ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জবিতে আজীবন ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ Logo শাবিতে হল প্রশাসনকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে নোটিসে জোর পূর্বক সাইন আদায় Logo এবার সামনে আসছে ছাত্রলীগ কর্তৃক আন্দোলনকারীদের মারধরের আরো ঘটনা Logo আবাসিক হল ছাড়ছে শাবি শিক্ষার্থীরা Logo নিরাপত্তার স্বার্থে শাবি শিক্ষার্থীদের আইডিকার্ড সাথে রাখার আহবান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের Logo জনস্বাস্থ্যের প্রধান সাধুর যত অসাধু কর্ম: দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ! Logo বিআইডব্লিউটিএ বন্দর শাখা যুগ্ম পরিচালক আলমগীরের দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য  Logo রাজশাহীতে এটিএন বাংলার সাংবাদিক সুজাউদ্দিন ছোটনকে হয়রানিমূলক মামলায় বএিমইউজরে নিন্দা ও প্রতিবাদ Logo শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখতে হবেঃ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী Logo ‘কানামাছি শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০২৪’ পেলেন লেখক




বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে বক্তব্য প্রচার: উপাচার্য বলেন এটি নিজস্ব বক্তব্য নয়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৯৪ বার পড়া হয়েছে

‘নিজের বক্তব্য’ তিনটি দৈনিক পত্রিকায় প্রচারের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের বিরুদ্ধে। তবে উপাচার্য বলছেন, এটা আমার নিজস্ব কোনো বক্তব্য না। আমাকে জড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানহানি করে যে বিকৃত সংবাদ পরিবেশন হয়েছিল সে অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই ব্যাখ্যা  ছাপানো হয়েছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ১৩ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিক এবং একটি স্থানীয় দৈনিকে একটি সংবাদের ব্যাখ্যা ছাপানো হয়। এরপর ১৪ আগস্ট আরেকটি জাতীয় দৈনিকে একই ব্যাখ্যা ছাপানো হয়। এই ব্যাখ্যা ছাপানোর ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মোট দুই লাখ ১৩ হাজার ৮০ টাকা (ভ্যাট, ট্যাক্স সহ) খরচ করে।

এর আগে ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই কয়েকটি দৈনিক ও অনলাইন মাধ্যমে ‘দুর্নীতি হচ্ছে তাই বাংলাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে : কুবি উপাচার্য’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে উপাচার্য তিনটি আঞ্চলিক ও জাতীয় দৈনিকে নিজের বক্তব্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ’ হওয়ার বিপরীতে মন্তব্য প্রচার করেন তিনি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, ‘ বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য কোন নীতিমালা নেই। গণমাধ্যমকর্মী ও দেশের নাগরিকদের ভুলধারণা দূরীভুতকরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বহুল প্রচারিত দৈনিকে উপাচার্য মহোদয়ের বক্তব্য ছাপানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে কোষাধক্ষ্য অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের সংবাদ প্রচার করে উপাচার্য স্যারের বক্তব্য বিকৃত করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েরই সুনাম নষ্ট করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য স্যার বক্তব্য উপস্থাপন করে তার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। কিছু দুষ্কৃতিকারী যে মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করেছেন, এখন আমাদেরও তো সে মাধ্যমেই আমাদের অবস্থান জানাতে হবে৷ সে দিক থেকে আমার মনে হয়না গণমাধ্যমে এভাবে বক্তব্য উপস্থাপন ভুল কিছু। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই করা কাজ।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন জানান, ‘শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠানে ক্রিটিক্যাল থিংকিং বিষয়ে বোঝাতে গিয়ে আমি একটি বক্তব্য দিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আমি শিক্ষার্থীদের বলেছিলাম তারা যেন মুখস্ত বিদ্যার পরিবর্তে তাদের ক্রিটিকাল থিংকিং গড়ার প্রতি জোড় দেয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আমার বক্তব্য অনুধাবন করলেও কতিপয় সাংবাদিক; যারা বিভিন্ন সময়ে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নয়নের পথে বাঁধা দিয়েছে, তারা আমার বক্তব্যকে বিকৃত ও খণ্ডিতভাবে প্রচার করে। যা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজ নষ্ট করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে জড়িয়ে এমন প্রচারণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদ করেছেন। পরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ওই সংবাদপত্রে প্রতিবাদলিপি দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের প্রতিবাদ প্রকাশ করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেয়া আমার বক্তব্যেকে বিকৃত, খণ্ডিত ও মিসলিডিং করে যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, মানুষকে সে সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য জানানোর জন্য আমাদের বিকল্প পথ অনুসরণ করতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোন অপপ্রচার সম্পর্কে দেশের নাগরিকদের সঠিক তথ্য অবগত করার ক্ষেত্রে কোনও বাঁধা থাকার কথা নয়।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে বক্তব্য প্রচার: উপাচার্য বলেন এটি নিজস্ব বক্তব্য নয়

আপডেট সময় : ০৯:০০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

‘নিজের বক্তব্য’ তিনটি দৈনিক পত্রিকায় প্রচারের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের বিরুদ্ধে। তবে উপাচার্য বলছেন, এটা আমার নিজস্ব কোনো বক্তব্য না। আমাকে জড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানহানি করে যে বিকৃত সংবাদ পরিবেশন হয়েছিল সে অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই ব্যাখ্যা  ছাপানো হয়েছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ১৩ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিক এবং একটি স্থানীয় দৈনিকে একটি সংবাদের ব্যাখ্যা ছাপানো হয়। এরপর ১৪ আগস্ট আরেকটি জাতীয় দৈনিকে একই ব্যাখ্যা ছাপানো হয়। এই ব্যাখ্যা ছাপানোর ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মোট দুই লাখ ১৩ হাজার ৮০ টাকা (ভ্যাট, ট্যাক্স সহ) খরচ করে।

এর আগে ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই কয়েকটি দৈনিক ও অনলাইন মাধ্যমে ‘দুর্নীতি হচ্ছে তাই বাংলাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে : কুবি উপাচার্য’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে উপাচার্য তিনটি আঞ্চলিক ও জাতীয় দৈনিকে নিজের বক্তব্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ’ হওয়ার বিপরীতে মন্তব্য প্রচার করেন তিনি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, ‘ বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য কোন নীতিমালা নেই। গণমাধ্যমকর্মী ও দেশের নাগরিকদের ভুলধারণা দূরীভুতকরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বহুল প্রচারিত দৈনিকে উপাচার্য মহোদয়ের বক্তব্য ছাপানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে কোষাধক্ষ্য অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের সংবাদ প্রচার করে উপাচার্য স্যারের বক্তব্য বিকৃত করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েরই সুনাম নষ্ট করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য স্যার বক্তব্য উপস্থাপন করে তার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। কিছু দুষ্কৃতিকারী যে মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করেছেন, এখন আমাদেরও তো সে মাধ্যমেই আমাদের অবস্থান জানাতে হবে৷ সে দিক থেকে আমার মনে হয়না গণমাধ্যমে এভাবে বক্তব্য উপস্থাপন ভুল কিছু। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই করা কাজ।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন জানান, ‘শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠানে ক্রিটিক্যাল থিংকিং বিষয়ে বোঝাতে গিয়ে আমি একটি বক্তব্য দিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আমি শিক্ষার্থীদের বলেছিলাম তারা যেন মুখস্ত বিদ্যার পরিবর্তে তাদের ক্রিটিকাল থিংকিং গড়ার প্রতি জোড় দেয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আমার বক্তব্য অনুধাবন করলেও কতিপয় সাংবাদিক; যারা বিভিন্ন সময়ে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নয়নের পথে বাঁধা দিয়েছে, তারা আমার বক্তব্যকে বিকৃত ও খণ্ডিতভাবে প্রচার করে। যা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজ নষ্ট করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে জড়িয়ে এমন প্রচারণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদ করেছেন। পরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ওই সংবাদপত্রে প্রতিবাদলিপি দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের প্রতিবাদ প্রকাশ করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেয়া আমার বক্তব্যেকে বিকৃত, খণ্ডিত ও মিসলিডিং করে যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, মানুষকে সে সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য জানানোর জন্য আমাদের বিকল্প পথ অনুসরণ করতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোন অপপ্রচার সম্পর্কে দেশের নাগরিকদের সঠিক তথ্য অবগত করার ক্ষেত্রে কোনও বাঁধা থাকার কথা নয়।’