ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

চমেকে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করল দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৯০ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক)-এ আগত রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা চালু করেছে দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন। মানবিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মানুষ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করার সুযোগ পাবেন। চমেক একটি বৃহৎ সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় প্রতিদিন এখানে বিপুল সংখ্যক রোগী ও স্বজনের ভিড় থাকে। অনেক সময় পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগান্তিতে পড়তে হতো তাদের।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর প্রধান ভবনের নিচতলায় পানির প্ল্যান্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু আবিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মো. শামসুল আলম। এসময় ফিতা কেটে ও পানি পান করে প্লান্টটি উদ্বোধন করেন চমেক এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুল আলম বলেন, এমন মহান উদ্যোগে আমাদের অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন কে প্রথমেই ধন্যবাদ দিতে চাই। এই কাজটি সম্পূর্ণ সদকায়ে জারিয়াহ। মানুষকে পানি পান করানো অনেক সওয়াবের কাজ। চমেক কর্তৃপক্ষও উক্ত প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছেন, তাই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমরা সবাই আল্লাহকে খুশি করার জন্য কাজটি করেছি। আল্লাহ আমাদের এই কাজকে কবুল করুক, আমিন। ভবিষ্যতেও এমন কাজে আমরা ফাউন্ডেশনের পাশে আছি।

প্রজেক্ট এর মূল উদ্যোক্তা ও দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু আবিদ বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে বিশুদ্ধ পানি অন্যতম। বিশেষ করে একটি বৃহৎ সরকারি হাসপাতাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াত। রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীরা অনেক সময় পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সেই জায়গা থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন-বিশেষ করে প্রধান অতিথি আলহাজ্ব মো. শামসুল আলম, চমেক কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আমাদের সকল স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন মানুষের কল্যাণে, মানবতার সেবায় এবং সমাজের প্রয়োজনীয় এমন আরও কার্যক্রম নিয়ে কাজ করে যাবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক জিনিসই অপ্রতুল। প্রতিদিন এখানে বিপুল সংখ্যক রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। তাদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা এতদিন চ্যালেঞ্জের ছিল। দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন যে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে আজ এই বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে রোগী ও তাদের স্বজনরা উপকৃত হবেন এবং হাসপাতালের সামগ্রিক সেবার মান আরও উন্নত হবে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে আসবে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবসময় মানবিক উদ্যোগের পাশে থাকবে। এই উদ্যোগ যেন দীর্ঘদিন সুচারুভাবে পরিচালিত হয়-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আগে বিশুদ্ধ পানি বাইরে থেকে কিনে আনতে হতো। এখন প্রতিটি ফ্লোরেই সহজে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি পাওয়া যাবে, যা অনেক স্বস্তির। বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য সীমাহীন দুর্ভোগ এর অবসান ঘটেছে।

প্ল্যান্টটি থেকে হাসপাতালের ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে মিলিয়ে পুরো ভবনে মোট ৪০টি পানির পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে, যাতে রোগী ও স্বজনদের পানির জন্য আর বাইরে যেতে না হয় বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে না হয়। এ বিশুদ্ধ খাবার পানি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। পুরো প্রজেক্টটি সচল রাখার জন্য একজন মানুষকে মাসিক বেতন ভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্ল্যান্টটি প্রতিদিন ১ লাখ মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম। পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেক সময় তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়াও হাসপাতালের আশেপাশের দোকানগুলোর বিরুদ্ধে পানির বোতল বিক্রিতে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে বহুদিন ধরে। দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধান এনে দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

চমেকে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করল দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন

আপডেট সময় : ১২:০২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক)-এ আগত রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা চালু করেছে দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন। মানবিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মানুষ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করার সুযোগ পাবেন। চমেক একটি বৃহৎ সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় প্রতিদিন এখানে বিপুল সংখ্যক রোগী ও স্বজনের ভিড় থাকে। অনেক সময় পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগান্তিতে পড়তে হতো তাদের।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর প্রধান ভবনের নিচতলায় পানির প্ল্যান্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু আবিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মো. শামসুল আলম। এসময় ফিতা কেটে ও পানি পান করে প্লান্টটি উদ্বোধন করেন চমেক এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুল আলম বলেন, এমন মহান উদ্যোগে আমাদের অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন কে প্রথমেই ধন্যবাদ দিতে চাই। এই কাজটি সম্পূর্ণ সদকায়ে জারিয়াহ। মানুষকে পানি পান করানো অনেক সওয়াবের কাজ। চমেক কর্তৃপক্ষও উক্ত প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছেন, তাই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমরা সবাই আল্লাহকে খুশি করার জন্য কাজটি করেছি। আল্লাহ আমাদের এই কাজকে কবুল করুক, আমিন। ভবিষ্যতেও এমন কাজে আমরা ফাউন্ডেশনের পাশে আছি।

প্রজেক্ট এর মূল উদ্যোক্তা ও দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু আবিদ বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে বিশুদ্ধ পানি অন্যতম। বিশেষ করে একটি বৃহৎ সরকারি হাসপাতাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াত। রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীরা অনেক সময় পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সেই জায়গা থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন-বিশেষ করে প্রধান অতিথি আলহাজ্ব মো. শামসুল আলম, চমেক কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আমাদের সকল স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন মানুষের কল্যাণে, মানবতার সেবায় এবং সমাজের প্রয়োজনীয় এমন আরও কার্যক্রম নিয়ে কাজ করে যাবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক জিনিসই অপ্রতুল। প্রতিদিন এখানে বিপুল সংখ্যক রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। তাদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা এতদিন চ্যালেঞ্জের ছিল। দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন যে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে আজ এই বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে রোগী ও তাদের স্বজনরা উপকৃত হবেন এবং হাসপাতালের সামগ্রিক সেবার মান আরও উন্নত হবে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে আসবে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবসময় মানবিক উদ্যোগের পাশে থাকবে। এই উদ্যোগ যেন দীর্ঘদিন সুচারুভাবে পরিচালিত হয়-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আগে বিশুদ্ধ পানি বাইরে থেকে কিনে আনতে হতো। এখন প্রতিটি ফ্লোরেই সহজে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি পাওয়া যাবে, যা অনেক স্বস্তির। বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য সীমাহীন দুর্ভোগ এর অবসান ঘটেছে।

প্ল্যান্টটি থেকে হাসপাতালের ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে মিলিয়ে পুরো ভবনে মোট ৪০টি পানির পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে, যাতে রোগী ও স্বজনদের পানির জন্য আর বাইরে যেতে না হয় বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে না হয়। এ বিশুদ্ধ খাবার পানি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। পুরো প্রজেক্টটি সচল রাখার জন্য একজন মানুষকে মাসিক বেতন ভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্ল্যান্টটি প্রতিদিন ১ লাখ মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম। পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেক সময় তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়াও হাসপাতালের আশেপাশের দোকানগুলোর বিরুদ্ধে পানির বোতল বিক্রিতে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে বহুদিন ধরে। দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধান এনে দিয়েছে।