‘৬ বছরে ৮৬৫০ কোটি লুটপাট : সওজে নতুন করে সক্রিয় সেই ‘ডন’ রায়হান মুস্তাফিজ!’
- আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২০২ বার পড়া হয়েছে

‘৬ বছরে ৮৬৫০ কোটি লুটপাট : সওজে নতুন করে সক্রিয় সেই ‘ডন’ রায়হান মুস্তাফিজ!’
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরে স্বল্প সময়েই ‘ডন’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া রায়হান মুস্তাফিজ আবারও আলোচনায়। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার জোরে বিপুল অঙ্কের কাজ বাগিয়ে নেওয়া এই ঠিকাদার চক্র এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং নতুন প্রকল্পও দখলে নিচ্ছে।
সূত্র জানায়, রায়হানের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল সাবেক চিফ হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটনের সঙ্গে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়েই তিনি সওজে প্রভাব বিস্তার করেন। লিটনের ভায়রা হিসেবে পরিচিত রায়হান দ্রুতই ঠিকাদারি জগতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন এবং একপর্যায়ে ‘মাফিয়া চক্রের’ অন্যতম হোতা হয়ে ওঠেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে যুক্ত করেন শেখ রেহানার ছেলে ববি সিদ্দিকীকে এবং পেছন থেকে প্রভাবশালী সমর্থন পান তারেক সিদ্দিকীর কাছ থেকে। এর ফলে সড়কসহ গণপূর্তের বড় বড় প্রকল্পে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।
মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে রায়হানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই)’ একক ও যৌথভাবে প্রায় ৮ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেয়, যা মোট কাজের প্রায় ১০ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব কাজ পেতে টেন্ডার জালিয়াতি, প্রভাব খাটানো এবং রাজস্ব ফাঁকির মতো নানা অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছেও তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
এমনকি একটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, সড়ক খাতে সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য গড়ে ওঠার পেছনে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল। সেখানে এনডিইকে ‘বিস্ময়কর উত্থান’-এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়েও বিতর্ক থামেনি। জানা গেছে, ‘Construction of Coastal Road from Shugondha Point to Hotel Sayman’ প্রকল্পের প্রায় ৬৫ কোটি টাকার কাজও পেয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটির পরিধি ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
প্রশ্ন উঠেছে, এত অভিযোগ ও বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একই প্রতিষ্ঠান বারবার বড় প্রকল্প পাচ্ছে? বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট হোটেল ও প্রকল্পের সঙ্গে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর সংযোগ নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সড়ক খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রভাবমুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের উন্নয়নে যোগ্য ও সৎ প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতে না পারলে একই চক্রের আধিপত্য চলতেই থাকবে।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।












