ঢাকা ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

চাঁদপুরের এক বাড়িতে ৬৩০ পরিবারের বসবাস!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১ ২০৬ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক:

একটি বাড়ি একটি গ্রাম একটি ওয়ার্ড! চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ২নং নায়েরগাঁও ইউয়িনের মেহারন দালাল বাড়ি। যেখানে বর্তমানে বসবাস করছেন সাত হাজার মানুষ। এ বাড়িতে বর্তমানে তৃতীয় প্রজন্ম বসবাস করছে।বাড়িটিতে রয়েছে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, বাজার, দোকানপাঠ। বাড়িটি নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বাড়িটির নামকরণ ইতিহাস সম্পর্কে বাড়িতে বসবাসরত বয়োজ্যেষ্ঠরা তেমন কিছু জানেন না। শুধু জানেন একসময় এখানে জমিদার বংশের লোক বসবাস করত। তাদের আশ্রয়ে সৃষ্টি হয় বাড়িটি। জমিদারদের দো’তলা দুটি ভবন এখনও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাড়িটিতে। একটি ভবনের নাম দ্বারকাপুরি ও অপরটির নাম আম্বিকা ভবন। ভবনগুলো যথাক্রমে নির্মাণ করা হয় ১৩৩৫ ও ১৩৪৪ বঙ্গাব্দে। জমিদারদের বংশধর দীপক দালালের মা বলেন দেড়’শ বছর আগে দ্বারিকানাথ দালাল, ও তার আত্মীয়-স্বজন পশ্চিম বঙ্গ থেকে এখানে আসেন। এখানে তারা দীর্ঘদিন ব্যবসা বাণিজ্য করেন। এখন আর জমিদারি নেই। ব্যবসা-বাণিজ্যও নেই। মাছ ধরাই এদেও প্রধানতম পেশা। এ বাড়ির ভোটেই নির্বাচিত হয় সদস্য ও চেয়ারম্যান নির্বাচনে হয়ে দাঁড়ায় বড় ফেক্টর।

এই বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফসলি জমি বা বিল। ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি বিলের মাঝখানে অবস্থিত বাড়িটি। কাছাকাছি নেই অন্য কোন বসতি। বর্ষায় বাড়ির চারপাশ পানিতে টইটুম্বুর থাকে। এই বাড়িতে যাওয়ার জন্য পূর্বে নৌকা ছিলো একমাত্র বাহন। এখন কাজিয়ারা বাজার থেকে একটি আধা পাঁকা রাস্তা আছে বাড়িতে যাওয়ার জন্য। নায়েরগাঁও বাজার থেকে পায়ে হেঁটে, রিকশা কিংবা অটো বাইকেও যাওয়া যায়। বাড়িতে প্রবেশের জন্য পূর্ব ও উত্তর দিক দিয়ে রয়েছে দু’টি মাটির রাস্তা । সব ঠিকঠাক থাকলেও রাস্তা ও বিশুদ্ধ পানি এবং পয়নিস্কাসনে পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। তারপরেও বাড়ির লোকজনের দাবি তারা ভালো আছে।

বাড়িতে চলাচলের রাস্তা খুব সরু। একটি ঘরের সাথে আরেকটি ঘর। মনে হবে কোন এক বস্তি । বাড়ির বাচ্চাদের পড়াশোনার জন্য রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যেখানে বাড়ির ৬০ ভাগ শিশু পড়াশোনা করে। উপাসনার জন্য বাড়িতে রয়েছে ৮টি মন্দির। এছাড়াও ১টি স্বর্ণের দোকান, ৪টি সেলুন, ২টি ফার্নিচারের দোকান, ১টি মোবাইল সরঞ্জাম ক্রয়-বিক্রয়ের দোকান রয়েছে বাড়িটিতে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানালেন, বাড়িতে সব কিছুই আছে। শুধু প্রয়োজন আমাদের একটি রাস্তা ও একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক। এ বিষয়ে খবর নিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানালেন জেলা প্রশাসনের এ কর্মকর্ত্।া
সট- মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) চাঁদপুর।

এ বাড়ির সবাই ধর্মের অনুসারী হলে পূজা পার্বণে, আনন্দ উৎসবে, দুঃখ কষ্টে সবাই একসাথে থাকে ধর্মীয় উৎসবে মুসিলমরাও এসে উপভোগ করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

চাঁদপুরের এক বাড়িতে ৬৩০ পরিবারের বসবাস!

আপডেট সময় : ১০:৫৭:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১

অনলাইন ডেস্ক:

একটি বাড়ি একটি গ্রাম একটি ওয়ার্ড! চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ২নং নায়েরগাঁও ইউয়িনের মেহারন দালাল বাড়ি। যেখানে বর্তমানে বসবাস করছেন সাত হাজার মানুষ। এ বাড়িতে বর্তমানে তৃতীয় প্রজন্ম বসবাস করছে।বাড়িটিতে রয়েছে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, বাজার, দোকানপাঠ। বাড়িটি নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বাড়িটির নামকরণ ইতিহাস সম্পর্কে বাড়িতে বসবাসরত বয়োজ্যেষ্ঠরা তেমন কিছু জানেন না। শুধু জানেন একসময় এখানে জমিদার বংশের লোক বসবাস করত। তাদের আশ্রয়ে সৃষ্টি হয় বাড়িটি। জমিদারদের দো’তলা দুটি ভবন এখনও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাড়িটিতে। একটি ভবনের নাম দ্বারকাপুরি ও অপরটির নাম আম্বিকা ভবন। ভবনগুলো যথাক্রমে নির্মাণ করা হয় ১৩৩৫ ও ১৩৪৪ বঙ্গাব্দে। জমিদারদের বংশধর দীপক দালালের মা বলেন দেড়’শ বছর আগে দ্বারিকানাথ দালাল, ও তার আত্মীয়-স্বজন পশ্চিম বঙ্গ থেকে এখানে আসেন। এখানে তারা দীর্ঘদিন ব্যবসা বাণিজ্য করেন। এখন আর জমিদারি নেই। ব্যবসা-বাণিজ্যও নেই। মাছ ধরাই এদেও প্রধানতম পেশা। এ বাড়ির ভোটেই নির্বাচিত হয় সদস্য ও চেয়ারম্যান নির্বাচনে হয়ে দাঁড়ায় বড় ফেক্টর।

এই বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফসলি জমি বা বিল। ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি বিলের মাঝখানে অবস্থিত বাড়িটি। কাছাকাছি নেই অন্য কোন বসতি। বর্ষায় বাড়ির চারপাশ পানিতে টইটুম্বুর থাকে। এই বাড়িতে যাওয়ার জন্য পূর্বে নৌকা ছিলো একমাত্র বাহন। এখন কাজিয়ারা বাজার থেকে একটি আধা পাঁকা রাস্তা আছে বাড়িতে যাওয়ার জন্য। নায়েরগাঁও বাজার থেকে পায়ে হেঁটে, রিকশা কিংবা অটো বাইকেও যাওয়া যায়। বাড়িতে প্রবেশের জন্য পূর্ব ও উত্তর দিক দিয়ে রয়েছে দু’টি মাটির রাস্তা । সব ঠিকঠাক থাকলেও রাস্তা ও বিশুদ্ধ পানি এবং পয়নিস্কাসনে পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। তারপরেও বাড়ির লোকজনের দাবি তারা ভালো আছে।

বাড়িতে চলাচলের রাস্তা খুব সরু। একটি ঘরের সাথে আরেকটি ঘর। মনে হবে কোন এক বস্তি । বাড়ির বাচ্চাদের পড়াশোনার জন্য রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যেখানে বাড়ির ৬০ ভাগ শিশু পড়াশোনা করে। উপাসনার জন্য বাড়িতে রয়েছে ৮টি মন্দির। এছাড়াও ১টি স্বর্ণের দোকান, ৪টি সেলুন, ২টি ফার্নিচারের দোকান, ১টি মোবাইল সরঞ্জাম ক্রয়-বিক্রয়ের দোকান রয়েছে বাড়িটিতে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানালেন, বাড়িতে সব কিছুই আছে। শুধু প্রয়োজন আমাদের একটি রাস্তা ও একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক। এ বিষয়ে খবর নিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানালেন জেলা প্রশাসনের এ কর্মকর্ত্।া
সট- মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) চাঁদপুর।

এ বাড়ির সবাই ধর্মের অনুসারী হলে পূজা পার্বণে, আনন্দ উৎসবে, দুঃখ কষ্টে সবাই একসাথে থাকে ধর্মীয় উৎসবে মুসিলমরাও এসে উপভোগ করে।