ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গণপূর্তের ইএম শাখা সার্কেল ৪: তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তৈমুর আলমের দূর্নীতির কীর্তি! Logo সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন জাহাঙ্গীর শিকদার Logo প্রকল্প বণ্টনে অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে গণপূর্ত সচিব নজরুলকে নিয়ে বিতর্কের ঝড়! Logo শিক্ষা প্রকৌশলে দুর্নীতির অভিযোগ: কোটি টাকার চুক্তিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহজাহান আলী Logo কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগে সীমাহীন ঘুষ–দুর্নীতির অভিযোগ Logo বটিয়াঘাটায় বিএনপি প্রার্থীর উঠান বৈঠক: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তার আশ্বাস Logo গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার কবির ও ক্যাশিয়ার এনামুল হকের বিরুদ্ধে কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ|| পর্ব – Logo বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ অপব্যবহার: এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি ইস্যুতে হাইকোর্টে যাচ্ছে আইনজীদের সংগঠন  Logo বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের জ্যেষ্ঠ নেতার পদোন্নতি সহ পিআরএল: রয়েছে শত কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ! Logo দৈনিক সবুজ বাংলাদেশের সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ এর জন্মদিন আজ

ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে: নিরাপত্তাহীনতায় সেই মেয়ের পরিবার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২১৯ বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাট সংবাদদাতা

লালমনিরহাটে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে হওয়া সেই শিক্ষার্থীর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মেয়েটির বাবা পেশায় ভ্যানচালক। তিনি কাজে যেতে পারছেন না। ছেলেপক্ষের লোকজন বাড়িতে এসে নানা হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি।

একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি কাজে যেতে না পারায় সংসার চালানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধার-দেনা করে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে তাদের। মামলার পর ধর্ষক শাহীন আলম গ্রেফতার হওয়ায় তার পক্ষের লোকজনের হুমকির মাত্রা বেড়েছে। আপসরফার প্রস্তাবও দিচ্ছে ধর্ষকের লোকজন।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে জানা যায়, ধর্ষক শাহীন আলমের মামা আবদুস সামাদ, মজিবর ও হায়দার বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে ওই পরিবারকে। মেয়েটির বাবা বলেন, ‘বাহে, যৌতুকের ৫০ হাজার টাকা শাহীনের মামা সামাদের হাতে দিয়েছে। এলা (এখন) ওমরা অস্বীকার করে। বাড়িত আসি উল্টো হামাক গ্রামছাড়া করার হুমকি দেয়। হামরা যাম (যাব) কই?’

মেয়েটি জানায়, ছেলের চাচা ইলাহি আপসের প্রস্তাব নিয়ে শুক্রবার তাদের বাড়িতে আসেন। তার বাবাকে উধাও করার হুমকি দিচ্ছে তারা। ধর্ষকের সঙ্গে এসআই মাইনুলের বিচার দাবি করে সে বলে, ধর্ষণের অভিযোগ আমলে নিলে আজ আমাদের এমন নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে হতো না। এ ব্যাপারে লালমনিরহাট থানার ওসি মাহফুজ আলম বলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেয়েকে ধর্ষণের বিচার চেয়ে গত ১১ আগস্ট সদর থানায় একটি অভিযোগ দেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা। কিন্তু সেই অভিযোগ আমলে না নিয়ে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেন থানার এসআই মাইনুল ইসলাম। বিয়ে হলেও মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় কাবিননামা হাতে পায়নি মেয়েপক্ষ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ছেলেপক্ষ বিয়ে অস্বীকার করে ঘরে তুলছে না মেয়েকে।

ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মেয়েটির বাবা পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে: নিরাপত্তাহীনতায় সেই মেয়ের পরিবার

আপডেট সময় : ১১:৩৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

লালমনিরহাট সংবাদদাতা

লালমনিরহাটে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে হওয়া সেই শিক্ষার্থীর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মেয়েটির বাবা পেশায় ভ্যানচালক। তিনি কাজে যেতে পারছেন না। ছেলেপক্ষের লোকজন বাড়িতে এসে নানা হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি।

একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি কাজে যেতে না পারায় সংসার চালানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধার-দেনা করে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে তাদের। মামলার পর ধর্ষক শাহীন আলম গ্রেফতার হওয়ায় তার পক্ষের লোকজনের হুমকির মাত্রা বেড়েছে। আপসরফার প্রস্তাবও দিচ্ছে ধর্ষকের লোকজন।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে জানা যায়, ধর্ষক শাহীন আলমের মামা আবদুস সামাদ, মজিবর ও হায়দার বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে ওই পরিবারকে। মেয়েটির বাবা বলেন, ‘বাহে, যৌতুকের ৫০ হাজার টাকা শাহীনের মামা সামাদের হাতে দিয়েছে। এলা (এখন) ওমরা অস্বীকার করে। বাড়িত আসি উল্টো হামাক গ্রামছাড়া করার হুমকি দেয়। হামরা যাম (যাব) কই?’

মেয়েটি জানায়, ছেলের চাচা ইলাহি আপসের প্রস্তাব নিয়ে শুক্রবার তাদের বাড়িতে আসেন। তার বাবাকে উধাও করার হুমকি দিচ্ছে তারা। ধর্ষকের সঙ্গে এসআই মাইনুলের বিচার দাবি করে সে বলে, ধর্ষণের অভিযোগ আমলে নিলে আজ আমাদের এমন নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে হতো না। এ ব্যাপারে লালমনিরহাট থানার ওসি মাহফুজ আলম বলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেয়েকে ধর্ষণের বিচার চেয়ে গত ১১ আগস্ট সদর থানায় একটি অভিযোগ দেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা। কিন্তু সেই অভিযোগ আমলে না নিয়ে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেন থানার এসআই মাইনুল ইসলাম। বিয়ে হলেও মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় কাবিননামা হাতে পায়নি মেয়েপক্ষ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ছেলেপক্ষ বিয়ে অস্বীকার করে ঘরে তুলছে না মেয়েকে।

ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মেয়েটির বাবা পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেন।