ঢাকা ০৩:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের জ্যেষ্ঠ নেতার পদোন্নতি সহ পিআরএল: রয়েছে শত কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৮৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)-এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এবং আওয়ামীপন্থী সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ’-এর সদস্য সচিব আবুল হাশেম সরদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি গ্রহণ করেন এবং গ্রেড ও পে স্কেল বৃদ্ধি পেয়ে অবসরে যান। বর্তমানে তিনি প্রি-রিটায়ারমেন্ট লিভ (পিআরএল)-এ রয়েছেন।

এই পদোন্নতি ঘিরে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিলেও কারও সাধ্য ছিলনা ঠেকানোর। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, ফ্যাসিস্ট হিসেবে চিহ্নিত আওয়ামী সরকারের একটি সক্রিয় সংগঠনের সাংগঠনিক পদে থাকা একজন প্রকৌশলী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কীভাবে পদোন্নতির সুযোগ নিয়ে অবসরে যাওয়ার সুযোগ পেলেন!

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য সচিব থাকাকালীন সময়ে আবুল হাশেম সরদার অস্বাভাবিকভাবে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, ২৫ টি প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বাস্তব কাজ না করেই বিল উত্তোলন, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং প্রকল্প ব্যয়ের নামে অনিয়ম ও লুটপাটের মাধ্যমে তিনি এই অর্থ উপার্জন করেন।

বিশেষ করে নির্বাহী প্রকৌশলী (ডেক্স–১) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার তত্ত্বাবধানে থাকা অন্তত ২৫টি চলমান প্রকল্পে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব প্রকল্পে মাঠপর্যায়ের কাজ না করে কেবল কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখিয়ে সরকারি অর্থ ছাড় করানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই অবৈধ অর্থ ব্যবহার করে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। এসব সম্পদের বৈধ আয়ের উৎস নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এমন দুর্নীতিবাজ ও চিহ্নিত ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর কিভাবে পার পেয়ে গেলেন এ বিষয়ে কোন দৌড়ঝাঁপ দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে ইইডির প্রধান প্রকৌশলী শাহ্ নইমুল কাদেরকে আহ্বায়ক এবং প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হাশেম সরদারকে সদস্য সচিব করা হয়। ইইডির প্রধান কার্যালয়ে প্রধান প্রকৌশলী শাহ্ নইমুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি গঠিত হয়েছিল।

দুর্নীতিবিরোধী বিশ্লেষকদের মতে, বিতর্কিত পদোন্নতির মাধ্যমে অবসরে যাওয়া এবং বর্তমানে পিআরএলে থাকা আবুল হাশেম সরদারের সম্পদ, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিল ও প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়গুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দীর্ঘদিনের দুর্নীতির চিত্র অপ্রকাশিতই থেকে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

চলবে……

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের জ্যেষ্ঠ নেতার পদোন্নতি সহ পিআরএল: রয়েছে শত কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ!

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)-এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এবং আওয়ামীপন্থী সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ’-এর সদস্য সচিব আবুল হাশেম সরদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি গ্রহণ করেন এবং গ্রেড ও পে স্কেল বৃদ্ধি পেয়ে অবসরে যান। বর্তমানে তিনি প্রি-রিটায়ারমেন্ট লিভ (পিআরএল)-এ রয়েছেন।

এই পদোন্নতি ঘিরে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিলেও কারও সাধ্য ছিলনা ঠেকানোর। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, ফ্যাসিস্ট হিসেবে চিহ্নিত আওয়ামী সরকারের একটি সক্রিয় সংগঠনের সাংগঠনিক পদে থাকা একজন প্রকৌশলী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কীভাবে পদোন্নতির সুযোগ নিয়ে অবসরে যাওয়ার সুযোগ পেলেন!

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য সচিব থাকাকালীন সময়ে আবুল হাশেম সরদার অস্বাভাবিকভাবে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, ২৫ টি প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বাস্তব কাজ না করেই বিল উত্তোলন, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং প্রকল্প ব্যয়ের নামে অনিয়ম ও লুটপাটের মাধ্যমে তিনি এই অর্থ উপার্জন করেন।

বিশেষ করে নির্বাহী প্রকৌশলী (ডেক্স–১) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার তত্ত্বাবধানে থাকা অন্তত ২৫টি চলমান প্রকল্পে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব প্রকল্পে মাঠপর্যায়ের কাজ না করে কেবল কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখিয়ে সরকারি অর্থ ছাড় করানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই অবৈধ অর্থ ব্যবহার করে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। এসব সম্পদের বৈধ আয়ের উৎস নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এমন দুর্নীতিবাজ ও চিহ্নিত ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর কিভাবে পার পেয়ে গেলেন এ বিষয়ে কোন দৌড়ঝাঁপ দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে ইইডির প্রধান প্রকৌশলী শাহ্ নইমুল কাদেরকে আহ্বায়ক এবং প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হাশেম সরদারকে সদস্য সচিব করা হয়। ইইডির প্রধান কার্যালয়ে প্রধান প্রকৌশলী শাহ্ নইমুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি গঠিত হয়েছিল।

দুর্নীতিবিরোধী বিশ্লেষকদের মতে, বিতর্কিত পদোন্নতির মাধ্যমে অবসরে যাওয়া এবং বর্তমানে পিআরএলে থাকা আবুল হাশেম সরদারের সম্পদ, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিল ও প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়গুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দীর্ঘদিনের দুর্নীতির চিত্র অপ্রকাশিতই থেকে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

চলবে……