ঢাকা ০৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

৮০ কোটির জালিয়াতি: শিল্পগোষ্ঠীকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে বৃষ্টি–মেসবাহ দম্পতি লাপাত্তা 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৫৬০ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীকেন্দ্রিক একটি শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর প্রায় ৮০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত দম্পতি রাজিয়া রহমান বৃষ্টি ও তার স্বামী মোঃ মেজবাহ উদ্দিন এখন পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রতারণা মামলায় আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে, পাশাপাশি দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে তাদের খোঁজে অভিযান শুরু করেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-০৫ এ দায়ের করা সি.আর. মামলা নং ১৭২/২০২৬–এর প্রেক্ষিতে গত ১৬ মার্চ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৮, ৪২০, ৫০৬, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম এসেছে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চিফ বিজনেস অফিসার রাজিয়া রহমান বৃষ্টির। এছাড়া তার স্বামী মোঃ মেজবাহ উদ্দিন, শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম এবং সহযোগী মোঃ শওকত আলীকেও আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন ও ব্যাংক ঋণ সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করেন অভিযুক্তরা। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঋণ সমন্বয়ের অজুহাতে একাধিক তারিখবিহীন চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে সেই চেক ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রায় ৮০ কোটি টাকার বেশি অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। এই অর্থের একটি অংশ রাজধানীর গুলশান এলাকায় স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় এবং ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ বিদেশে পাচারের চেষ্টার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের কাজ এবং এর সঙ্গে আরও অনেকের জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় অর্থ উদ্ধার ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

৮০ কোটির জালিয়াতি: শিল্পগোষ্ঠীকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে বৃষ্টি–মেসবাহ দম্পতি লাপাত্তা 

আপডেট সময় : ০৮:৪০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীকেন্দ্রিক একটি শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর প্রায় ৮০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত দম্পতি রাজিয়া রহমান বৃষ্টি ও তার স্বামী মোঃ মেজবাহ উদ্দিন এখন পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রতারণা মামলায় আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে, পাশাপাশি দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে তাদের খোঁজে অভিযান শুরু করেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-০৫ এ দায়ের করা সি.আর. মামলা নং ১৭২/২০২৬–এর প্রেক্ষিতে গত ১৬ মার্চ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৮, ৪২০, ৫০৬, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম এসেছে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চিফ বিজনেস অফিসার রাজিয়া রহমান বৃষ্টির। এছাড়া তার স্বামী মোঃ মেজবাহ উদ্দিন, শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম এবং সহযোগী মোঃ শওকত আলীকেও আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন ও ব্যাংক ঋণ সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করেন অভিযুক্তরা। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঋণ সমন্বয়ের অজুহাতে একাধিক তারিখবিহীন চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে সেই চেক ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রায় ৮০ কোটি টাকার বেশি অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। এই অর্থের একটি অংশ রাজধানীর গুলশান এলাকায় স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় এবং ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ বিদেশে পাচারের চেষ্টার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের কাজ এবং এর সঙ্গে আরও অনেকের জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় অর্থ উদ্ধার ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।