ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :




পিপিই ও মাস্কের আড়ালে ডাকাতি, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২০ ৮৯ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদ ডেস্ক; 
করোনা পরিস্থিতিতে সারাদেশে ছদ্মবেশী ডাকাত চক্র সক্রিয় হয়েছে। ইতিমধ্যে অভিনব কায়দায় কয়েকটি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্য ঢাকার মোহাম্মদপুর ও খিলগাঁওয়ের দুটি ওষুধের দোকানে ডাকাতির ঘটনা অন্যতম। এই দুটি দোকানে ডাকাতরা মুখে মাস্ক পরে ডাকাতি করেছে। লুট করেছে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন। আর প্রাইভেট গাড়ি ও মাছের গাড়ি আটকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গোয়েন্দা পুলিশ এ ধরনের ঘটনার তদন্তে নেমে ৫ পেশাদার ডাকাতকে আটক করেছে।

এর বাইরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কদিন ধরে পিপিই পরে স্বাস্থ্যকর্মী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের আলামত পেয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।

কারণ দেশের কিছু কিছু স্থানে পিপিই পরে ছদ্মবেশে ডাকাতরা ডাকাতি করার চেষ্টা চালিয়েছে বলে পুলিশের কাছে খবর রয়েছে। এরপর থেকে মানুষের মধ্য আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসকল অভিযোগ উঠেছে তারমধ্য টাঙ্গাইল, সাভার, গুলশান, ধানমন্ডি ও ঢাকা জেলা পুলিশের আওতাধীন এলাকায় পিপিই পরে ডাকাতরা বিভিন্ন বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে। গভীর রাতে ডাকাতরা করোনা রোগীর তথ্য ও নমুনা সংগ্রহের অজুহাত দিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করেছে। এরকম অভিযোগ উঠার পর গুলশান ও ধানমন্ডি থানা পুলিশ তাদের এলাকায় তদন্ত করে অভিযোগের কোনো সত্যতা খোঁজে পায়নি। তবে পুলিশ এই দুটি এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। ঢাকা জেলাও পুলিশও মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, রাতের বেলা তাদের টহল টিম বাড়ানো হয়েছে। তারপরেও যদি এরকম কেউ বাসায় প্রবেশ করতে চায় তবে অবশ্যই যেন তারা পুলিশকে জানায়।

টাঙ্গাইলের একটি ভবনে রাতের বেলা স্বাস্থ্যকর্মীর পরিচয় দিয়ে ডাকাতি চেষ্টার ঘটনা এখন নেট দুনিয়ায় তোলপাড়। রাত ১টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের একটি ভবনের গেটে এসে গ্লাবস, মাস্ক ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরা তিন-চার ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীকে ডাকতে থাকেন। দরজার সামনে এসে নিরাপত্তাকর্মী দেখতে পান চারজন দাঁড়িয়ে আছেন। দুজন মাস্ক, গ্লাভস পরা এবং দুজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক পরা। ভেতর থেকে গার্ড তাদের পরিচয় জানতে চান। হাসপাতাল থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীর তথ্য নিতে এসেছে বলে তারা জানায়। বিষয়টি নিরাপত্তাকর্মীর সন্দেহ হয়। কারণ তিনি জানেন এই বাসায় কোনো করোনা রোগী নাই।তাই তিনি গেট খুলবেন না বলে তাদেরকে জানান। কিন্তু তারা ভয় দেখিয়ে দ্রুত গেট খোলার জন্য তাগিদ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু গার্ড আর গেট খুলতে রাজি হননি। গেট খুলে না দেওয়ায় তারা নিরাপত্তাকর্মীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে সকালে দেখে নিবে বলে শাসিয়ে যায়। কিন্তু সকালে কেউ আর ওই বাড়িতে করোনা রোগী নিতে আসেনি। ধারনা করা হচ্ছে ওই চারজন হাসপাতালের কথা বলে ডাকাতি করতে ভেতরে প্রবেশ করতে চেয়েছিলো।

এদিকে পুলিশ সদরদপ্তর অভিনব কায়দায় ডাকাতি রোধে সারাদেশের পুলিশের সকল ইউনিটকে নির্দেশনা দিয়েছে। তারপর থেকে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তৎপর হয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মী বা অন্য কোনো পরিচয় দিয়ে যাতে কেউ কোনো অপরাধ করতে না পারে সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তৎপর আছেন। এছাড়া পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সাধারণ নাগরিককে সচেতন থাকতে কথা বলা হয়েছে। দেয়া হয়েছে বেশ কিছু পরামর্শ।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, সম্প্রতি ক‌রোনা‌ রোগীর তথ্য সংগ্রহ ও জরুরী সেবার না‌মে কিছু দুষ্কৃ‌তিকারী সাধারণ মানু‌ষের বা‌ড়ি‌তে গি‌য়ে অপরাধ সংঘটনের সু‌যোগ নি‌চ্ছে। তাই আমরা মানুষকে সচেতন করার জন্য করছি। কোনো অবস্থা‌তেই আগন্তু‌কদের প‌রিচয় নি‌শ্চিত না হ‌য়ে অথবা তা‌দের কার্যক্র‌মের বৈধতা সম্প‌র্কে নি‌শ্চিত না হ‌য়ে কাউকে বাসায় প্র‌বেশ কর‌তে দিতে নিষেধ করা হয়েছে। কোনো কারণে স‌ন্দেহ হ‌লে নিকটস্থ থানা‌কে অব‌হিত অথবা ৯৯৯ এ ফোন ক‌রে নি‌শ্চিত হতে হবে। তিনি বলেন, পুলিশ সবসময় মানুষের পা‌শে র‌য়ে‌ছে। একইসা‌থে, এ ধর‌নের দুষ্কৃ‌তিকারী‌দের বিরু‌দ্ধে ক‌ঠোর হু‌শিয়া‌রি উচ্চারণ কর‌ছে পু‌লিশ। এর আগে গতকাল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আইজিপি বেনজির আহমেদ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট প্রধানদের বলেছেন, উদ্ভূত প‌রি‌স্থি‌তি‌তে নতুন নতুন অপরাধ প্রবণতা লক্ষ্য করা যা‌চ্ছে। কোথাও কোথাও চু‌রি ডাকা‌তি বৃ‌দ্ধি পে‌য়ে‌ছে। এ‌সব ব‌ন্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ কর‌তে হবে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার(ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম মানবজমিনকে বলেন, মাস্ক পরে ডাকাতরা ডাকাতি করছে।যাতে তাদেরকে শনাক্ত করা না যায়। কিন্তু উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে আমরা তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনছি। দুটি ওষুধের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় ৫ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে আমাদের গোয়েন্দা টিম। এর পরেও আমরা ঢাকার অন্যান্য অপরাধীদের নজরদারিতে রেখেছি। করোনা পরিস্থিতিতে নিরব ঢাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমাদের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে।

পহেলা এপ্রিল রাত ১টার দিকে মুখে মাস্ক পরে মোহাম্মদপুরের কলেজগেট এলাকার বিল্লাহ ফার্মেসীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে । সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পার্শবর্তী এই ফার্মেসীতে মাস্ক পরে কয়েকজন ডাকাত অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও নগদ ১৯ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ফার্মেসীর মালিক বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেন। এর কয়েকদিন পরে একই কায়দায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন সি ব্লকের ৫৯৬ নম্বরের লাজ ফার্মায় মাস্ক পরে ডাকাতরা হানা দেয়। ফিল্মি কায়দায় মাত্র ২/৩ মিনিটেই লাজ ফার্মার ওই দোকান থেকে দুই লাখ টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় ডাকাতরা। ডাকাতির একটি ভিডিও ফুটেজও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরেরদিন সোমবার এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় একটি মামলা করেন মালিক পক্ষের মোহাম্মদ শরীফ খান। এই দুটি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত একই চক্র।

ঘটনার পরপরই ভিডিও ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহযোগীতায় পুলিশের পাশাপাশি তদন্ত শুরু করে র্যাব ও মহানগর গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)।পরে ডিবি পশ্চিমের একটি টিম ৫ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতরা জানিয়েছে, অন্তত ১৫ জনের টিম নিয়ে তারা মুখে মাস্ক পরে বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করে। করোনা পরিস্থিতিতে নিরব ঢাকায় তারা জরুরি সেবার কথা বলে ট্রাক নিয়ে ডাকাতি করে বেড়াতো। ওষুধের দোকানে ডাকাতির পাশাপাশি তারা প্রাইভেট গাড়ি, মাছ বা অন্য পণ্যর গাড়ি এমনকি পথচারির কাছ থেকে সবকিছু ছিনতাই করে নিয়ে যেত। ঢাকার মোহাম্মদপুর, রামপুরা, কালশী, আদাবর, মিরপুর, বেড়িবাঁধ, যাত্রাবাড়ী, তুরাগ, রুপগঞ্জসহ আরো একাধিক স্থানে তারা ডাকাতি করতো। তবে করোনা পরিস্থিতিতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ডাকাতি করতো বলে গোয়ান্দারের কাছে তারা স্বীকার করেছে। ডাকাতির কাজে তারা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করতো।

পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধের প্রকৃতিগত কিছু পরিবর্তন এসেছে। মাস্ক পরে বেশ কিছু ওষুধের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সজাগ রয়েছে। কিছু ঘটনায় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া ওষুধের দোকান কেন্দ্রীক ও অলিগলিতে পুলিশি মুভমেন্ট বাড়ানো হয়েছে। মোবাইল প্রেট্রল টিম কাজ করছে। শহর এলাকার বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার সাহায্য নেয়া হচ্ছে। দোকানীদেরও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তারা যাতে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবসা করেন। প্রয়োজনে দোকানের সাটারের ভেতরের গ্রীলের ভেতর থেকে যেন কেনাবেচা করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




পিপিই ও মাস্কের আড়ালে ডাকাতি, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আপডেট সময় : ১১:১৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২০

সকালের সংবাদ ডেস্ক; 
করোনা পরিস্থিতিতে সারাদেশে ছদ্মবেশী ডাকাত চক্র সক্রিয় হয়েছে। ইতিমধ্যে অভিনব কায়দায় কয়েকটি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্য ঢাকার মোহাম্মদপুর ও খিলগাঁওয়ের দুটি ওষুধের দোকানে ডাকাতির ঘটনা অন্যতম। এই দুটি দোকানে ডাকাতরা মুখে মাস্ক পরে ডাকাতি করেছে। লুট করেছে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন। আর প্রাইভেট গাড়ি ও মাছের গাড়ি আটকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গোয়েন্দা পুলিশ এ ধরনের ঘটনার তদন্তে নেমে ৫ পেশাদার ডাকাতকে আটক করেছে।

এর বাইরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কদিন ধরে পিপিই পরে স্বাস্থ্যকর্মী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের আলামত পেয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।

কারণ দেশের কিছু কিছু স্থানে পিপিই পরে ছদ্মবেশে ডাকাতরা ডাকাতি করার চেষ্টা চালিয়েছে বলে পুলিশের কাছে খবর রয়েছে। এরপর থেকে মানুষের মধ্য আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসকল অভিযোগ উঠেছে তারমধ্য টাঙ্গাইল, সাভার, গুলশান, ধানমন্ডি ও ঢাকা জেলা পুলিশের আওতাধীন এলাকায় পিপিই পরে ডাকাতরা বিভিন্ন বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে। গভীর রাতে ডাকাতরা করোনা রোগীর তথ্য ও নমুনা সংগ্রহের অজুহাত দিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করেছে। এরকম অভিযোগ উঠার পর গুলশান ও ধানমন্ডি থানা পুলিশ তাদের এলাকায় তদন্ত করে অভিযোগের কোনো সত্যতা খোঁজে পায়নি। তবে পুলিশ এই দুটি এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। ঢাকা জেলাও পুলিশও মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, রাতের বেলা তাদের টহল টিম বাড়ানো হয়েছে। তারপরেও যদি এরকম কেউ বাসায় প্রবেশ করতে চায় তবে অবশ্যই যেন তারা পুলিশকে জানায়।

টাঙ্গাইলের একটি ভবনে রাতের বেলা স্বাস্থ্যকর্মীর পরিচয় দিয়ে ডাকাতি চেষ্টার ঘটনা এখন নেট দুনিয়ায় তোলপাড়। রাত ১টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের একটি ভবনের গেটে এসে গ্লাবস, মাস্ক ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরা তিন-চার ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীকে ডাকতে থাকেন। দরজার সামনে এসে নিরাপত্তাকর্মী দেখতে পান চারজন দাঁড়িয়ে আছেন। দুজন মাস্ক, গ্লাভস পরা এবং দুজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক পরা। ভেতর থেকে গার্ড তাদের পরিচয় জানতে চান। হাসপাতাল থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীর তথ্য নিতে এসেছে বলে তারা জানায়। বিষয়টি নিরাপত্তাকর্মীর সন্দেহ হয়। কারণ তিনি জানেন এই বাসায় কোনো করোনা রোগী নাই।তাই তিনি গেট খুলবেন না বলে তাদেরকে জানান। কিন্তু তারা ভয় দেখিয়ে দ্রুত গেট খোলার জন্য তাগিদ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু গার্ড আর গেট খুলতে রাজি হননি। গেট খুলে না দেওয়ায় তারা নিরাপত্তাকর্মীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে সকালে দেখে নিবে বলে শাসিয়ে যায়। কিন্তু সকালে কেউ আর ওই বাড়িতে করোনা রোগী নিতে আসেনি। ধারনা করা হচ্ছে ওই চারজন হাসপাতালের কথা বলে ডাকাতি করতে ভেতরে প্রবেশ করতে চেয়েছিলো।

এদিকে পুলিশ সদরদপ্তর অভিনব কায়দায় ডাকাতি রোধে সারাদেশের পুলিশের সকল ইউনিটকে নির্দেশনা দিয়েছে। তারপর থেকে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তৎপর হয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মী বা অন্য কোনো পরিচয় দিয়ে যাতে কেউ কোনো অপরাধ করতে না পারে সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তৎপর আছেন। এছাড়া পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সাধারণ নাগরিককে সচেতন থাকতে কথা বলা হয়েছে। দেয়া হয়েছে বেশ কিছু পরামর্শ।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, সম্প্রতি ক‌রোনা‌ রোগীর তথ্য সংগ্রহ ও জরুরী সেবার না‌মে কিছু দুষ্কৃ‌তিকারী সাধারণ মানু‌ষের বা‌ড়ি‌তে গি‌য়ে অপরাধ সংঘটনের সু‌যোগ নি‌চ্ছে। তাই আমরা মানুষকে সচেতন করার জন্য করছি। কোনো অবস্থা‌তেই আগন্তু‌কদের প‌রিচয় নি‌শ্চিত না হ‌য়ে অথবা তা‌দের কার্যক্র‌মের বৈধতা সম্প‌র্কে নি‌শ্চিত না হ‌য়ে কাউকে বাসায় প্র‌বেশ কর‌তে দিতে নিষেধ করা হয়েছে। কোনো কারণে স‌ন্দেহ হ‌লে নিকটস্থ থানা‌কে অব‌হিত অথবা ৯৯৯ এ ফোন ক‌রে নি‌শ্চিত হতে হবে। তিনি বলেন, পুলিশ সবসময় মানুষের পা‌শে র‌য়ে‌ছে। একইসা‌থে, এ ধর‌নের দুষ্কৃ‌তিকারী‌দের বিরু‌দ্ধে ক‌ঠোর হু‌শিয়া‌রি উচ্চারণ কর‌ছে পু‌লিশ। এর আগে গতকাল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আইজিপি বেনজির আহমেদ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট প্রধানদের বলেছেন, উদ্ভূত প‌রি‌স্থি‌তি‌তে নতুন নতুন অপরাধ প্রবণতা লক্ষ্য করা যা‌চ্ছে। কোথাও কোথাও চু‌রি ডাকা‌তি বৃ‌দ্ধি পে‌য়ে‌ছে। এ‌সব ব‌ন্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ কর‌তে হবে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার(ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম মানবজমিনকে বলেন, মাস্ক পরে ডাকাতরা ডাকাতি করছে।যাতে তাদেরকে শনাক্ত করা না যায়। কিন্তু উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে আমরা তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনছি। দুটি ওষুধের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় ৫ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে আমাদের গোয়েন্দা টিম। এর পরেও আমরা ঢাকার অন্যান্য অপরাধীদের নজরদারিতে রেখেছি। করোনা পরিস্থিতিতে নিরব ঢাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমাদের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে।

পহেলা এপ্রিল রাত ১টার দিকে মুখে মাস্ক পরে মোহাম্মদপুরের কলেজগেট এলাকার বিল্লাহ ফার্মেসীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে । সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পার্শবর্তী এই ফার্মেসীতে মাস্ক পরে কয়েকজন ডাকাত অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও নগদ ১৯ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ফার্মেসীর মালিক বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেন। এর কয়েকদিন পরে একই কায়দায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন সি ব্লকের ৫৯৬ নম্বরের লাজ ফার্মায় মাস্ক পরে ডাকাতরা হানা দেয়। ফিল্মি কায়দায় মাত্র ২/৩ মিনিটেই লাজ ফার্মার ওই দোকান থেকে দুই লাখ টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় ডাকাতরা। ডাকাতির একটি ভিডিও ফুটেজও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরেরদিন সোমবার এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় একটি মামলা করেন মালিক পক্ষের মোহাম্মদ শরীফ খান। এই দুটি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত একই চক্র।

ঘটনার পরপরই ভিডিও ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহযোগীতায় পুলিশের পাশাপাশি তদন্ত শুরু করে র্যাব ও মহানগর গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)।পরে ডিবি পশ্চিমের একটি টিম ৫ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতরা জানিয়েছে, অন্তত ১৫ জনের টিম নিয়ে তারা মুখে মাস্ক পরে বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করে। করোনা পরিস্থিতিতে নিরব ঢাকায় তারা জরুরি সেবার কথা বলে ট্রাক নিয়ে ডাকাতি করে বেড়াতো। ওষুধের দোকানে ডাকাতির পাশাপাশি তারা প্রাইভেট গাড়ি, মাছ বা অন্য পণ্যর গাড়ি এমনকি পথচারির কাছ থেকে সবকিছু ছিনতাই করে নিয়ে যেত। ঢাকার মোহাম্মদপুর, রামপুরা, কালশী, আদাবর, মিরপুর, বেড়িবাঁধ, যাত্রাবাড়ী, তুরাগ, রুপগঞ্জসহ আরো একাধিক স্থানে তারা ডাকাতি করতো। তবে করোনা পরিস্থিতিতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ডাকাতি করতো বলে গোয়ান্দারের কাছে তারা স্বীকার করেছে। ডাকাতির কাজে তারা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করতো।

পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধের প্রকৃতিগত কিছু পরিবর্তন এসেছে। মাস্ক পরে বেশ কিছু ওষুধের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সজাগ রয়েছে। কিছু ঘটনায় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া ওষুধের দোকান কেন্দ্রীক ও অলিগলিতে পুলিশি মুভমেন্ট বাড়ানো হয়েছে। মোবাইল প্রেট্রল টিম কাজ করছে। শহর এলাকার বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার সাহায্য নেয়া হচ্ছে। দোকানীদেরও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তারা যাতে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবসা করেন। প্রয়োজনে দোকানের সাটারের ভেতরের গ্রীলের ভেতর থেকে যেন কেনাবেচা করে।