ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জোরালো আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত: প্রধানমন্ত্রী Logo জ্বালানি ও বিনিয়োগ সহযোগিতায় গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের Logo মাথাপিছু জিডিপিতে এ বছর ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ: আইএমএফ Logo মোটরসাইকেলের চেইন পরিষ্কার ও লুব করার সঠিক নিয়ম Logo নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম পর্বের ৪০ খেলোয়াড় বিকেএসপিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে ভর্তির সুযোগ Logo তেহরানে বৈঠকে বসছে মক্কা প্যাক্ট ও ইরান Logo নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে, রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার আশা Logo লগি-বৈঠার আঘাতে নিহতদের স্মরণ করলেন বিরোধীদলীয় নেতা

ডিআইজি মিজানের ঘুষের অর্থের অনুসন্ধান শুরু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ ২৭৬ বার পড়া হয়েছে

জাহিদ হাসান রেহানঃ 

ডিআইজি মিজানুর রহমানের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় গতকাল সোমবার উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এরই মধ্যে তিন সদস্যের এ কমিটি ঘুষের অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে অনুসন্ধানও শুরু করেছে। এই কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর তার ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র সংবাদ মাধমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মইনুর রহমান চৌধুরীর (অ্যাডমিন অ্যান্ড অপারেশন) নেতৃত্বে পুলিশের এ তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) শাহাবুদ্দীন কোরেশী ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মিয়া মাসুদ হোসেন। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিটিকে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে দ্রুত তাদের কার্যক্রম শেষ করতে বলা হয়েছে। এর আগে ডিআইজি মিজানের নারী কেলেঙ্কারি তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটিতেও মইনুর রহমান চৌধুরী নেতৃত্ব দেন। একাধিক সূত্র জানায়, ডিআইজি মিজানের ঘটনায় পুলিশের নীতিনির্ধারণী মহল বিব্রত। কারণ, বাহিনীর উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তার এমন ভূমিকা ও আচরণ তাদের কাম্য নয়। তাদের মতে, এতে বাহিনীর কনিষ্ঠ সদস্যদের মধ্যেও নৈতিক অবক্ষয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়। তাদের মনোবলও ভেঙে পড়ে। তাই ভবিষ্যতে যাতে বাহিনীর কেউ এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস না দেখান, সে জন্য বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখবে পুলিশ। তদন্তে দোষী প্রমাণ হলে তাকে শাস্তির মুখোমুখিও হতে হবে।

এদিকে, নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত ডিআইজি মিজানুর রহমান এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন। গতকাল সোমবার পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মন্তব্য করেন, ডিআইজি মিজান কি দুদকের চেয়েও বড়? দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করার পরও ডিআইজিকে গ্রেফতার না করায় উষ্ফ্মা প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ।

এর আগে এক বিবৃতিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানায়, ঘুষ লেনদেনে জড়িত দুই পক্ষই সমভাবে দায়ী। ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় সংস্থাটি।

দ্বিতীয় বিয়ে লুকাতে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে গত বছর ডিআইজি মিজানকে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে প্রত্যাহারের পর পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এরই মধ্যে দুদকের অভিযোগ থেকে বাঁচতে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন মিজান। ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটির মুখোমুখি হতে হবে তাকে। ঘুষের টাকার উৎস সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ডিআইজি মিজানের ঘুষের অর্থের অনুসন্ধান শুরু

আপডেট সময় : ১০:৪৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯

জাহিদ হাসান রেহানঃ 

ডিআইজি মিজানুর রহমানের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় গতকাল সোমবার উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এরই মধ্যে তিন সদস্যের এ কমিটি ঘুষের অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে অনুসন্ধানও শুরু করেছে। এই কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর তার ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র সংবাদ মাধমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মইনুর রহমান চৌধুরীর (অ্যাডমিন অ্যান্ড অপারেশন) নেতৃত্বে পুলিশের এ তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) শাহাবুদ্দীন কোরেশী ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মিয়া মাসুদ হোসেন। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিটিকে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে দ্রুত তাদের কার্যক্রম শেষ করতে বলা হয়েছে। এর আগে ডিআইজি মিজানের নারী কেলেঙ্কারি তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটিতেও মইনুর রহমান চৌধুরী নেতৃত্ব দেন। একাধিক সূত্র জানায়, ডিআইজি মিজানের ঘটনায় পুলিশের নীতিনির্ধারণী মহল বিব্রত। কারণ, বাহিনীর উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তার এমন ভূমিকা ও আচরণ তাদের কাম্য নয়। তাদের মতে, এতে বাহিনীর কনিষ্ঠ সদস্যদের মধ্যেও নৈতিক অবক্ষয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়। তাদের মনোবলও ভেঙে পড়ে। তাই ভবিষ্যতে যাতে বাহিনীর কেউ এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস না দেখান, সে জন্য বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখবে পুলিশ। তদন্তে দোষী প্রমাণ হলে তাকে শাস্তির মুখোমুখিও হতে হবে।

এদিকে, নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত ডিআইজি মিজানুর রহমান এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন। গতকাল সোমবার পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মন্তব্য করেন, ডিআইজি মিজান কি দুদকের চেয়েও বড়? দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করার পরও ডিআইজিকে গ্রেফতার না করায় উষ্ফ্মা প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ।

এর আগে এক বিবৃতিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানায়, ঘুষ লেনদেনে জড়িত দুই পক্ষই সমভাবে দায়ী। ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় সংস্থাটি।

দ্বিতীয় বিয়ে লুকাতে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে গত বছর ডিআইজি মিজানকে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে প্রত্যাহারের পর পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এরই মধ্যে দুদকের অভিযোগ থেকে বাঁচতে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন মিজান। ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটির মুখোমুখি হতে হবে তাকে। ঘুষের টাকার উৎস সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হবে।