ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

শতভাগ জিপিএ-৫-এর নেপথ্যে চরম ছাঁটাই নীতি: নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুলকে ঘিরে বিতর্ক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক: নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮২ জন শিক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এই ফল চমকপ্রদ ও গৌরবজনক মনে হলেও, এর নেপথ্যে উঠে এসেছে এক নির্মম ছাঁটাই নীতির ভীতিপ্রদ অভিযোগ। বিদ্যালয়ের শতভাগ পাসের রেকর্ড ও বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডিং ধরে রাখতে প্রাক-নির্বাচনী ও টেস্ট পরীক্ষার নামে অন্তত পাঁচ শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত বোর্ড পরীক্ষায় বসার পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক ও ক্ষুব্ধ নাগরিকরা।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির দশম শ্রেণিতে ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় প্রায় ৯০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির একমাত্র লক্ষ্য ছিল শিক্ষা বোর্ডে নিজেদের ১০০% জিপিএ-৫ পাওয়ার ধারাবাহিকতা ও দেশসেরা ব্র্যান্ডিংয়ের সুখ্যাতি অক্ষুণ্ন রাখা। সেই কৃত্রিম সুনাম বজায় রাখতেই বাছাই প্রক্রিয়ার নামে চরম ছাঁটাই নীতি প্রয়োগ করা হয়। শেষ পর্যন্ত যাদের জিপিএ-৫ পাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা ছিল, কেবল সেই ৩৮২ জন শিক্ষার্থীকেই চূড়ান্ত ফরম পূরণের অনুমতি দেওয়া হয়। বাকি পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে নির্বাচনী পরীক্ষায় আটকে দিয়ে তাদের শিক্ষাজীবন থেকে একটি পুরো বছর নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি অভিভাবকদের।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষাঙ্গন ও সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, সাধারণ নিয়মে যেসব শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ে, তাদের বিশেষ পরিচর্যা ও অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে প্রস্তুত করাই একটি দায়িত্বশীল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ। কিন্তু দুর্বলদের টেনে তোলার পরিবর্তে পরীক্ষা থেকেই ছাঁটাই করে দেওয়া মূলত শিক্ষার্থীদের মেধা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এক ধরনের চরম অবিচার। একটি সম্পূর্ণ ব্যাচের সবারই জিপিএ-৫ পাওয়া এবং জিপিএ-৪ বা ৩ পাওয়ার মতো একজন শিক্ষার্থীও না থাকাটা স্বাভাবিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের বদলে বাণিজ্যিক কৌশলকেই নির্দেশ করে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলার ঘটনায় চরম হতাশ অভিভাবকরা শিক্ষাবোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। মেধা বিকাশের বদলে প্রাক-নির্বাচনী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে ভুয়া সুনাম অর্জনের এই বিতর্কিত কৌশল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

শতভাগ জিপিএ-৫-এর নেপথ্যে চরম ছাঁটাই নীতি: নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুলকে ঘিরে বিতর্ক

আপডেট সময় : ১০:০৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক: নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮২ জন শিক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এই ফল চমকপ্রদ ও গৌরবজনক মনে হলেও, এর নেপথ্যে উঠে এসেছে এক নির্মম ছাঁটাই নীতির ভীতিপ্রদ অভিযোগ। বিদ্যালয়ের শতভাগ পাসের রেকর্ড ও বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডিং ধরে রাখতে প্রাক-নির্বাচনী ও টেস্ট পরীক্ষার নামে অন্তত পাঁচ শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত বোর্ড পরীক্ষায় বসার পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক ও ক্ষুব্ধ নাগরিকরা।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির দশম শ্রেণিতে ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় প্রায় ৯০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির একমাত্র লক্ষ্য ছিল শিক্ষা বোর্ডে নিজেদের ১০০% জিপিএ-৫ পাওয়ার ধারাবাহিকতা ও দেশসেরা ব্র্যান্ডিংয়ের সুখ্যাতি অক্ষুণ্ন রাখা। সেই কৃত্রিম সুনাম বজায় রাখতেই বাছাই প্রক্রিয়ার নামে চরম ছাঁটাই নীতি প্রয়োগ করা হয়। শেষ পর্যন্ত যাদের জিপিএ-৫ পাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা ছিল, কেবল সেই ৩৮২ জন শিক্ষার্থীকেই চূড়ান্ত ফরম পূরণের অনুমতি দেওয়া হয়। বাকি পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে নির্বাচনী পরীক্ষায় আটকে দিয়ে তাদের শিক্ষাজীবন থেকে একটি পুরো বছর নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি অভিভাবকদের।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষাঙ্গন ও সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, সাধারণ নিয়মে যেসব শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ে, তাদের বিশেষ পরিচর্যা ও অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে প্রস্তুত করাই একটি দায়িত্বশীল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ। কিন্তু দুর্বলদের টেনে তোলার পরিবর্তে পরীক্ষা থেকেই ছাঁটাই করে দেওয়া মূলত শিক্ষার্থীদের মেধা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এক ধরনের চরম অবিচার। একটি সম্পূর্ণ ব্যাচের সবারই জিপিএ-৫ পাওয়া এবং জিপিএ-৪ বা ৩ পাওয়ার মতো একজন শিক্ষার্থীও না থাকাটা স্বাভাবিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের বদলে বাণিজ্যিক কৌশলকেই নির্দেশ করে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলার ঘটনায় চরম হতাশ অভিভাবকরা শিক্ষাবোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। মেধা বিকাশের বদলে প্রাক-নির্বাচনী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে ভুয়া সুনাম অর্জনের এই বিতর্কিত কৌশল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।