ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কক্সবাজারের রাজাঘাট রেঞ্জে বন ধ্বংসের মহোৎসব, অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে উজাড়ের শঙ্কা Logo উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাস্টাররোল কর্মচারীর সম্পদের পাহাড় Logo ভোলার সাবেক এসপি শরীফের বিরুদ্ধে কল্যাণ ফান্ডের দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ Logo বেইলি রোড ট্র্যাজেডি: ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা Logo ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারে ১৮ দিনে বাড়লো ৬০০ টাকা Logo বেইলি রোড ট্র্যাজেডি: ৪৬ প্রাণহানির মামলায় বিতর্কিত প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের নাম বাদে চাঞ্চল্য Logo ১৭ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত হয়েছে: সংস্কারের আশ্বাস ইশরাকের Logo চট্টগ্রাম রেলের জমি দখলে ‘অসাধু সিন্ডিকেট’: রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, লিজ নিয়েও জমি পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠান Logo নিষিদ্ধ সংগঠনের ‘পুনর্গঠন’ বার্তা: ছাত্রলীগের নোটিশ ঘিরে প্রশ্ন ও শঙ্কা Logo দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নলীগ লুট করে আগষ্টিন শত কোটি টাকার মালিক

উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাস্টাররোল কর্মচারীর সম্পদের পাহাড়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদ: রাজধানীর মিরপুর পশ্চিম শেওড়াপাড়া এলাকার একটি বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট, দোকান ও নিজ গ্রাম কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী তে দৃষ্টিনন্দন বাড়িসহ নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় কে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এক মাস্টাররোল কর্মচারীর আয়-সম্পদের উৎস নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাজের বাজার শাখায় মাস্টাররোলে দৈনিক হাজিরার কর্মী বলে জানা গেছে।

জানা যায়, মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়া ১৪৬ নং হোল্ডিংয়ের জমির মালিক জাহাঙ্গীর ইসলাম ভূঁইয়া প্রায় ২৫ বছর আগে নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে জমিটি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে অর্থের সংকটের কারণে তিনি “এলিট প্যারাডাইস” নামের একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সাথে ভবন নির্মাণের চুক্তি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই ভবনের তৃতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট এবং একই সড়কে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান করার নামে ওই কর্মচারীর দখলে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফ্ল্যাটটির বর্তমান মূল্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকার বেশি এবং দোকানটির মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকার আশেপাশে। তবে এই সম্পত্তি তার নিজ এলাকার বাজার মূল্যের সাথে মেলানো সম্ভব হয়নি।

একজন মাস্টাররোল কর্মচারীর পক্ষে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত সম্পদ কিভাবে অর্জন সম্ভব—এ নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। এ বিষয়ে ওই কর্মচারীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে প্রতিবেশীদের দাবি, স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি এসব সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন এবং এর পেছনে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা রয়েছে।

এ বিষয়ে “এলিট প্যারাডাইস”-এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপরদিকে, সংশ্লিষ্ট একজন প্রকৌশলী বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জমির মালিক জাহাঙ্গীর ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেও বিস্মিত এবং যথাযথ তদন্ত দাবি করেছেন।

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, পূর্ববর্তী সময়ে সিটি কর্পোরেশনে চাকরির সুবাদে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ পায়নি।

মিরপুর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার এই ঘটনায় একজন স্বল্প আয়ের কর্মচারীর বিপুল সম্পদ অর্জন নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখন জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সহায়ক হতে পারে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাস্টাররোল কর্মচারীর সম্পদের পাহাড়

আপডেট সময় : ১২:২৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সকালের সংবাদ: রাজধানীর মিরপুর পশ্চিম শেওড়াপাড়া এলাকার একটি বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট, দোকান ও নিজ গ্রাম কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী তে দৃষ্টিনন্দন বাড়িসহ নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় কে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এক মাস্টাররোল কর্মচারীর আয়-সম্পদের উৎস নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাজের বাজার শাখায় মাস্টাররোলে দৈনিক হাজিরার কর্মী বলে জানা গেছে।

জানা যায়, মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়া ১৪৬ নং হোল্ডিংয়ের জমির মালিক জাহাঙ্গীর ইসলাম ভূঁইয়া প্রায় ২৫ বছর আগে নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে জমিটি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে অর্থের সংকটের কারণে তিনি “এলিট প্যারাডাইস” নামের একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সাথে ভবন নির্মাণের চুক্তি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই ভবনের তৃতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট এবং একই সড়কে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান করার নামে ওই কর্মচারীর দখলে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফ্ল্যাটটির বর্তমান মূল্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকার বেশি এবং দোকানটির মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকার আশেপাশে। তবে এই সম্পত্তি তার নিজ এলাকার বাজার মূল্যের সাথে মেলানো সম্ভব হয়নি।

একজন মাস্টাররোল কর্মচারীর পক্ষে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত সম্পদ কিভাবে অর্জন সম্ভব—এ নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। এ বিষয়ে ওই কর্মচারীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে প্রতিবেশীদের দাবি, স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি এসব সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন এবং এর পেছনে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা রয়েছে।

এ বিষয়ে “এলিট প্যারাডাইস”-এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপরদিকে, সংশ্লিষ্ট একজন প্রকৌশলী বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জমির মালিক জাহাঙ্গীর ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেও বিস্মিত এবং যথাযথ তদন্ত দাবি করেছেন।

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, পূর্ববর্তী সময়ে সিটি কর্পোরেশনে চাকরির সুবাদে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ পায়নি।

মিরপুর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার এই ঘটনায় একজন স্বল্প আয়ের কর্মচারীর বিপুল সম্পদ অর্জন নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখন জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সহায়ক হতে পারে।