ঢাকা ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নিষিদ্ধ সংগঠনের ‘পুনর্গঠন’ বার্তা: ছাত্রলীগের নোটিশ ঘিরে প্রশ্ন ও শঙ্কা Logo দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নলীগ লুট করে আগষ্টিন শত কোটি টাকার মালিক Logo জিয়া শিশুকিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক হলেন হাফিজুর রহমান শফিক Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা  Logo ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজ ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক Logo প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তা আতিকুর পাহাড়সমান অভিযোগ নিয়েও বহাল Logo বদলি-বাণিজ্য ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন সিন্ডিকেট Logo রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ  Logo প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য Logo নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি নিয়ন্ত্রণ, বাজেট অপচয় ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

“ডিডি সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ: ঢাকার কর্মকাণ্ডে অচলাবস্থার আশঙ্কা”

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫ ৫৮৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক |

ঢাকা বিভাগের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, ঘুষ বাণিজ্য ও প্রশাসনিক অরাজকতার অভিযোগে সরব হয়েছেন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর ১৬ জুলাই একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন আরফান পলাশ নামের একজন কর্মচারী, যিনি দাবি করেছেন যে, তিনি ঢাকা বিভাগের সর্বস্তরের ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের পক্ষে এ আবেদন করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সালাহউদ্দিন প্রতি অর্থবছরে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, স্টেশনারি, গাড়ি পাম্প ও অন্যান্য খাতে প্রাপ্ত বাজেটের অর্থ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। অথচ তার প্রদর্শিত খরচপত্রে সবই দেখানো হয়েছে ‘আসবাবপত্র’ ক্রয় বাবদ। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ইনভেন্টরি বই ও সরবরাহ স্থানের সাথে যাচাই করলে প্রতারণার প্রমাণ মিলবে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই দুর্নীতির কারণে এখন ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনের কার্যক্রম হুমকির মুখে। বারিধারা ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তাদের জ্বালানি তেল ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গাড়ি রেজিস্ট্রেশন, বিদ্যুৎ বিল, খাবারের বিল সবই আটকে আছে। ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিচ্ছে। অভিযোগে অভিযোগকারী উল্লেখ করেন, সিনিয়র এস.ও সৈয়দ মনির এই সংকটের জন্য সরাসরি সালাহউদ্দিনকে দায়ী করেন।

লাইসেন্স সংক্রান্ত দুর্নীতির প্রসঙ্গে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিটি লাইসেন্স ইস্যু বাবদ ইন্সপেক্টরদের কাছ থেকে তিনি প্রতিদিন গড়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ আদায় করেন। প্রতিটি ফায়ার রিপোর্টে ৫% কমিশন না পেলে তিনি স্বাক্ষর করেন না। এইভাবে দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ও ফায়ার রিপোর্টের নামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন চলে আসছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদের নামে ও বেনামে ঢাকার বসিলায় একাধিক সম্পদ, দুটি ফ্ল্যাটসহ অন্যান্য স্থাবর সম্পদেরও উল্লেখ আছে অভিযোগে। তার চাকরিজীবনের বিভিন্ন পদে থাকার সময় একের পর এক কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে নিজের জন্য একপ্রকার ‘স্বর্গরাজ্য’ বানিয়েছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।

প্রসঙ্গত, এর আগেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যানার টানানো হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।

অভিযোগে ডিডি সালাহউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সহকারী পরিচালক আনিসের নামও উঠে এসেছে, যিনি নানাবিধ আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেন বলে বলা হয়েছে।

প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, “ঘুষখোর, দুঃ চরিত্র, অসভ্য কর্মকর্তা সালাহউদ্দিনকে অবিলম্বে অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বৃহত্তর ঢাকা বিভাগে যেকোনো সময় বড় ধরনের ‘বিস্ফোরণ’ ঘটতে পারে।”

অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে মহাপরিচালক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দপ্তরে।

এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের বিষয়বস্তু ও এর পরিধি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

ঢাকার মত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ফায়ার সার্ভিসের মতো একটি জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এতবড় দুর্নীতির অভিযোগ প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অপরাধে উৎসাহী হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে পারে।

Loading

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

“ডিডি সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ: ঢাকার কর্মকাণ্ডে অচলাবস্থার আশঙ্কা”

আপডেট সময় : ০২:৩৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক |

ঢাকা বিভাগের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, ঘুষ বাণিজ্য ও প্রশাসনিক অরাজকতার অভিযোগে সরব হয়েছেন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর ১৬ জুলাই একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন আরফান পলাশ নামের একজন কর্মচারী, যিনি দাবি করেছেন যে, তিনি ঢাকা বিভাগের সর্বস্তরের ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের পক্ষে এ আবেদন করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সালাহউদ্দিন প্রতি অর্থবছরে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, স্টেশনারি, গাড়ি পাম্প ও অন্যান্য খাতে প্রাপ্ত বাজেটের অর্থ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। অথচ তার প্রদর্শিত খরচপত্রে সবই দেখানো হয়েছে ‘আসবাবপত্র’ ক্রয় বাবদ। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ইনভেন্টরি বই ও সরবরাহ স্থানের সাথে যাচাই করলে প্রতারণার প্রমাণ মিলবে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই দুর্নীতির কারণে এখন ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনের কার্যক্রম হুমকির মুখে। বারিধারা ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তাদের জ্বালানি তেল ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গাড়ি রেজিস্ট্রেশন, বিদ্যুৎ বিল, খাবারের বিল সবই আটকে আছে। ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিচ্ছে। অভিযোগে অভিযোগকারী উল্লেখ করেন, সিনিয়র এস.ও সৈয়দ মনির এই সংকটের জন্য সরাসরি সালাহউদ্দিনকে দায়ী করেন।

লাইসেন্স সংক্রান্ত দুর্নীতির প্রসঙ্গে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিটি লাইসেন্স ইস্যু বাবদ ইন্সপেক্টরদের কাছ থেকে তিনি প্রতিদিন গড়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ আদায় করেন। প্রতিটি ফায়ার রিপোর্টে ৫% কমিশন না পেলে তিনি স্বাক্ষর করেন না। এইভাবে দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ও ফায়ার রিপোর্টের নামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন চলে আসছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদের নামে ও বেনামে ঢাকার বসিলায় একাধিক সম্পদ, দুটি ফ্ল্যাটসহ অন্যান্য স্থাবর সম্পদেরও উল্লেখ আছে অভিযোগে। তার চাকরিজীবনের বিভিন্ন পদে থাকার সময় একের পর এক কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে নিজের জন্য একপ্রকার ‘স্বর্গরাজ্য’ বানিয়েছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।

প্রসঙ্গত, এর আগেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যানার টানানো হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।

অভিযোগে ডিডি সালাহউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সহকারী পরিচালক আনিসের নামও উঠে এসেছে, যিনি নানাবিধ আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেন বলে বলা হয়েছে।

প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, “ঘুষখোর, দুঃ চরিত্র, অসভ্য কর্মকর্তা সালাহউদ্দিনকে অবিলম্বে অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বৃহত্তর ঢাকা বিভাগে যেকোনো সময় বড় ধরনের ‘বিস্ফোরণ’ ঘটতে পারে।”

অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে মহাপরিচালক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দপ্তরে।

এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের বিষয়বস্তু ও এর পরিধি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

ঢাকার মত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ফায়ার সার্ভিসের মতো একটি জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এতবড় দুর্নীতির অভিযোগ প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অপরাধে উৎসাহী হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে পারে।

Loading