ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বন্ড সুবিধার আড়ালে শত কোটি টাকার কারসাজি, নাটের গুরু কমিশনার আবু ওবায়দা Logo লঞ্চ থেকে মেঘনায় লাফ দেওয়া যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার, প্রশংসায় নৌ পুলিশের তৎপরতা Logo স্থানীয় কৃষকদের থেকে ভাড়ায় জমি নিয়ে সাইন বোর্ড: প্লট বানিজ্যের নামে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী কর্তৃপক্ষ’র প্রতারণা Logo “নৌ-খাতের সিমুলেটর বাণিজ্যের লুটেরা সিন্ডিকেট সাব্বির মাদানি” Logo গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ত্রাসের রাজত্ব! নকল নবীশ মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি ও দূর্নীতির অভিযোগ Logo ‘শিশু হাসপাতালে উপ-পরিচালক নেছার উদ্দীন সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও লুটপাট’ Logo গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও টেন্ডার কারসাজি Logo মাঠের ত্যাগী না অভিজ্ঞ নেতা: রাজধানীর বিএনপিতে কোন পথে যাচ্ছে নেতৃত্ব? Logo অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে ডিসিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ দেয়নি: রাষ্ট্রপতি Logo পথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি

রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১২৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) রাজধানী ঢাকার পরিকল্পিত নগরায়ন ও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সংস্থার কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এর ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে রাজউকের জোন-৪ এর পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়াকে ঘিরে নানা অভিযোগ এখন আলোচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভিন্ন অভিযোগে জানা যায়, জাকারিয়ার দায়িত্বাধীন জোনাল অফিসগুলোতে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। মিরপুর, গুলশান, বনানী ও উত্তরা মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো তার প্রশাসনিক আওতায় থাকায় এসব জায়গায় আর্থিক লেনদেনের সুযোগ বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন ছাড়া কাজ এগোয় না।

এছাড়া রাজউকের ইমারত পরিদর্শকদের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সূত্র মতে, কোনো নতুন ভবনের কাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শকরা গিয়ে বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরে ভবন মালিকদের জোন অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। অভিযোগ আছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ প্রদান না করলে ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়া বা আইনি জটিলতার ভয় দেখানো হয়।

২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি এক ঘটনায় রাজউকের এক ইমারত পরিদর্শকের বিরুদ্ধে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পরিচালকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যোগ্যতার মানদণ্ড উপেক্ষা করে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কিছু ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, ভবন মালিকদের বিভিন্ন অজুহাতে নোটিশ দিয়ে হয়রানি করা হয় এবং পরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন দুর্ঘটনার পর তদারকি বাড়ানোর নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তার বিলাসবহুল জীবনযাপনের পেছনে অবৈধ আয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

এ বিষয়ে জানতে পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ 

আপডেট সময় : ০৩:৫১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) রাজধানী ঢাকার পরিকল্পিত নগরায়ন ও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সংস্থার কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এর ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে রাজউকের জোন-৪ এর পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়াকে ঘিরে নানা অভিযোগ এখন আলোচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভিন্ন অভিযোগে জানা যায়, জাকারিয়ার দায়িত্বাধীন জোনাল অফিসগুলোতে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। মিরপুর, গুলশান, বনানী ও উত্তরা মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো তার প্রশাসনিক আওতায় থাকায় এসব জায়গায় আর্থিক লেনদেনের সুযোগ বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন ছাড়া কাজ এগোয় না।

এছাড়া রাজউকের ইমারত পরিদর্শকদের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সূত্র মতে, কোনো নতুন ভবনের কাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শকরা গিয়ে বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরে ভবন মালিকদের জোন অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। অভিযোগ আছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ প্রদান না করলে ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়া বা আইনি জটিলতার ভয় দেখানো হয়।

২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি এক ঘটনায় রাজউকের এক ইমারত পরিদর্শকের বিরুদ্ধে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পরিচালকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যোগ্যতার মানদণ্ড উপেক্ষা করে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কিছু ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, ভবন মালিকদের বিভিন্ন অজুহাতে নোটিশ দিয়ে হয়রানি করা হয় এবং পরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন দুর্ঘটনার পর তদারকি বাড়ানোর নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তার বিলাসবহুল জীবনযাপনের পেছনে অবৈধ আয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

এ বিষয়ে জানতে পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।