ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জোরালো আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত: প্রধানমন্ত্রী Logo জ্বালানি ও বিনিয়োগ সহযোগিতায় গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের Logo মাথাপিছু জিডিপিতে এ বছর ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ: আইএমএফ Logo মোটরসাইকেলের চেইন পরিষ্কার ও লুব করার সঠিক নিয়ম Logo নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম পর্বের ৪০ খেলোয়াড় বিকেএসপিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে ভর্তির সুযোগ Logo তেহরানে বৈঠকে বসছে মক্কা প্যাক্ট ও ইরান Logo নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে, রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার আশা Logo লগি-বৈঠার আঘাতে নিহতদের স্মরণ করলেন বিরোধীদলীয় নেতা

উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাস্টাররোল কর্মচারীর সম্পদের পাহাড়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২৭৩ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদ: রাজধানীর মিরপুর পশ্চিম শেওড়াপাড়া এলাকার একটি বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট, দোকান ও নিজ গ্রাম কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী তে দৃষ্টিনন্দন বাড়িসহ নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় কে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এক মাস্টাররোল কর্মচারীর আয়-সম্পদের উৎস নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাজের বাজার শাখায় মাস্টাররোলে দৈনিক হাজিরার কর্মী বলে জানা গেছে।

জানা যায়, মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়া ১৪৬ নং হোল্ডিংয়ের জমির মালিক জাহাঙ্গীর ইসলাম ভূঁইয়া প্রায় ২৫ বছর আগে নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে জমিটি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে অর্থের সংকটের কারণে তিনি “এলিট প্যারাডাইস” নামের একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সাথে ভবন নির্মাণের চুক্তি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই ভবনের তৃতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট এবং একই সড়কে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান করার নামে ওই কর্মচারীর দখলে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফ্ল্যাটটির বর্তমান মূল্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকার বেশি এবং দোকানটির মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকার আশেপাশে। তবে এই সম্পত্তি তার নিজ এলাকার বাজার মূল্যের সাথে মেলানো সম্ভব হয়নি।

একজন মাস্টাররোল কর্মচারীর পক্ষে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত সম্পদ কিভাবে অর্জন সম্ভব—এ নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। এ বিষয়ে ওই কর্মচারীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে প্রতিবেশীদের দাবি, স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি এসব সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন এবং এর পেছনে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা রয়েছে।

এ বিষয়ে “এলিট প্যারাডাইস”-এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপরদিকে, সংশ্লিষ্ট একজন প্রকৌশলী বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জমির মালিক জাহাঙ্গীর ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেও বিস্মিত এবং যথাযথ তদন্ত দাবি করেছেন।

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, পূর্ববর্তী সময়ে সিটি কর্পোরেশনে চাকরির সুবাদে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ পায়নি।

মিরপুর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার এই ঘটনায় একজন স্বল্প আয়ের কর্মচারীর বিপুল সম্পদ অর্জন নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখন জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সহায়ক হতে পারে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাস্টাররোল কর্মচারীর সম্পদের পাহাড়

আপডেট সময় : ১২:২৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সকালের সংবাদ: রাজধানীর মিরপুর পশ্চিম শেওড়াপাড়া এলাকার একটি বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট, দোকান ও নিজ গ্রাম কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী তে দৃষ্টিনন্দন বাড়িসহ নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় কে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এক মাস্টাররোল কর্মচারীর আয়-সম্পদের উৎস নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাজের বাজার শাখায় মাস্টাররোলে দৈনিক হাজিরার কর্মী বলে জানা গেছে।

জানা যায়, মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়া ১৪৬ নং হোল্ডিংয়ের জমির মালিক জাহাঙ্গীর ইসলাম ভূঁইয়া প্রায় ২৫ বছর আগে নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে জমিটি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে অর্থের সংকটের কারণে তিনি “এলিট প্যারাডাইস” নামের একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সাথে ভবন নির্মাণের চুক্তি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই ভবনের তৃতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট এবং একই সড়কে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান করার নামে ওই কর্মচারীর দখলে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফ্ল্যাটটির বর্তমান মূল্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকার বেশি এবং দোকানটির মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকার আশেপাশে। তবে এই সম্পত্তি তার নিজ এলাকার বাজার মূল্যের সাথে মেলানো সম্ভব হয়নি।

একজন মাস্টাররোল কর্মচারীর পক্ষে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত সম্পদ কিভাবে অর্জন সম্ভব—এ নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। এ বিষয়ে ওই কর্মচারীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে প্রতিবেশীদের দাবি, স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি এসব সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন এবং এর পেছনে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা রয়েছে।

এ বিষয়ে “এলিট প্যারাডাইস”-এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপরদিকে, সংশ্লিষ্ট একজন প্রকৌশলী বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জমির মালিক জাহাঙ্গীর ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেও বিস্মিত এবং যথাযথ তদন্ত দাবি করেছেন।

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, পূর্ববর্তী সময়ে সিটি কর্পোরেশনে চাকরির সুবাদে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ পায়নি।

মিরপুর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার এই ঘটনায় একজন স্বল্প আয়ের কর্মচারীর বিপুল সম্পদ অর্জন নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখন জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সহায়ক হতে পারে।