ঠাকুরগাওঁয়ে ছাত্রলীগ নেতার হাত থেকে প্রাণে বাচঁতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুতি অসহায় পরিবারের

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:১০ অপরাহ্ণ, ১৬ নভেম্বর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক; 

ঠাকুরগাওঁয়ের রাণীশংকৈলে এক ছাত্রলীগ নেতার হাত হতে প্রাণে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুতি জানিয়ে শনিবার দুপুরে রাণীশংকৈল প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে পরিবার ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পৌর শহরের ভান্ডারা (কলেজ পাড়া) গ্রামের মৃত ইয়াসিন আলীর ছেলে এবং জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেক কুরাইশির ভাগিনা বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলহাজ্ব মো. তোয়াহা।

লিখিত সংবাদ সম্মেলনে তোয়াহা বলেন, পৌর শহরের মহলবাড়ী ঈদগাহ পাড়ার বাসিন্দা মৃত মাবকুদ বক্সের ছেলে রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা সাদিদ আমার পারিবারিক আত্বীয়। তাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত বিরোধ না থাকলেও তারা বাবা ছেলে উদ্যেশ্য প্রণোদিত ভাবে আমার ও আমার ছেলেদের সাথে গোলযোগ করার চেষ্টা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ নভেম্বর বিকেলে বন্দর বাসষ্ট্যান্ডের আমার নিজস্ব জমিতে নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের কাজ তদারকি করছিলো আমার বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (৩০)। সেখানে সরকারি জায়গার উপর ইট রাখা হয়েছিলো নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের।

সে-সময় হঠাৎ করে সে স্থানে এসে ছাত্রলীগ নেতা সাদিদ আমার ছেলেকে এসে বলে এই ব্যাটা তোর বিল্ডিংয়ের ইট এখানে কেন রেখেছিস এভাবে র্তক বির্তকের এক সময় আমি নিজেই সেখানে পৌছে আমার ছেলেকে নিয়ে চলে আসতে ধরলে। পিছন থেকে ছাত্রলীগ নেতা সাদিদ আমার ছেলের উপর পিস্তল তাক করে ফাঁয়ার করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পিস্তল চালাতে ব্যার্থ হয়ে । পিস্তলের পিছনের অংশ দিয়ে জোরালো আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয় আমার ছেলের।এবং আমি তোয়াহকেও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। সে-সময় আশে পাশের লোকজন আমাকে ও আমার ছেলেকে সেখান থেকে উদ্ধার করে রাণীশংকৈল হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে আমার ছেলে গুরুতর অবস্থা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তোয়াহা বলেন শুধু মাথা ফাটিয়েই ক্ষান্ত হোননি সাদিদ তার বাবা রফিকুলের নির্দেশে সে হাসপাতালে এসে এবং আরো বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে বলে ব্যাটা এ বিষয় নিয়ে যদি বেশি বাড়াবাড়ি করিস তাহলে তোকেসহ তোর পরিবারকে শেষ করে দিবো জানে মেরে ফেলেবা। তোয়াহা কাদোঁ কাদোঁ কন্ঠে বলেন.রাণীশংকৈল উপজেলার উন্নয়নের স্বার্থে আমি রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজ মহিলা কলেজ শ্বশ্বান ঘাট রাস্তাঘাটে বিভিন্ন জমি দান করেছি।

অথচ আমার মত লোকের কোন নিরাপত্তা নেই। আমি ঘটনার দিন রক্তাক্ত অবস্থায় আমার ছেলেকে নিয়ে থানায় যাই। থানা আমাকে আগে চিকিৎসা নিতে বললেও তারা আইনশৃঙ্গলা অবনতি ঘটনোর অপরাধে ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়নি। পড়ে আমি ১৫ নভেম্বর রাতে লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনর্চাজ (তদন্ত) খায়রুল আনাম ডন আমার অভিযোগটি থেকে পিস্তলের ব্যবহার কথাটি বাদ দিয়ে অভিযোগ দিলে তিনি মামলা নিতে পারেন বলে মন্তব্য করেন। কারণ হিসাবে তিনি জানান অফিসার ইনর্চাজ বর্তমানে ছুটিতে থাকায় আমি এমন অভিযোগের মামলা নিতে পারবো না।

তোয়াহা বলেন, পুলিশের গুড়িমুসিতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এই ছাত্রলীগ নেতার হাত হতে প্রাণে বাচঁতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাই।এই ছাত্রলীগ নেতা সাদিদ উপজেলা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত আহবায়ক কমিটির যুগ্ন আহবায়ক ছিলেন তবে বর্তমানে রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন বলে সাদিদ নিজেই মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতা সাদিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পিস্তলের কথা অস্বীকার করে বলেন পারিবারিক কলহের জের ধরেই আমাকে ফাঁসানোর জন্যই এ মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।এ ব্যাপারে দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার ইনর্চাজ(তদন্ত) খায়রুল আনাম ডন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য যে এই ছাত্রলীগ নেতা সাদিদ গত ১৮ সালের মার্চ মাসের ১৭ তারিখে বর্তমান পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আলেকজন্ডারকে পৌর শহরের মুক্তা মার্কেট চত্বরে রাজনৈতিক কলহের জেরে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। এ নিয়ে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :