচিত হবে।’

বেকারদের উদ্দেশে এই তরুণ বলেন, ‘পৃথিবীতে কোনো কাজই ছোট নয়। আপনারা চাকরি না খুঁজে ব্যবসা করুন। এতে নিজে স্বাবলম্বী হবেন, অন্যকেও কাজের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারবেন।’