ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজ ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৩০৪ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি: ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জন, রাজস্ব ফাঁকি এবং জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার থেকে জেলা রেজিস্ট্রার পদে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকাকালে তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সরকারের প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে নুর নেওয়াজ বিভিন্ন অনিয়মকে আড়াল করেছেন। তার বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতি, ভুয়া লাইসেন্স প্রদান, নকল নবিস নিয়োগ এবং ভুয়া কাজী নিয়োগসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলিলের খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিকৃত করে জাল দলিল তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমনকি রাসায়নিক ব্যবহার করে পুরনো দলিলের লেখা মুছে নতুন তথ্য সংযোজনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন এবং সরকারকে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তার এই কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জালিয়াতির মাধ্যমে জমির মালিকানা পরিবর্তন করে ভুয়া নামজারি ও জমা খারিজ করার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার।

সম্পদের হিসাব ঘেঁটে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলায় তার নামে-বেনামে রয়েছে প্রায় দুই হাজার শতক জমি, চারটি ফ্ল্যাট, একটি রাইস মিল এবং একটি দুইতলা বাড়ি। এছাড়া একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি ও ব্যাংকে কোটি টাকার সঞ্চয়পত্রের তথ্যও পাওয়া গেছে।

জামালপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তিনি এসব সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে। ময়মনসিংহ শহরের মোহাম্মদ আলী রোডে তার ও তার স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে স্ত্রীর নামে একটি রাইস মিল প্রতিষ্ঠার তথ্যও মিলেছে।

২০০৪ সালে পিএসসি কোটায় সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন নুর নেওয়াজ। এরপর দীর্ঘ সময় একই পেশায় থেকে তিনি অবৈধ উপায়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, তার বিরুদ্ধে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে এবং আদালতেও মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তার প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে কেউ সহজে মুখ খুলতে সাহস পান না। অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে কথা বললে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।

এ পরিস্থিতিতে ভোলার সচেতন মহল দ্রুত তার অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজ ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক

আপডেট সময় : ১১:৪১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি: ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জন, রাজস্ব ফাঁকি এবং জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার থেকে জেলা রেজিস্ট্রার পদে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকাকালে তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সরকারের প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে নুর নেওয়াজ বিভিন্ন অনিয়মকে আড়াল করেছেন। তার বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতি, ভুয়া লাইসেন্স প্রদান, নকল নবিস নিয়োগ এবং ভুয়া কাজী নিয়োগসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলিলের খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিকৃত করে জাল দলিল তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমনকি রাসায়নিক ব্যবহার করে পুরনো দলিলের লেখা মুছে নতুন তথ্য সংযোজনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন এবং সরকারকে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তার এই কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জালিয়াতির মাধ্যমে জমির মালিকানা পরিবর্তন করে ভুয়া নামজারি ও জমা খারিজ করার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার।

সম্পদের হিসাব ঘেঁটে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলায় তার নামে-বেনামে রয়েছে প্রায় দুই হাজার শতক জমি, চারটি ফ্ল্যাট, একটি রাইস মিল এবং একটি দুইতলা বাড়ি। এছাড়া একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি ও ব্যাংকে কোটি টাকার সঞ্চয়পত্রের তথ্যও পাওয়া গেছে।

জামালপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তিনি এসব সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে। ময়মনসিংহ শহরের মোহাম্মদ আলী রোডে তার ও তার স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে স্ত্রীর নামে একটি রাইস মিল প্রতিষ্ঠার তথ্যও মিলেছে।

২০০৪ সালে পিএসসি কোটায় সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন নুর নেওয়াজ। এরপর দীর্ঘ সময় একই পেশায় থেকে তিনি অবৈধ উপায়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, তার বিরুদ্ধে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে এবং আদালতেও মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তার প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে কেউ সহজে মুখ খুলতে সাহস পান না। অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে কথা বললে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।

এ পরিস্থিতিতে ভোলার সচেতন মহল দ্রুত তার অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।