ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ‘৬ বছরে ৮৬৫০ কোটি লুটপাট : সওজে নতুন করে সক্রিয় সেই ‘ডন’ রায়হান মুস্তাফিজ!’ Logo ৮০ কোটির জালিয়াতি: শিল্পগোষ্ঠীকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে বৃষ্টি–মেসবাহ দম্পতি লাপাত্তা  Logo রাজউকের কানুনগো আব্দুল মোমিন: দুর্নীতি ও প্লট বাণিজ্যের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক  Logo রূপগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ‘খারা মোশাররফ বাহিনীর হামলা: ১৮ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুট Logo কেরানীগঞ্জে কারখানায় আগুনে মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা, একজন কারাগারে Logo যাত্রীদের কল্যাণের নামে নিজে টাকার পাহাড় গড়েছেন মোজাম্মেল Logo “২৮ শিশুমৃত্যু সহ ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ—তবুও পদে বহাল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের শফিকুল-নাঈম!” Logo পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হামলা, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযোগে দুইজন আহত Logo রাজ এগ্রোর তরমুজ বীজে মাঠ কাঁপাচ্ছে কৃষক: উচ্চ ফলনে নতুন সম্ভাবনা Logo ত্রাণের বিস্কুট ও জ্বালানি তেল চুরিতে অভিযুক্ত মিজানুর এখন ফায়ার সার্ভিসের দণ্ডমুন্ডের কর্তা! পর্ব -১

বদলি আদেশ মানছে না বিসিআইসির পরিচালক রাজ্জাক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৭:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি; বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন-বিসিআইসি’র পরিচালক (অর্থ) যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকের বদলীর আদেশ গত ৫ মার্চ জনস্বার্থে জারি করা হলেও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় যোগদান করছেন না। বিসিআইসিতে যোগদানের পর থেকে ভ্রমণ ভাতা আত্মসাতের উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে বিসিআইসির সকল কারখানায় ভ্রমণ করেছেন।

গত ৫ মার্চ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের পরিচালক (অর্থ) যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকের বদলীর আদেশ জারি করা হয়। এছাড়াও তিনি নিজ গরজে ভ্রমণ ভাতা কুক্ষিগত করতে বিসিআইসির সারাদেশে অবস্থিত কলকারখানায় ভ্রমণ সঙ্গী হিসেবে নিজকে যুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে এই পদে থেকে তার মত কোন পরিচালক ভ্রমণ করেননি। যার ফলে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছেন তিনি। বিসিআইসির ইতিহাসে এমন ভ্রমণ পিপাসু কর্মকর্তা এর আগে কখনো আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটি অনেক কর্মকর্তা। এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে সুচারু ভাবে তদন্ত করলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।

এদিকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি এবং স্ট্যান্ড রিলিজের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করা একটা সংস্কৃতিতে পরিনত হয়ে উঠছে। বড় বড় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জুনিয়র কর্মকর্তারাও এ গুলো করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বিসিআইসির কর্মকর্তাদের বদলী করা হলে নতুন কর্মস্থালে যোগদান করতে চান না বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সাবেক সচিব আবু আলম শহিদ খান বলেন, প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই বদলি এবং স্ট্যান্ড রিলিজের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটছে। আর সমন্বয় এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল না থাকায় এমনটা হচ্ছে।

বদলি আদেশ অনুযায়ী, বিসিআইসির পরিচালক (অর্থ) যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘একসেলেরেটিং ট্রান্সপোর্ট এন্ড ট্রেড কানেক্টিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া বাংলাদেশ ফেইজ,১ (বিএলপিএ কম্পোনেন্ট)’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়। বর্ণিত এই কর্মকর্তাকে ১২ মার্চের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে আদেশ জারি করা হয়। অন্যথায় ১২ মার্চ অপরাহ্ণ হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (Stand Released) হবেন। কিন্তু যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মিত বিসিআইসিতে অফিস করছেন।

জানা যায়, জনস্বার্থে বদলি করা হলেও প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাই তা অমান্য করছেন। কিছুতেই তাঁরা বদলি আদেশ মানছেন না। এ কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদেরকে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে। তার পরও তাঁরা আইনবহির্ভূতভাবে আগের কর্মস্থলেই রয়েছেন। আবার অনেক কর্মকর্তাকে তদবির করে বদলি আদেশই বাতিল করিয়েছেন। প্রশাসনে শূন্য পদে বদলি করা হলেও বেশিরভাগ কর্মকর্তাই পছন্দের কর্মস্থলে থাকতে আগ্রহ দেখান। ফলে বদলি করা পদগুলো দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় সরকারি সেবা ও কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

বদলি আদেশ মানছে না বিসিআইসির পরিচালক রাজ্জাক

আপডেট সময় : ০২:৩৭:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি; বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন-বিসিআইসি’র পরিচালক (অর্থ) যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকের বদলীর আদেশ গত ৫ মার্চ জনস্বার্থে জারি করা হলেও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় যোগদান করছেন না। বিসিআইসিতে যোগদানের পর থেকে ভ্রমণ ভাতা আত্মসাতের উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে বিসিআইসির সকল কারখানায় ভ্রমণ করেছেন।

গত ৫ মার্চ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের পরিচালক (অর্থ) যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকের বদলীর আদেশ জারি করা হয়। এছাড়াও তিনি নিজ গরজে ভ্রমণ ভাতা কুক্ষিগত করতে বিসিআইসির সারাদেশে অবস্থিত কলকারখানায় ভ্রমণ সঙ্গী হিসেবে নিজকে যুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে এই পদে থেকে তার মত কোন পরিচালক ভ্রমণ করেননি। যার ফলে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছেন তিনি। বিসিআইসির ইতিহাসে এমন ভ্রমণ পিপাসু কর্মকর্তা এর আগে কখনো আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটি অনেক কর্মকর্তা। এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে সুচারু ভাবে তদন্ত করলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।

এদিকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি এবং স্ট্যান্ড রিলিজের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করা একটা সংস্কৃতিতে পরিনত হয়ে উঠছে। বড় বড় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জুনিয়র কর্মকর্তারাও এ গুলো করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বিসিআইসির কর্মকর্তাদের বদলী করা হলে নতুন কর্মস্থালে যোগদান করতে চান না বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সাবেক সচিব আবু আলম শহিদ খান বলেন, প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই বদলি এবং স্ট্যান্ড রিলিজের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটছে। আর সমন্বয় এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল না থাকায় এমনটা হচ্ছে।

বদলি আদেশ অনুযায়ী, বিসিআইসির পরিচালক (অর্থ) যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘একসেলেরেটিং ট্রান্সপোর্ট এন্ড ট্রেড কানেক্টিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া বাংলাদেশ ফেইজ,১ (বিএলপিএ কম্পোনেন্ট)’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়। বর্ণিত এই কর্মকর্তাকে ১২ মার্চের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে আদেশ জারি করা হয়। অন্যথায় ১২ মার্চ অপরাহ্ণ হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (Stand Released) হবেন। কিন্তু যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মিত বিসিআইসিতে অফিস করছেন।

জানা যায়, জনস্বার্থে বদলি করা হলেও প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাই তা অমান্য করছেন। কিছুতেই তাঁরা বদলি আদেশ মানছেন না। এ কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদেরকে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে। তার পরও তাঁরা আইনবহির্ভূতভাবে আগের কর্মস্থলেই রয়েছেন। আবার অনেক কর্মকর্তাকে তদবির করে বদলি আদেশই বাতিল করিয়েছেন। প্রশাসনে শূন্য পদে বদলি করা হলেও বেশিরভাগ কর্মকর্তাই পছন্দের কর্মস্থলে থাকতে আগ্রহ দেখান। ফলে বদলি করা পদগুলো দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় সরকারি সেবা ও কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।