• ১৭ই এপ্রিল ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বিএনপির ইশতেহারে তরুণ প্রজন্ম ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় পরিবর্তন!

songbad18
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১০, ২০১৮, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
বিএনপির ইশতেহারে তরুণ প্রজন্ম ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় পরিবর্তন!

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলীয় প্রতীক (ছবি : সংগৃহীত)

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার করছে সরকার বিরোধী বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তাদের ইশতেহারে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কোটা সংস্কার, ভ্যাটমুক্ত শিক্ষা ও নিরাপদ সড়কের ব্যবস্থা। থাকছে বেকারদের জন্য বেকার ভাতা। এছাড়া প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্বের ক্ষমতায়নসহ প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ এমন বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এ দিকে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট সমন্বয় করে ইশতেহার করলেও আলাদাভাবে না একটি ইশতেহারই ঘোষণা করবে তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

বিএনপির নীতিনির্ধারক এবং ঐক্যফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। খালেদা জিয়ার ঘোষণা করা ভিশন-২০৩০ ভিত্তি করে এ ইশতেহার তৈরি হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ইশতেহার উঠবে।

সেখানে অনুমোদনের পর তা ঘোষণা করা হবে। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে ইশতেহার তৈরির কাজ চলছে। ঐক্যফ্রন্ট ইতোমধ্যে তাদের ইশতেহার তৈরির কাজ শেষ করেছে। তবে বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট আলাদাভাবে না একটি ইশতেহার দেবে, সে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারের কাজ এগিয়ে চলছে। ১৭ নভেম্বর এই ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

জানা গেছে, খসড়া অনুযায়ী এবার ইশতেহারের মূল স্লোগান হবে ‘এগিয়ে যাব একসাথে, ভোট দেব ধানের শীষে’। প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ-জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে সরকার পরিচালনার অঙ্গীকার এটাই হবে ইশতেহারের মূলনীতি।

বিএনপির আরও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বন্ধ করা হবে না। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকলে তদন্ত করে বিচার হবে। ক্ষমতায় গেলে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে স্থায়ী নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে নির্বাচনকালীন সরকারের একটি বিধান তৈরি করে মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বিএনপি।

এছাড়া তরুণদের আকৃষ্ট করতে শিক্ষায় কোনো ভ্যাট রাখবে না এ জোট। সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতিতে সংস্কার আসবে। নিরাপদ সড়কের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

ইশতেহার তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলেন, বাস্তবায়নযোগ্য এমন অঙ্গীকারই তারা ইশতেহারে রাখতে চাইছেন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি থেকে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, গণফোরামের আ ও ম শফিক উল্লাহ, জেএসডির মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ইকবাল সিদ্দিকী এবং নাগরিক ঐক্যের ডা. জাহেদ উর রহমান এই খসড়া তৈরি করেন।

এ বিষয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ঐক্যফ্রন্টের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। খুব শিগগিরই তা অনুমোদনের জন্য ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটিতে পাঠানো হবে। মাহফুজ উল্লাহ বলেন, কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে যা করা দরকার তা-ই থাকছে ইশতেহারে।

খসড়া ইশতেহারের শুরুতে যা আছে : ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির তৈরি করা খসড়ায় প্রথমেই প্রতিশ্রুতি আছে নির্বাচনে জিতে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট রাষ্ট্রের সব নাগরিকের কল্যাণে সরকার পরিচালনা করবে। এই পরিচালনার মূলনীতি হবে ঐকমত্য, সবার অন্তর্ভুক্তি এবং যে কোনো রকম প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত থাকা। ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’ সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বর্ণিত এই নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে নির্বাচনে পরাজিতদের মতামত এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।

তবে রাষ্ট্র নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জিতলে পরবর্তী সময়ে সেটা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

খসড়া ইশতেহারে বলা হয়েছে নিরাপদ জীবনের অধিকারের সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবারিত রাখার লক্ষ্যে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করা হবে। সরকারি পদক্ষেপ এবং সরকারের পদধারীদের বিরুদ্ধে সমালোচনা, এমনকি ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের অধিকার থাকবে। সামাজিক গণমাধ্যমসহ সব গণমাধ্যমের ওপর কোনো রকম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুম পুরোপুরি বন্ধ হবে। রিমান্ডের নামে পুলিশি হেফাজতে যে কোনো প্রকার শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে। সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। মামলাজট কমানোর নানা পদক্ষেপের স্বার্থে উচ্চ আদালতের বার্ষিক ছুটি ছয় সপ্তাহে সীমিত করা হবে।

মানসম্মত কর্মমুখী শিক্ষার সঙ্গে তরুণসহ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে খসড়ায় বলা হয়েছে পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কোনো বয়সসীমা থাকবে না। সরকারি চাকরিতে শুধু অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা ছাড়া আর কোনো কোটা থাকবে না। ত্রিশোর্ধ্ব শিক্ষিত বেকারের জন্য বেকার ভাতা চালু করা হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে সব সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।

ওয়ার্ক পারমিটবিহীন অবৈধ সব বিদেশি নাগরিকের এ দেশে চাকরি করা বন্ধ করা হবে। পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হবে। সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা হবে। প্রথম বছর থেকেই ডাকসুসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। বেসরকারি শিক্ষা পুরোপুরি ভ্যাটমুক্ত থাকবে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষা দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থান করা হবে। কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের জন্য কমিশন গঠন করা হবে।

ক্ষমতার ভারসাম্য ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ : খসড়ায় উল্লেখ আছে ক্ষমতার ভারসাম্য ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করে গণতন্ত্রকে দেওয়া হবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। নিম্ন আদালতকে পুরোপুরি সুপ্রিমকোর্টের অধীন করা হবে। সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুধু অনাস্থা ভোট এবং অর্থবিল ছাড়া অন্য যে কোনো ক্ষেত্রে দলীয় সংসদ সদস্যরা দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলেও তাদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে না এমন সংশোধনী ৭০ অনুচ্ছেদে আনা হবে।

জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ সৃষ্টি করে বিভিন্ন দলের প্রাপ্য সদস্য সংখ্যা নির্ধারণে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্য ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। বিভাগীয় সদরে হাইকোর্টের বেঞ্চ থাকবে। পৌর এলাকাগুলোতে সব সেবা সংস্থাকে মেয়রের অধীনে রেখে সিটি গভর্নমেন্ট চালু করা হবে। জনকল্যাণে প্রশাসনিক কাঠামো প্রাদেশিক পর্যায়ে বিন্যস্ত করার লক্ষ্যে কমিশন গঠন করা হবে।