ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মঙ্গল শোভাযাত্রা – তাসফিয়া ফারহানা ঐশী Logo সাস্টিয়ান ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর ইফতার মাহফিল সম্পন্ন Logo কুবির চট্টগ্রাম স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ইফতার ও পূর্নমিলনী Logo অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদের মায়ের মৃত্যুতে শাবির মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্ত চিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ পরিষদের শোক প্রকাশ Logo শাবির অধ্যাপক জহীর উদ্দিনের মায়ের মৃত্যুতে উপাচার্যের শোক প্রকাশ Logo বিশ কোটিতে গণপূর্তের প্রধান হওয়ার মিশনে ‘ছাত্রদল ক্যাডার প্রকৌশলী’! Logo দূর্নীতির রাক্ষস ফায়ার সার্ভিসের এডি আনোয়ার! Logo ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়া শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামোর সংস্কার শুরু Logo বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতির দাবিতে শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের মানববন্ধন Logo কুবি উপাচার্যের বক্তব্যের প্রমাণ দিতে শিক্ষক সমিতির সাত দিনের আল্টিমেটাম




১৭ মার্চ ও ২৬ মার্চের আহ্বায়কসহ তিনজনকে প্রত্যাহারের আহ্বান কুবি শিক্ষক সমিতির

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:১৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মার্চ ২০২৪ ৩১৯ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৪ উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠান না রাখা এবং দিবসে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণে নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা বিধানের ব্যত্যয় ঘটানোর অভিযোগ তুলে ২১শে ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ মোট তিনজনকে আগামী ১৭ মার্চ ও ২৬ মার্চ উদযাপন কমিটি থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতি।

শনিবার (২ মার্চ) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এই আহ্বান জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রের জাতীয় সকল কর্মসূচিতে তার নিজস্ব আইন, চিরাচরিত প্রথা, শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা এবং পরম্পরা অনুযায়ী বাংলাদেশের সকল জাতীয় অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মসূচি প্রতিপালনের অংশ হিসেবে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ, আলোচনা অনুষ্ঠান ও অন্যান্য কমসূচী পরিচালনা করে। কিন্তু ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৪ যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সার্বিক পরিচালনায়  প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঐদিন শহিদ মিনার, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা আবাসিক হলসমূহে কোনো আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়নি। এমন কি এ দিনটি উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতঃপূর্বে যেখানে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে, শহিদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়েছে, সেখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বর্তমান উপাচার্যের আমলে প্রগতিশীলতার চর্চা পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদযাপিত ২১শে ফেব্রুয়ারির এ অনুষ্ঠানটিকে তুলনা করা যায় তৎকালীন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি পরিচালিত সরকারের অধীন সাদামাটা অনুষ্ঠান আয়োজনের দুঃসহ স্মৃতিগুলোর সাথে। এর মাধ্যমে মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য ও ভাবগাম্ভীর্যতা প্রচন্ডভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে এবং ভাষা শহিদদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়নি বলে  শিক্ষক সমিতি মনে করে। তাছাড়া এবারেই প্রথমবারের মতো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এই শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ অনুক্রম ও পরম্পরা লঙ্ঘন করে শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধু পরিষদের ফুল দেয়ার পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত না করে রীতিবর্জিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বহিঃস্থ একটি দপ্তরকে শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের জন্য নাম ঘোষণা করা হয়। এটি উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অন্যান্য সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল সদস্যদের মধ্যে বিব্রতকর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে যা ছিল, ধৃষ্টতাপূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরাচরিত রীতি, অনুক্রম ও পরম্পরা লঙ্ঘন।

 

আরো জানা যায়, এটি ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৪ এর কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের চরম অব্যবস্থাপনার প্রকাশ, বাঙালির আবেগ-অনুভূতির সাথে জড়িত মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও ভাষাশহিদদের সুস্পষ্ট অবমাননা। আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

 

১৭ ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৪ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটিতে পুনরায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এমতাবস্থায় তাকে আবারো গুরুত্বপূর্ণ দুটি জাতীয় অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেয়াটাকে শিক্ষক সমিতি একটি কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত বলে মনে করে। এভাবে জাতির পিতার জন্মদিবস এবং মহান স্বাধীনতা দিবসের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি এরকম ব্যর্থ আহ্ববায়কের হাতে তুলে দেওয়াতে শিক্ষক সমিতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

 

আরো উল্লেখ করা হয়, ১৯ ফেব্রুয়ারি উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষকদের উপর হামলা ও হত্যাচেষ্টাকারী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানো ডেপুটি রেজিস্ট্রার জনাব জাকির হোসেনকে উক্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে। শিক্ষকরা উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে জিডি করেছে এবং বিচারের দাবিতে প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেবার পরেও তার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো তদন্ত কমিটি গঠনসহ দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উপরন্তু উক্ত হামলায় মদদদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকীকেও উক্ত কমিটির একজন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষক সমিতি প্রক্টর এর অপসারণ দাবি করে প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করলেও এ বিষয়েও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ ঘটনাসমূহের ফলে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, উপাচার্য সন্ত্রাসীদের লালনপালন ও পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তিনি অন্যায়ের প্রশ্রয়দাতা এবং একাধারে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন এবং বারংবার চিরাচরিত রীতি, অনুক্রম ও পরম্পরা লঙ্ঘন করেই চলেছেন। এমতাবস্থায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিতর্কিত তিন ব্যক্তিকে আগামী ৩ মার্চের মধ্যে কমিটি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যথায়, শিক্ষক সমিতি ১৭ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৪ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করবে।

এই বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন,  আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারি একেবারেই অবহেলিতভাবে পালন করা হয়েছে। শহিদ মিনারে ফুল দেওয়াতেও কোন নিয়মশৃঙ্খলা ছিলো না। শহিদ মিনারে কোনপ্রকার সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয় নাই। কোন আলোচনা অনুষ্ঠান করা হয় নাই। এরকম একটা ব্যর্থ কমিটিকে আবারো ১৭ মার্চ এবং ২৬ মার্চের আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি উপাচার্য দপ্তরে প্রক্টরের মদদ এবং কর্মকর্তাদের নেতার নেতৃত্বে শিক্ষকদের উপর হামলা ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের লিখিত অভিযোগের এখনো কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমারা কমিটিতে তাদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ১৭ মার্চ এবং ২৬ মার্চ আয়োজনের জন্য কমিটি করা হয়েছে যেখানে আহবায়ক হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে অব্যবস্থাপনার জন্ম দেওয়া মিজানুর রহমানকেই রাখা হয়েছে। তাছাড়া গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপাচার্যের দপ্তরে প্রক্টরের ইন্ধনে কর্মকর্তারা যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে এবং আমাদের উপর হামলা করা হয়েছে, তাদেরকেও এই কমিটিতে রাখা। এটা আমাদের আপত্তির জায়গা। আমরা তাদের বিচারের দাবিতে উপাচার্য বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু সেটার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে বরং কমিটিতে রেখে তাদের আরো প্রণোদনা দিচ্ছেন। তাদের যদি কমিটি থেকে প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে আমরা প্রশাসনের সাথে ঐসকল প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করবো না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




১৭ মার্চ ও ২৬ মার্চের আহ্বায়কসহ তিনজনকে প্রত্যাহারের আহ্বান কুবি শিক্ষক সমিতির

আপডেট সময় : ১২:১৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মার্চ ২০২৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৪ উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠান না রাখা এবং দিবসে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণে নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা বিধানের ব্যত্যয় ঘটানোর অভিযোগ তুলে ২১শে ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ মোট তিনজনকে আগামী ১৭ মার্চ ও ২৬ মার্চ উদযাপন কমিটি থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতি।

শনিবার (২ মার্চ) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এই আহ্বান জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রের জাতীয় সকল কর্মসূচিতে তার নিজস্ব আইন, চিরাচরিত প্রথা, শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা এবং পরম্পরা অনুযায়ী বাংলাদেশের সকল জাতীয় অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মসূচি প্রতিপালনের অংশ হিসেবে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ, আলোচনা অনুষ্ঠান ও অন্যান্য কমসূচী পরিচালনা করে। কিন্তু ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৪ যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সার্বিক পরিচালনায়  প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঐদিন শহিদ মিনার, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা আবাসিক হলসমূহে কোনো আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়নি। এমন কি এ দিনটি উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতঃপূর্বে যেখানে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে, শহিদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়েছে, সেখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বর্তমান উপাচার্যের আমলে প্রগতিশীলতার চর্চা পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদযাপিত ২১শে ফেব্রুয়ারির এ অনুষ্ঠানটিকে তুলনা করা যায় তৎকালীন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি পরিচালিত সরকারের অধীন সাদামাটা অনুষ্ঠান আয়োজনের দুঃসহ স্মৃতিগুলোর সাথে। এর মাধ্যমে মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য ও ভাবগাম্ভীর্যতা প্রচন্ডভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে এবং ভাষা শহিদদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়নি বলে  শিক্ষক সমিতি মনে করে। তাছাড়া এবারেই প্রথমবারের মতো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এই শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ অনুক্রম ও পরম্পরা লঙ্ঘন করে শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধু পরিষদের ফুল দেয়ার পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত না করে রীতিবর্জিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বহিঃস্থ একটি দপ্তরকে শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের জন্য নাম ঘোষণা করা হয়। এটি উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অন্যান্য সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল সদস্যদের মধ্যে বিব্রতকর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে যা ছিল, ধৃষ্টতাপূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরাচরিত রীতি, অনুক্রম ও পরম্পরা লঙ্ঘন।

 

আরো জানা যায়, এটি ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৪ এর কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের চরম অব্যবস্থাপনার প্রকাশ, বাঙালির আবেগ-অনুভূতির সাথে জড়িত মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও ভাষাশহিদদের সুস্পষ্ট অবমাননা। আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

 

১৭ ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৪ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটিতে পুনরায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এমতাবস্থায় তাকে আবারো গুরুত্বপূর্ণ দুটি জাতীয় অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেয়াটাকে শিক্ষক সমিতি একটি কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত বলে মনে করে। এভাবে জাতির পিতার জন্মদিবস এবং মহান স্বাধীনতা দিবসের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি এরকম ব্যর্থ আহ্ববায়কের হাতে তুলে দেওয়াতে শিক্ষক সমিতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

 

আরো উল্লেখ করা হয়, ১৯ ফেব্রুয়ারি উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষকদের উপর হামলা ও হত্যাচেষ্টাকারী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানো ডেপুটি রেজিস্ট্রার জনাব জাকির হোসেনকে উক্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে। শিক্ষকরা উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে জিডি করেছে এবং বিচারের দাবিতে প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেবার পরেও তার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো তদন্ত কমিটি গঠনসহ দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উপরন্তু উক্ত হামলায় মদদদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকীকেও উক্ত কমিটির একজন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষক সমিতি প্রক্টর এর অপসারণ দাবি করে প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করলেও এ বিষয়েও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ ঘটনাসমূহের ফলে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, উপাচার্য সন্ত্রাসীদের লালনপালন ও পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তিনি অন্যায়ের প্রশ্রয়দাতা এবং একাধারে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন এবং বারংবার চিরাচরিত রীতি, অনুক্রম ও পরম্পরা লঙ্ঘন করেই চলেছেন। এমতাবস্থায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিতর্কিত তিন ব্যক্তিকে আগামী ৩ মার্চের মধ্যে কমিটি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যথায়, শিক্ষক সমিতি ১৭ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৪ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করবে।

এই বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন,  আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারি একেবারেই অবহেলিতভাবে পালন করা হয়েছে। শহিদ মিনারে ফুল দেওয়াতেও কোন নিয়মশৃঙ্খলা ছিলো না। শহিদ মিনারে কোনপ্রকার সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয় নাই। কোন আলোচনা অনুষ্ঠান করা হয় নাই। এরকম একটা ব্যর্থ কমিটিকে আবারো ১৭ মার্চ এবং ২৬ মার্চের আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি উপাচার্য দপ্তরে প্রক্টরের মদদ এবং কর্মকর্তাদের নেতার নেতৃত্বে শিক্ষকদের উপর হামলা ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের লিখিত অভিযোগের এখনো কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমারা কমিটিতে তাদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ১৭ মার্চ এবং ২৬ মার্চ আয়োজনের জন্য কমিটি করা হয়েছে যেখানে আহবায়ক হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে অব্যবস্থাপনার জন্ম দেওয়া মিজানুর রহমানকেই রাখা হয়েছে। তাছাড়া গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপাচার্যের দপ্তরে প্রক্টরের ইন্ধনে কর্মকর্তারা যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে এবং আমাদের উপর হামলা করা হয়েছে, তাদেরকেও এই কমিটিতে রাখা। এটা আমাদের আপত্তির জায়গা। আমরা তাদের বিচারের দাবিতে উপাচার্য বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু সেটার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে বরং কমিটিতে রেখে তাদের আরো প্রণোদনা দিচ্ছেন। তাদের যদি কমিটি থেকে প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে আমরা প্রশাসনের সাথে ঐসকল প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করবো না।