ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নিষিদ্ধ সংগঠনের ‘পুনর্গঠন’ বার্তা: ছাত্রলীগের নোটিশ ঘিরে প্রশ্ন ও শঙ্কা Logo দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নলীগ লুট করে আগষ্টিন শত কোটি টাকার মালিক Logo জিয়া শিশুকিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক হলেন হাফিজুর রহমান শফিক Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা  Logo ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজ ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক Logo প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তা আতিকুর পাহাড়সমান অভিযোগ নিয়েও বহাল Logo বদলি-বাণিজ্য ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন সিন্ডিকেট Logo রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ  Logo প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য Logo নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি নিয়ন্ত্রণ, বাজেট অপচয় ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

ত্রাণের স্লিপ বিক্রি করলো স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২০ ১৯৭ বার পড়া হয়েছে

সৈয়দপুর প্রতিনিধি; করোনা ভাইরাসের প্রকোপে কর্মহীন হয়ে পড়া ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য দেয়া সরকারী ত্রাণের স্লিপ বিতরনে অর্থ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আজম আলী সরকারের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার(১৭ এপ্রিল/২০২০) বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়লে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি দ্বিগুন টাকা ফেরত দিবেন বলে জানায়।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে সরকারী ত্রাণ বিতরণ করা হয় গত মঙ্গলবার(১৪ এপ্রিল/২০২০)। ওই ত্রাণের প্রায় ২৫টি স্লিপ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড খালিশা মিলের পাড় এলাকায় বিতরণ করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি ও হাজারীহাট মোহাম্মদীয়া দাখিল মাদরাসার জীব বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক আজম আলী সরকার। এই ত্রাণের স্লিপ দেওয়ার জন্য তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে আদায় করেন একশ টাকা করে। এতে ২৭ জন নারী-পুরুষ আজম আলীকে টাকা প্রদান করেন। কিন্তু স্লিপ দেওয়ার সময় ২৫টি স্লিপ বিতরণ করলেও অবশিষ্ট দুইজনের স্লিপ বা টাকা কিছুই দেওয়া হয়নি। এরা হলেন আতিউরের স্ত্রী মমতা ও আশরাফের স্ত্রী রোজি।
এছাড়া টাকা না দেওয়ায় স্লিপ দেইনি বলে অভিযোগ করেছেন আলমের স্ত্রী শিল্পী। তিনি বলেন, আজম বলেছে যে টাকা দিবে সে স্লিপ পাবে। ত্রাণ নিতে হলে টাকা দিয়েই স্লিপ নিতে হবে।
ওই এলাকার টাকা দিয়ে স্লিপ নিয়ে ত্রাণ পাওয়া মানুষগুলোর মধ্যে জিকরুলের ছেলে জিল্লুর, রশিদুলের স্ত্রী সাইতি, আমিনুলের স্ত্রী শাহানা, কাল্টিয়ার স্ত্রী হোসনে আরা, বাচ্চুর স্ত্রী মিনুসহ আরও অনেকে অভিযোগ করেন যে, আজম আলী ১০ কেজি করে ত্রাণ দিবে বলে একশ টাকা করে নিয়ে আমাদের স্লিপ দিয়েছে। স্লিপ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে তারা চাল উত্তোলন করেছেন। তবে সকলেরই অভিযোগ ১০ কেজির স্থলে ৯ কেজি করে চাল পেয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে খাতামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, আমার মেম্বার বা গ্রাম পুলিশের কেউ স্লিপ দিয়ে টাকা নেয়নি। তবে কে বা কারা স্লিপ বিক্রি করেছে তা আমার জানা নেই। তাহলে কি করে স্লিপ কিনে নেওয়া ব্যাক্তিরা আপনার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ত্রাণ পেলো এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডের উল্লেখিত মানুষগুলো আমার পরিষদ থেকে চাল নিয়েছেন। কিন্তু কে তাদের স্লিপ দিয়েছে তা আমার জানা নেই।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আজম আলী সরকার জানান, তেলের খরচ হিসেবে কিছু টাকা নিয়েছি। তবে তা মাত্র ১৫টি স্লিপ বাবদ। আপনারা বললে তাদের টাকা দ্বিগুন হারে ফেরত দিবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ত্রাণের স্লিপ বিক্রি করলো স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি!

আপডেট সময় : ০৮:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২০

সৈয়দপুর প্রতিনিধি; করোনা ভাইরাসের প্রকোপে কর্মহীন হয়ে পড়া ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য দেয়া সরকারী ত্রাণের স্লিপ বিতরনে অর্থ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আজম আলী সরকারের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার(১৭ এপ্রিল/২০২০) বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়লে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি দ্বিগুন টাকা ফেরত দিবেন বলে জানায়।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে সরকারী ত্রাণ বিতরণ করা হয় গত মঙ্গলবার(১৪ এপ্রিল/২০২০)। ওই ত্রাণের প্রায় ২৫টি স্লিপ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড খালিশা মিলের পাড় এলাকায় বিতরণ করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি ও হাজারীহাট মোহাম্মদীয়া দাখিল মাদরাসার জীব বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক আজম আলী সরকার। এই ত্রাণের স্লিপ দেওয়ার জন্য তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে আদায় করেন একশ টাকা করে। এতে ২৭ জন নারী-পুরুষ আজম আলীকে টাকা প্রদান করেন। কিন্তু স্লিপ দেওয়ার সময় ২৫টি স্লিপ বিতরণ করলেও অবশিষ্ট দুইজনের স্লিপ বা টাকা কিছুই দেওয়া হয়নি। এরা হলেন আতিউরের স্ত্রী মমতা ও আশরাফের স্ত্রী রোজি।
এছাড়া টাকা না দেওয়ায় স্লিপ দেইনি বলে অভিযোগ করেছেন আলমের স্ত্রী শিল্পী। তিনি বলেন, আজম বলেছে যে টাকা দিবে সে স্লিপ পাবে। ত্রাণ নিতে হলে টাকা দিয়েই স্লিপ নিতে হবে।
ওই এলাকার টাকা দিয়ে স্লিপ নিয়ে ত্রাণ পাওয়া মানুষগুলোর মধ্যে জিকরুলের ছেলে জিল্লুর, রশিদুলের স্ত্রী সাইতি, আমিনুলের স্ত্রী শাহানা, কাল্টিয়ার স্ত্রী হোসনে আরা, বাচ্চুর স্ত্রী মিনুসহ আরও অনেকে অভিযোগ করেন যে, আজম আলী ১০ কেজি করে ত্রাণ দিবে বলে একশ টাকা করে নিয়ে আমাদের স্লিপ দিয়েছে। স্লিপ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে তারা চাল উত্তোলন করেছেন। তবে সকলেরই অভিযোগ ১০ কেজির স্থলে ৯ কেজি করে চাল পেয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে খাতামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, আমার মেম্বার বা গ্রাম পুলিশের কেউ স্লিপ দিয়ে টাকা নেয়নি। তবে কে বা কারা স্লিপ বিক্রি করেছে তা আমার জানা নেই। তাহলে কি করে স্লিপ কিনে নেওয়া ব্যাক্তিরা আপনার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ত্রাণ পেলো এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডের উল্লেখিত মানুষগুলো আমার পরিষদ থেকে চাল নিয়েছেন। কিন্তু কে তাদের স্লিপ দিয়েছে তা আমার জানা নেই।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আজম আলী সরকার জানান, তেলের খরচ হিসেবে কিছু টাকা নিয়েছি। তবে তা মাত্র ১৫টি স্লিপ বাবদ। আপনারা বললে তাদের টাকা দ্বিগুন হারে ফেরত দিবো।