ঢাকা ০৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo স্বল্প বেতনে এলজিইডি গাড়িচালকের সম্পদের অট্টালিকা Logo পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে পরিচালক মীর সাজেদুর রহমানকে ঘিরে প্রশাসনিক অনিয়মের বিতর্ক Logo সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকার সেচ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও বহাল পিডি নুরুল ইসলাম Logo দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’ প্রকাশনা নিয়ে আইনি জটিলতা: হাইকোর্টের রুল: মালিকানা ও সম্পাদনায় বিতর্ক Logo প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আউটসোর্সিং নিয়োগ ঘিরে ২৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের পরিকল্পনা! Logo মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড় Logo ডিএনসিসির প্রকৌশলী আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়ম ও ঠিকাদার হয়রানির অভিযোগ Logo অভিযোগের পাহাড় পেরিয়েও বহাল তবিয়তে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি Logo সওজে পরিচালক ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজাদ সিন্ডিকেটের দূর্নীতির সাম্রাজ্য Logo ঠিকাদারের মুখোশে ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকা লুটের অভিযোগ

ইবিতে দুই দশক পুরোনো বৃক্ষ নিধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মার্চ ২০২৪ ২৫৬ বার পড়া হয়েছে

ইবি প্রতিনিধি :

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বৈশাখী মঞ্চ তৈরির নামে ২৪ বছর পুরোনো তিনটি গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইবি সংসদ ছাত্র ইউনিয়ন, সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন অভয়ারণ্য এবং ডীপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনসার্ভেশন ফাউন্ডেশন।

সোমবার (৪ মার্চ) সকাল থেকে মানববন্ধন করে সংগঠনগুলো। এসময় ‘গাছ কেটে উন্নয়ন চাই না’, ‘নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ হোক’, ‘সৌন্দর্য বর্ধনের নামে বৃক্ষ নিধন বন্ধ হোক’, ‘গাছ লাগাও জীবন বাঁচাও, জীবন জ্যোতি সৃষ্টি টেকাও’, ‘লক্ষ গাছ লক্ষ প্রাণ’, ‘বাঁচাও প্রকৃতি বাঁচাও প্রাণ ‘ সহ নানা প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায় সংগঠনের সদস্যদের।

এসময় ডীপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনসার্ভেশন ফাউন্ডেশন এর টীম লিডার আরাবী আঁখি বলেন, গাছ আমাদের পরম বন্ধু, আমাদের ছায়া এবং অক্সিজেন দিয়ে আগলে রাখে। একটা গাছ বড় হতে বছরের পর বছর সময় লাগে। আমাদের এই তিনটি গাছের বয়স প্রায় ২৪ বছর। উন্নয়নের নামে এই গাছ কেটেছে আমাদের প্রশাসন। তবে তা কতটা উন্নয়ন বয়ে আনছে? আমাদের সকলের পক্ষ থেকে দাবী থাকবে যেনো এই গাছ কাটা বন্ধ করা হয়। আমরা এই পরিবেশ নষ্ট করতে যে গাছ কাটছে তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সচেতন মহলের প্রতি আহবান থাকবে যেনো আমাদের সাথে এগিয়ে আসে এবং প্রশাসন যেনো এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করে।

পরিবেশবাদী সংগঠন অভয়ারণ্য এর সভাপতি ইসতিয়াক ফেরদৌস ইমন বলেন, এই গাছগুলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে দুই যুগ ধরে দেখে আসছে। আমরা অভয়ারণ্য এই ক্যাম্পাসে প্রায় সাতশোরো অধিক গাছ লাগিয়েছি। তাই আজকে আমরা এই প্রতিকী চিত্রাঙ্কন প্রতিবাদ করছি। এখানে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের মতামত গ্রহণ করে চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে তুলে ধরছি। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত আমাদের মর্মাহত করেছে। আমরা এ বিষয়ের তীব্র নিন্দা জানাই।

ইবি সংসদ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত কখনো ক্যাম্পাসের উন্নয়নে আসতে পারে না। এখানে দুইটি একাডেমিক ভবনের মাঝে মঞ্চ বানানোর কোনো মানে হয় না। আমরা আশাকরি প্রশাসন আমাদের কথাগুলো শুনে এর একটি সুষ্ঠু সমাধান দিবে।

এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌলশী (ভারপ্রাপ্ত) কে এম শরীফ উদ্দীন বলেন, ওই জায়গায় মঞ্চ করলে গাছ কাটা ছাড়া উপায় ছিল না। ভিসি, প্রো ভিসি, ট্রেজারার, ডিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেই গাছ কাটা হয়েছে। কোনো কাজের প্রয়োজন হলে গাছ কাটা লাগে। এখানে গাছ থাকলেও মঞ্চ করলে শিকড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জানতে চাইলে, উপাচার্য ছুটিতে থাকায় তাঁর দায়িত্বে থাকা কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এখানে দুইটা গাছ মারা গেছিলো অলরেডি। এখানে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পোগ্রাম হয় তো এখানে ডালপালা পড়ে আঘাতের সম্ভাবনা থাকে। আর আমরা এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ স্বার্থে ডিন, শিক্ষক সমিতিসহ সবার সাথে কথা বলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীলতার চর্চা বজায় থাকুক এবং আমরা মঞ্চ তৈরির সাথে সাথে আরো ৫০০ বৃক্ষ রোপণ করে দিবো।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ইবিতে দুই দশক পুরোনো বৃক্ষ নিধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মার্চ ২০২৪

ইবি প্রতিনিধি :

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বৈশাখী মঞ্চ তৈরির নামে ২৪ বছর পুরোনো তিনটি গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইবি সংসদ ছাত্র ইউনিয়ন, সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন অভয়ারণ্য এবং ডীপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনসার্ভেশন ফাউন্ডেশন।

সোমবার (৪ মার্চ) সকাল থেকে মানববন্ধন করে সংগঠনগুলো। এসময় ‘গাছ কেটে উন্নয়ন চাই না’, ‘নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ হোক’, ‘সৌন্দর্য বর্ধনের নামে বৃক্ষ নিধন বন্ধ হোক’, ‘গাছ লাগাও জীবন বাঁচাও, জীবন জ্যোতি সৃষ্টি টেকাও’, ‘লক্ষ গাছ লক্ষ প্রাণ’, ‘বাঁচাও প্রকৃতি বাঁচাও প্রাণ ‘ সহ নানা প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায় সংগঠনের সদস্যদের।

এসময় ডীপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনসার্ভেশন ফাউন্ডেশন এর টীম লিডার আরাবী আঁখি বলেন, গাছ আমাদের পরম বন্ধু, আমাদের ছায়া এবং অক্সিজেন দিয়ে আগলে রাখে। একটা গাছ বড় হতে বছরের পর বছর সময় লাগে। আমাদের এই তিনটি গাছের বয়স প্রায় ২৪ বছর। উন্নয়নের নামে এই গাছ কেটেছে আমাদের প্রশাসন। তবে তা কতটা উন্নয়ন বয়ে আনছে? আমাদের সকলের পক্ষ থেকে দাবী থাকবে যেনো এই গাছ কাটা বন্ধ করা হয়। আমরা এই পরিবেশ নষ্ট করতে যে গাছ কাটছে তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সচেতন মহলের প্রতি আহবান থাকবে যেনো আমাদের সাথে এগিয়ে আসে এবং প্রশাসন যেনো এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করে।

পরিবেশবাদী সংগঠন অভয়ারণ্য এর সভাপতি ইসতিয়াক ফেরদৌস ইমন বলেন, এই গাছগুলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে দুই যুগ ধরে দেখে আসছে। আমরা অভয়ারণ্য এই ক্যাম্পাসে প্রায় সাতশোরো অধিক গাছ লাগিয়েছি। তাই আজকে আমরা এই প্রতিকী চিত্রাঙ্কন প্রতিবাদ করছি। এখানে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের মতামত গ্রহণ করে চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে তুলে ধরছি। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত আমাদের মর্মাহত করেছে। আমরা এ বিষয়ের তীব্র নিন্দা জানাই।

ইবি সংসদ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত কখনো ক্যাম্পাসের উন্নয়নে আসতে পারে না। এখানে দুইটি একাডেমিক ভবনের মাঝে মঞ্চ বানানোর কোনো মানে হয় না। আমরা আশাকরি প্রশাসন আমাদের কথাগুলো শুনে এর একটি সুষ্ঠু সমাধান দিবে।

এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌলশী (ভারপ্রাপ্ত) কে এম শরীফ উদ্দীন বলেন, ওই জায়গায় মঞ্চ করলে গাছ কাটা ছাড়া উপায় ছিল না। ভিসি, প্রো ভিসি, ট্রেজারার, ডিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেই গাছ কাটা হয়েছে। কোনো কাজের প্রয়োজন হলে গাছ কাটা লাগে। এখানে গাছ থাকলেও মঞ্চ করলে শিকড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জানতে চাইলে, উপাচার্য ছুটিতে থাকায় তাঁর দায়িত্বে থাকা কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এখানে দুইটা গাছ মারা গেছিলো অলরেডি। এখানে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পোগ্রাম হয় তো এখানে ডালপালা পড়ে আঘাতের সম্ভাবনা থাকে। আর আমরা এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ স্বার্থে ডিন, শিক্ষক সমিতিসহ সবার সাথে কথা বলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীলতার চর্চা বজায় থাকুক এবং আমরা মঞ্চ তৈরির সাথে সাথে আরো ৫০০ বৃক্ষ রোপণ করে দিবো।