ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লালপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতার Logo মোহনা টিভি দখলের অপচেষ্টা: মিরপুরে উত্তেজনা, থানায় জিডি Logo মোহনা টিভির ১৪ হাজার টাকার কর্মচারী শত কোটি টাকার মালিক: বর্তমানে ‘স্বঘোষিত’ সিইও তসলিম আওয়ামী এজেন্ট  Logo বন বিভাগে পদোন্নতি জট ও কর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ: আদালতের হস্তক্ষেপে নতুন করে উত্তেজনা Logo জেল থেকে ফিরেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রকৌশলী জুয়েল রানা Logo থাইল্যান্ডের চিকিৎসা নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশে সেবা সম্প্রসারণে আগ্রহ ব্যাংককের বিএনএইচ হাসপাতালের Logo প্রধান প্রকৌশলীর বদলির আদেশ অমান্য, ঢাকাতেই বহাল ফ্যাসিস্টের দোসর উপসহকারী আব্দুল্লাহ-আল-মামুন Logo কক্সবাজারের রাজাঘাট রেঞ্জে বন ধ্বংসের মহোৎসব, অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে উজাড়ের শঙ্কা Logo উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাস্টাররোল কর্মচারীর সম্পদের পাহাড় Logo ভোলার সাবেক এসপি শরীফের বিরুদ্ধে কল্যাণ ফান্ডের দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

জিন তাড়ানোর নামে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯ ২৩০ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি;
টাঙ্গাইলের সখীপুরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় রুহুল আমিন (৩৫) নামে এক মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (১৩জুন) উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক সপ্তাহ পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বড়কা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তাকে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার ওই ছাত্রীর মা সখীপুর থানায় মুয়াজ্জিন রুহুল আমিনকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন। গ্রেফতার রুহুল আমিন গত এক বছর যাবৎ সখীপুর উপজেলার কুতুবপুর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন পদে চাকরি করছিলেন। ওই ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন রুহুল আমিন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, দুইদিন ওই ছাত্রীর বাড়িতে এসে সবার সামনেই মাথায় ঝাড়-ফুঁক করেন মুয়াজ্জিন রুহুল আমিন। তৃতীয় দিন গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বাড়িতে এসে ওই ছাত্রীর মাকে বলেন ওকে জিনে ধরেছে। জিন ছাড়াতে বাটিতে সরিষার তেল নিয়ে মুয়াজ্জিন ওই ছাত্রীকে একা একটা ঘরে নিয়ে যান। তার অনুমতি ছাড়া ওই ঘরে সবার জন্য প্রবেশ নিষেধ করে দেয়া হয়। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর চোখে সরিষার তেল লাগিয়ে কাপড়-চোপড় খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে চিৎকার করে। এ সময় ঘরের বাইরে থাকা লোকজন ওই ছাত্রীর চিৎকার শুনে ঘরে ঢুকে মুয়াজ্জিনকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে এলাকার মাতব্বররা সালিশি বৈঠক করে মুয়াজ্জিন রুহুল আমিনকে এলাকা ছাড়া করেন।

মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম বলেন, মুয়াজ্জিনকে চাকরি দেয়ার সময় তার ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা নেয়া হয়নি। তবে তার দেয়া তথ্যে জানা গেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় তার বাড়ি। এ ছাড়া আমাদের কাছে তার পূর্ণ কোনো ঠিকানা নেই।

সখীপুর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির জানান, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার মুয়াজ্জিন রুহুল আমিনকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

জিন তাড়ানোর নামে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ!

আপডেট সময় : ০৮:৫১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯

জেলা প্রতিনিধি;
টাঙ্গাইলের সখীপুরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় রুহুল আমিন (৩৫) নামে এক মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (১৩জুন) উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক সপ্তাহ পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বড়কা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তাকে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার ওই ছাত্রীর মা সখীপুর থানায় মুয়াজ্জিন রুহুল আমিনকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন। গ্রেফতার রুহুল আমিন গত এক বছর যাবৎ সখীপুর উপজেলার কুতুবপুর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন পদে চাকরি করছিলেন। ওই ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন রুহুল আমিন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, দুইদিন ওই ছাত্রীর বাড়িতে এসে সবার সামনেই মাথায় ঝাড়-ফুঁক করেন মুয়াজ্জিন রুহুল আমিন। তৃতীয় দিন গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বাড়িতে এসে ওই ছাত্রীর মাকে বলেন ওকে জিনে ধরেছে। জিন ছাড়াতে বাটিতে সরিষার তেল নিয়ে মুয়াজ্জিন ওই ছাত্রীকে একা একটা ঘরে নিয়ে যান। তার অনুমতি ছাড়া ওই ঘরে সবার জন্য প্রবেশ নিষেধ করে দেয়া হয়। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর চোখে সরিষার তেল লাগিয়ে কাপড়-চোপড় খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে চিৎকার করে। এ সময় ঘরের বাইরে থাকা লোকজন ওই ছাত্রীর চিৎকার শুনে ঘরে ঢুকে মুয়াজ্জিনকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে এলাকার মাতব্বররা সালিশি বৈঠক করে মুয়াজ্জিন রুহুল আমিনকে এলাকা ছাড়া করেন।

মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম বলেন, মুয়াজ্জিনকে চাকরি দেয়ার সময় তার ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা নেয়া হয়নি। তবে তার দেয়া তথ্যে জানা গেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় তার বাড়ি। এ ছাড়া আমাদের কাছে তার পূর্ণ কোনো ঠিকানা নেই।

সখীপুর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির জানান, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার মুয়াজ্জিন রুহুল আমিনকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।