চট্টগ্রাম রেলের জমি দখলে ‘অসাধু সিন্ডিকেট’: রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, লিজ নিয়েও জমি পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠান
- আপডেট সময় : ০৫:৪১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রামের এস আর ভি স্টেশন ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধ দখল, চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ। পরিত্যক্ত রেল জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী চক্র বছরের পর বছর ধরে সরকারকে বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্টেশনটিতে নিয়মিত ট্রেন চলাচল না থাকায় এলাকাটি ধীরে ধীরে অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। গত ১৭-১৮ বছর ধরে রেলের পর্যাপ্ত জনবল না থাকাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে একটি চক্র রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন জাহাজ থেকে আনা চোরাই যন্ত্রাংশ ও তেল ড্রামে করে এনে এখানে খালাস করে এবং বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ করছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই কর্মকাণ্ডে কিছু রেল নিরাপত্তা কর্মীর যোগসাজশও রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সিআরবি’র সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সিপাহী মো. হাসানসহ টিটু ও সিকান্দার নামে কয়েকজন সরাসরি এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত।
স্টেশনের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী পংকজ দেবনাথ বলেন, “আমরা মাত্র দু’জন নিরাপত্তা কর্মী দায়িত্ব পালন করি। অবৈধ দখল ও অপরাধের প্রতিবাদ করলে আমাদের গালিগালাজ করা হয়, এমনকি শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
এদিকে, সরকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ‘উৎস ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৪৫০০ বর্গফুট জমি অস্থায়ীভাবে গুদাম নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়। নতুন রাজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী (প্রতি বর্গফুট ২৫০ টাকা হারে) প্রতিষ্ঠানটি অগ্রিম এক বছরের রাজস্বসহ প্রায় ২৮ লাখ টাকা পরিশোধ করে।
তবে অভিযোগ, জমি বুঝে পাওয়ার আগেই দখলদার চক্র প্রতিষ্ঠানটির সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে এবং মালামাল লুট করে নেয়।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক এস এম মুসাব্বির বলেন, “আমি বৈধভাবে জমি নিয়ে সরকারের রাজস্ব পরিশোধ করেছি। কিন্তু এখনো জমি বুঝে পাইনি। উল্টো বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য। এমনকি সাইমুন নামে একজন আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে।”
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে জমিটি দখল করে রেখেছে এবং এখনো সেটি ছাড়তে রাজি নয়। ফলে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
অন্যদিকে, রেল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, জমিটি দীর্ঘদিন বেদখলে থাকায় নিয়ম মেনে রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে অস্থায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে প্রকৃত লিজগ্রহীতাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে রেলের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার পক্ষ থেকে গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ৩০ মার্চের মধ্যে জমি খালি করার নির্দেশনা রয়েছে।
তবে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। অভিযোগ উঠেছে, সাইমুন গ্রুপ নামে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ছাড়াই জমি ভোগ করে আসছে এবং বর্তমানে রেল কর্মকর্তা ও বৈধ লিজগ্রহীতাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে রেলের জমি দখলমুক্ত করা না হলে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে এবং সরকার রাজস্ব হারাতে থাকবে।
















