ঢাকা ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo স্বল্প বেতনে এলজিইডি গাড়িচালকের সম্পদের অট্টালিকা Logo পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে পরিচালক মীর সাজেদুর রহমানকে ঘিরে প্রশাসনিক অনিয়মের বিতর্ক Logo সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকার সেচ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও বহাল পিডি নুরুল ইসলাম Logo দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’ প্রকাশনা নিয়ে আইনি জটিলতা: হাইকোর্টের রুল: মালিকানা ও সম্পাদনায় বিতর্ক Logo প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আউটসোর্সিং নিয়োগ ঘিরে ২৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের পরিকল্পনা! Logo মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড় Logo ডিএনসিসির প্রকৌশলী আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়ম ও ঠিকাদার হয়রানির অভিযোগ Logo অভিযোগের পাহাড় পেরিয়েও বহাল তবিয়তে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি Logo সওজে পরিচালক ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজাদ সিন্ডিকেটের দূর্নীতির সাম্রাজ্য Logo ঠিকাদারের মুখোশে ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকা লুটের অভিযোগ

খোদ বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্তার মাকে ভর্তি নেয়নি চট্টগ্রামের কোনো হাসপাতাল!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২০ ২৮৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

করোনা আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা করাতে না পেরে চট্টগ্রাম ছাড়তে বাধ্য হলেন স্বয়ং বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির! শুক্রবার রাতে তিনি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন এবং আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতালে ভর্তি করান।

ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির এবং তা মা রাজিয়া কবির দুজনেই করোনা আক্রান্ত। পুরো চট্টগ্রাম বিভাগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের যিনি হর্তাকর্তা, স্বয়ং তিনি এবং তার পরিবার পেলেন না যথাযথ চিকিৎসা। এ নিয়ে চট্টগ্রামে চলছে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা। তাদের যদি এ দুরবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা, সে প্রশ্ন এখন চট্টগ্রামের সব মানুষের।

গত ২৮ মে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির এবং তা মা রাজিয়া কবির দুজনেরই করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। মায়ের করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসার পর বিপাকে পড়তে হয় ডা. শাহরিয়াকে। কারণ তার মা আগে থেকেই অসুস্থ। দুদিন পরপর কিডনি ডায়ালাইসিস করতে হয়। করোনা পজেটিভ হওয়ার পর চট্টগ্রামের কোনো হাসপাতাল ডায়ালাসিস করতে রাজি হয়নি। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চেষ্টা করেও স্বাস্থ্য পরিচালকের মায়ের ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হন। কোন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই রাজি করাতে পারেন নি। সবাই সাফ জানিয়েছে, করোনা আক্রান্ত রোগীর কিডনি ডায়ালাইসিস ঝুঁকিপূর্ণ, এতে ওই হাসপাতালের অন্য রোগীরাও আক্রান্ত হবে। করোনা ডেডিকেটেড কোন হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করার পরামর্শ দেন সবাই। উপায়ন্তর না দেখে শুক্রবার রাতে অসুস্থ মাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছাড়েন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শাহরিয়ার। শনিবার সকালে মাকে ভর্তি করান ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ণ হাসাপাতালে।

এ ব্যাপারে ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, চট্টগ্রামে ডায়ালাইসিস সুবিধা সংবলিত সব হাসপাতালে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে চেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু ঝুঁকির কথা বলে কেউ চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি। করোনা-আক্রান্ত মায়ের কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ছাড়তেই বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

খোদ বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্তার মাকে ভর্তি নেয়নি চট্টগ্রামের কোনো হাসপাতাল!

আপডেট সময় : ০৮:৪০:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

করোনা আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা করাতে না পেরে চট্টগ্রাম ছাড়তে বাধ্য হলেন স্বয়ং বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির! শুক্রবার রাতে তিনি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন এবং আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতালে ভর্তি করান।

ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির এবং তা মা রাজিয়া কবির দুজনেই করোনা আক্রান্ত। পুরো চট্টগ্রাম বিভাগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের যিনি হর্তাকর্তা, স্বয়ং তিনি এবং তার পরিবার পেলেন না যথাযথ চিকিৎসা। এ নিয়ে চট্টগ্রামে চলছে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা। তাদের যদি এ দুরবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা, সে প্রশ্ন এখন চট্টগ্রামের সব মানুষের।

গত ২৮ মে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির এবং তা মা রাজিয়া কবির দুজনেরই করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। মায়ের করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসার পর বিপাকে পড়তে হয় ডা. শাহরিয়াকে। কারণ তার মা আগে থেকেই অসুস্থ। দুদিন পরপর কিডনি ডায়ালাইসিস করতে হয়। করোনা পজেটিভ হওয়ার পর চট্টগ্রামের কোনো হাসপাতাল ডায়ালাসিস করতে রাজি হয়নি। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চেষ্টা করেও স্বাস্থ্য পরিচালকের মায়ের ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হন। কোন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই রাজি করাতে পারেন নি। সবাই সাফ জানিয়েছে, করোনা আক্রান্ত রোগীর কিডনি ডায়ালাইসিস ঝুঁকিপূর্ণ, এতে ওই হাসপাতালের অন্য রোগীরাও আক্রান্ত হবে। করোনা ডেডিকেটেড কোন হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করার পরামর্শ দেন সবাই। উপায়ন্তর না দেখে শুক্রবার রাতে অসুস্থ মাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছাড়েন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শাহরিয়ার। শনিবার সকালে মাকে ভর্তি করান ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ণ হাসাপাতালে।

এ ব্যাপারে ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, চট্টগ্রামে ডায়ালাইসিস সুবিধা সংবলিত সব হাসপাতালে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে চেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু ঝুঁকির কথা বলে কেউ চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি। করোনা-আক্রান্ত মায়ের কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ছাড়তেই বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি।