ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দুর্নীতির অন্ত নেই তবুও বহাল তবিয়তে শিক্ষা প্রকৌশলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান Logo মোহনা টিভি দখলের অপচেষ্টা: মিরপুরে উত্তেজনা, থানায় জিডি Logo মোহনা টিভির ১৪ হাজার টাকার কর্মচারী শত কোটি টাকার মালিক: বর্তমানে ‘স্বঘোষিত’ সিইও তসলিম আওয়ামী এজেন্ট  Logo বন বিভাগে পদোন্নতি জট ও কর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ: আদালতের হস্তক্ষেপে নতুন করে উত্তেজনা Logo “বেইলী রোডের অগ্নিদগ্ধ ৪৬ লাশ” কিছু প্রশ্ন ও উত্তর খোঁজার চেষ্টা Logo জেল থেকে ফিরেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রকৌশলী জুয়েল রানা Logo থাইল্যান্ডের চিকিৎসা নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশে সেবা সম্প্রসারণে আগ্রহ ব্যাংককের বিএনএইচ হাসপাতালের Logo প্রধান প্রকৌশলীর বদলির আদেশ অমান্য, ঢাকাতেই বহাল ফ্যাসিস্টের দোসর উপসহকারী আব্দুল্লাহ-আল-মামুন Logo কক্সবাজারের রাজাঘাট রেঞ্জে বন ধ্বংসের মহোৎসব, অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে উজাড়ের শঙ্কা Logo উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাস্টাররোল কর্মচারীর সম্পদের পাহাড়

দুর্নীতির অন্ত নেই তবুও বহাল তবিয়তে শিক্ষা প্রকৌশলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ইইডি) দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান। একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নানা অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি অধিদপ্তরে নিজের প্রভাববলয় গড়ে তুলেছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে অভিযোগের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে তিনি নিজ অবস্থান শক্ত রাখেন। ফলে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা এড়িয়েও চলতে সক্ষম হন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এতে অধিদপ্তরের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ :

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কাজ বণ্টন, পলাতক ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ এবং পদোন্নতিতে জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগে তাকে ঘিরে অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতাকে ‘অনৈতিক সুবিধার’ বিনিময়ে বড় অঙ্কের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার দুটি প্রকল্পে দলটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কাজ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ইইডির একাধিক সূত্র জানায়, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রায় ৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ফাঁস করে তা ইলেকট্রো গ্লোব মিরন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক যুবলীগের এক নেতাকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইভাবে রূপগঞ্জের পূর্বাচল মাধ্যমিক সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ৩৫ কোটি টাকার কাজ একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিতে প্রাক্কলন কমিয়ে ফাঁস করার অভিযোগও উঠেছে। এসব প্রকল্পের দরপত্র কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন আসাদুজ্জামান।

এছাড়া পলাতক ঠিকাদার ও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিল ছাড় করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত শিকদারের বিপুল পরিমাণ বিল পরিশোধে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র আরও জানায়, দিনাজপুর পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লাইসেন্স ভাড়া বাবদ অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর)-এ নেতিবাচক মন্তব্য থাকা সত্ত্বেও তা গোপন রেখে বা পরিবর্তন করে পদোন্নতি নেওয়া হয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রকৃত এসিআর যাচাই করা হলে জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে রংপুর, নাটোর ও পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের সঙ্গে বিরোধের ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত প্রকৌশলীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এ পরিস্থিতিতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিস্তারিত থাকছে দ্বিতীয় পর্বে….

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

দুর্নীতির অন্ত নেই তবুও বহাল তবিয়তে শিক্ষা প্রকৌশলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ইইডি) দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান। একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নানা অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি অধিদপ্তরে নিজের প্রভাববলয় গড়ে তুলেছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে অভিযোগের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে তিনি নিজ অবস্থান শক্ত রাখেন। ফলে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা এড়িয়েও চলতে সক্ষম হন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এতে অধিদপ্তরের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ :

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কাজ বণ্টন, পলাতক ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ এবং পদোন্নতিতে জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগে তাকে ঘিরে অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতাকে ‘অনৈতিক সুবিধার’ বিনিময়ে বড় অঙ্কের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার দুটি প্রকল্পে দলটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কাজ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ইইডির একাধিক সূত্র জানায়, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রায় ৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ফাঁস করে তা ইলেকট্রো গ্লোব মিরন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক যুবলীগের এক নেতাকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইভাবে রূপগঞ্জের পূর্বাচল মাধ্যমিক সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ৩৫ কোটি টাকার কাজ একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিতে প্রাক্কলন কমিয়ে ফাঁস করার অভিযোগও উঠেছে। এসব প্রকল্পের দরপত্র কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন আসাদুজ্জামান।

এছাড়া পলাতক ঠিকাদার ও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিল ছাড় করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত শিকদারের বিপুল পরিমাণ বিল পরিশোধে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র আরও জানায়, দিনাজপুর পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লাইসেন্স ভাড়া বাবদ অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর)-এ নেতিবাচক মন্তব্য থাকা সত্ত্বেও তা গোপন রেখে বা পরিবর্তন করে পদোন্নতি নেওয়া হয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রকৃত এসিআর যাচাই করা হলে জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে রংপুর, নাটোর ও পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের সঙ্গে বিরোধের ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত প্রকৌশলীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এ পরিস্থিতিতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিস্তারিত থাকছে দ্বিতীয় পর্বে….