ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ




ইউনিফর্ম পরে না আসায় ছাত্রের চোখ ফাটিয়ে দিলেন অধ্যক্ষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় ইউনিফর্ম পরে না আসায় ওমর ফারুক (১৮) নামে দ্বাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রকে পিটিয়ে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তী।

সোমবার বেলাবো হোসেন আলী কলেজে এ ঘটনা ঘটে। আহত কলেজছাত্র বেলাব উপজেলার বাজনাব গ্রামের সৈয়দ বেনু মিয়ার ছেলে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত কলেজছাত্র ওমর ফারুক বলেন, কলেজের ইউনিফর্মের মধ্যে শুধু প্যান্ট না পরার কারণে কলেজ মাঠ থেকে অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তী আমাকে ডেকে নেন। অধ্যক্ষের কাছে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য শিক্ষার্থীর সামনে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। এতে আমি বাম চোখে আঘাত পাই। পরে আমাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে সহপাঠীরা।

ফারুকের সহপাঠী রিপন বলেন, কোনো অপরাধের জন্য আমাদের শাসন করতেই পারেন অধ্যক্ষ। কিন্তু তিনি কলেজের শত শত ছাত্র-ছাত্রীর সামনে ফারুককে যেভাবে মারপিট করে বাম চোখ ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন আমরা এর বিচার চাই। অধ্যক্ষ কর্তৃক শিক্ষার্থীর ওপর মারপিটের প্রতিবাদে ও তাকে প্রত্যাহারের দাবিতে আমরা মানববন্ধন করেছি। সেই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিচারের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

আহত শিক্ষার্থীর বাবা সৈয়দ বেনু মিয়া বলেন, আমি গরিব মানুষ। রিকশা চালিয়ে ছেলেকে লেখাপড়া করাচ্ছি। অপরাধ করলে স্যার শাসন করবেন। কিন্তু এভাবে কিল-ঘুষি মারতে পারেন না তিনি। অধ্যক্ষের ঘুষিতে আমার ছেলের একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জানি না কি হয়।

বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) পান্না আক্তার বলেন, শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বাম চোখে একটু আঘাত পেয়েছে। তবে আঘাতটি গুরুতর নয়। চিকিৎসা দিলে সুস্থ হয়ে যাবে সে।

জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা শরমিন বলেন, হোসেন আলী কলেজের শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছি। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তীকে কলেজে না পেয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও রিসিভ করেননি এবং একসময় মোবাইলটি বন্ধ করে দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




ইউনিফর্ম পরে না আসায় ছাত্রের চোখ ফাটিয়ে দিলেন অধ্যক্ষ

আপডেট সময় : ১০:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় ইউনিফর্ম পরে না আসায় ওমর ফারুক (১৮) নামে দ্বাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রকে পিটিয়ে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তী।

সোমবার বেলাবো হোসেন আলী কলেজে এ ঘটনা ঘটে। আহত কলেজছাত্র বেলাব উপজেলার বাজনাব গ্রামের সৈয়দ বেনু মিয়ার ছেলে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত কলেজছাত্র ওমর ফারুক বলেন, কলেজের ইউনিফর্মের মধ্যে শুধু প্যান্ট না পরার কারণে কলেজ মাঠ থেকে অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তী আমাকে ডেকে নেন। অধ্যক্ষের কাছে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য শিক্ষার্থীর সামনে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। এতে আমি বাম চোখে আঘাত পাই। পরে আমাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে সহপাঠীরা।

ফারুকের সহপাঠী রিপন বলেন, কোনো অপরাধের জন্য আমাদের শাসন করতেই পারেন অধ্যক্ষ। কিন্তু তিনি কলেজের শত শত ছাত্র-ছাত্রীর সামনে ফারুককে যেভাবে মারপিট করে বাম চোখ ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন আমরা এর বিচার চাই। অধ্যক্ষ কর্তৃক শিক্ষার্থীর ওপর মারপিটের প্রতিবাদে ও তাকে প্রত্যাহারের দাবিতে আমরা মানববন্ধন করেছি। সেই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিচারের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

আহত শিক্ষার্থীর বাবা সৈয়দ বেনু মিয়া বলেন, আমি গরিব মানুষ। রিকশা চালিয়ে ছেলেকে লেখাপড়া করাচ্ছি। অপরাধ করলে স্যার শাসন করবেন। কিন্তু এভাবে কিল-ঘুষি মারতে পারেন না তিনি। অধ্যক্ষের ঘুষিতে আমার ছেলের একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জানি না কি হয়।

বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) পান্না আক্তার বলেন, শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বাম চোখে একটু আঘাত পেয়েছে। তবে আঘাতটি গুরুতর নয়। চিকিৎসা দিলে সুস্থ হয়ে যাবে সে।

জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা শরমিন বলেন, হোসেন আলী কলেজের শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছি। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তীকে কলেজে না পেয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও রিসিভ করেননি এবং একসময় মোবাইলটি বন্ধ করে দেন।