ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

কক্সবাজারের রাজাঘাট রেঞ্জে বন ধ্বংসের মহোৎসব, অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে উজাড়ের শঙ্কা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২২৫ বার পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের দক্ষিণ বনবিভাগের রাজাঘাট রেঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা বন ধ্বংসের অভিযোগ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘবদ্ধ একটি চক্রের মাধ্যমে নির্বিচারে গাছ কেটে অবৈধ করাতকল (স মিল) পরিচালনা করা হচ্ছে, যার আড়ালে চলছে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন।

অভিযোগ রয়েছে, পিয়ারিয়াচড়ি বনবিটসহ আশপাশের এলাকায় রাতের আঁধারে নিয়মিত গাছ কাটা হচ্ছে। এসব কাঠ পরে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশেই এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রশাসনের কার্যকর উপস্থিতি না থাকায় বনভূমির ক্ষতি দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বন থেকে কেটে আনা গাছের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্দিষ্ট মাসোয়ারার বিনিময়ে এসব অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বন ধ্বংস যেন এক প্রকার ‘মহোৎসবে’ পরিণত হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, পিয়ারিয়াচড়ি এলাকায় আব্বাস নামের একজনের মালিকানাধীন একটি করাতকল দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে, যেখানে অনুমোদন ছাড়াই গাছ কেটে কাঠ প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এছাড়াও একই এলাকায় আরও কয়েকটি অবৈধ করাতকল চালু রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা দাবি করেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অভিযান মূলত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।

এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে রাজাঘাট রেঞ্জের বনভূমি সম্পূর্ণ উজাড় হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল-মামুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

কক্সবাজারের রাজাঘাট রেঞ্জে বন ধ্বংসের মহোৎসব, অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে উজাড়ের শঙ্কা

আপডেট সময় : ১২:৩৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের দক্ষিণ বনবিভাগের রাজাঘাট রেঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা বন ধ্বংসের অভিযোগ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘবদ্ধ একটি চক্রের মাধ্যমে নির্বিচারে গাছ কেটে অবৈধ করাতকল (স মিল) পরিচালনা করা হচ্ছে, যার আড়ালে চলছে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন।

অভিযোগ রয়েছে, পিয়ারিয়াচড়ি বনবিটসহ আশপাশের এলাকায় রাতের আঁধারে নিয়মিত গাছ কাটা হচ্ছে। এসব কাঠ পরে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশেই এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রশাসনের কার্যকর উপস্থিতি না থাকায় বনভূমির ক্ষতি দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বন থেকে কেটে আনা গাছের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্দিষ্ট মাসোয়ারার বিনিময়ে এসব অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বন ধ্বংস যেন এক প্রকার ‘মহোৎসবে’ পরিণত হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, পিয়ারিয়াচড়ি এলাকায় আব্বাস নামের একজনের মালিকানাধীন একটি করাতকল দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে, যেখানে অনুমোদন ছাড়াই গাছ কেটে কাঠ প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এছাড়াও একই এলাকায় আরও কয়েকটি অবৈধ করাতকল চালু রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা দাবি করেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অভিযান মূলত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।

এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে রাজাঘাট রেঞ্জের বনভূমি সম্পূর্ণ উজাড় হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল-মামুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।