ঢাকা ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তা আতিকুর পাহাড়সমান অভিযোগ নিয়েও বহাল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৩৭৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ আতিকুর রহমানকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম ও আচরণগত বিতর্কের অভিযোগ সামনে এসেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব—এমন একাধিক অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত শুরুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তার কিছু কর্মকাণ্ড কর্মপরিবেশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে অধিকাংশই প্রকাশ্যে কথা বলতে অনিচ্ছুক।

নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ
কিছু কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি নির্দিষ্ট কয়েকজনের ক্ষেত্রে এসব সম্পর্ক দাপ্তরিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ব্যক্তিগত সহকারী ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, ঘনিষ্ঠ একজনকে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ব্যবহার করে নানা দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের সফরেও ওই সহকারীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ
অধিদপ্তরের ভেতরে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রায়ই অধস্তনদের সঙ্গে কঠোর ও রূঢ় আচরণ করেন। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি) সংশ্লিষ্ট কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ব্যক্তিগত প্রভাববলয়ের মাধ্যমে কাজ বণ্টনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রভাবের কথাও উঠছে আলোচনায়
কিছু সূত্র দাবি করছে, অতীতে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে তার অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর ভিত্তিহীন হলে দ্রুত তা স্পষ্ট করা দরকার—যাতে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ থাকে।

একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে ঘিরে এমন অভিযোগ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই বিষয়টির স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ সমাধান এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তা আতিকুর পাহাড়সমান অভিযোগ নিয়েও বহাল

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ আতিকুর রহমানকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম ও আচরণগত বিতর্কের অভিযোগ সামনে এসেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব—এমন একাধিক অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত শুরুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তার কিছু কর্মকাণ্ড কর্মপরিবেশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে অধিকাংশই প্রকাশ্যে কথা বলতে অনিচ্ছুক।

নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ
কিছু কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি নির্দিষ্ট কয়েকজনের ক্ষেত্রে এসব সম্পর্ক দাপ্তরিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ব্যক্তিগত সহকারী ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, ঘনিষ্ঠ একজনকে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ব্যবহার করে নানা দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের সফরেও ওই সহকারীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ
অধিদপ্তরের ভেতরে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রায়ই অধস্তনদের সঙ্গে কঠোর ও রূঢ় আচরণ করেন। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি) সংশ্লিষ্ট কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ব্যক্তিগত প্রভাববলয়ের মাধ্যমে কাজ বণ্টনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রভাবের কথাও উঠছে আলোচনায়
কিছু সূত্র দাবি করছে, অতীতে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে তার অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর ভিত্তিহীন হলে দ্রুত তা স্পষ্ট করা দরকার—যাতে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ থাকে।

একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে ঘিরে এমন অভিযোগ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই বিষয়টির স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ সমাধান এখন সময়ের দাবি।