ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ




কমলগঞ্জে যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মার্চ ২০১৯ ১১ বার পড়া হয়েছে

শাহাব উদ্দিন, কমলগঞ্জ ( মৌলভীবাজার ) প্রতিনিধিঃ পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি করে এক যুবকের লাশ দাফনের পূর্বেই পুলিশ উপস্থিত হয়ে লাশের সুরত হাল দেখে, ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের অনুমতি না দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে থানায় ।

ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর রাসটিলা এলাকায়।

কমলগঞ্জ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাসটিল্লা গ্রামের উস্তার মিয়ার পুত্র বুলবুল আহমেদ (২৩) শুক্রবার রাত সাড়ে দশ টায় বাড়ীর মধ্যে আত্মহত্যা করে বলে পুলিশে খবর দেয় পরিবারের লোকজন। রাতে কমলগঞ্জ থানার এসআই আব্দুস শহীদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দিয়ে সুপারিশ করিয়ে লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করার অনুমতি নেয় পরিবারের লোকজন।

এদিকে যুবকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য দেখা দিলে তড়িঘড়ি করে দাফনের জন্য পরিবারের সদস্যরা ও আত্মীয়-স্বজন উদ্যোগ নেয়। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়, বিষয়টি আবারো পুলিশকে অবহিত করা হলে, শনিবার দুপুরে কমলগঞ্জ থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক চম্পক দামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল লাশ দাফনের কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃত ব্যক্তির ঘাড়ে ও গলায় আঘাতে চিহ্ন দেখে মৃত্যুর কারণ ও ফাঁস লাগানোর আলামত কোথায় এমন প্রশ্নে পরিবারের লোকজন মুখ না খুললেও তার দুই সহোদর বদর ও মামুন রহস্যজনক আচরণ করায় পুলিশের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে।

পরে লাশ দাফনের অনুমতি না দিয়েই লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ব্যাপারে এসআই চম্পক দাম জানান, তার ঘাড় ও গলায় ফাঁস লাগার চিহ্ন অবস্থায় সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান জানান,আগামী ২৯শে মার্চ বুলবুলের বিয়ে হওয়ার কথা,কিন্তু এর আগেই কেন আত্মহত্যা করলো সেটাই ভাবার বিষয়।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফুর রহমান বলেন, রাতে আমরা স্ট্রোক করে মারা যাওয়ার কথা শোনে লাশ দাফনের অনুমতি দিয়েছি, সকালে যখন শুনেছি ফাঁস লাগানোর কথা, তখন দুপুরে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে, ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে বুঝা যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যার ঘটনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




কমলগঞ্জে যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

আপডেট সময় : ০৬:১৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মার্চ ২০১৯

শাহাব উদ্দিন, কমলগঞ্জ ( মৌলভীবাজার ) প্রতিনিধিঃ পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি করে এক যুবকের লাশ দাফনের পূর্বেই পুলিশ উপস্থিত হয়ে লাশের সুরত হাল দেখে, ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের অনুমতি না দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে থানায় ।

ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর রাসটিলা এলাকায়।

কমলগঞ্জ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাসটিল্লা গ্রামের উস্তার মিয়ার পুত্র বুলবুল আহমেদ (২৩) শুক্রবার রাত সাড়ে দশ টায় বাড়ীর মধ্যে আত্মহত্যা করে বলে পুলিশে খবর দেয় পরিবারের লোকজন। রাতে কমলগঞ্জ থানার এসআই আব্দুস শহীদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দিয়ে সুপারিশ করিয়ে লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করার অনুমতি নেয় পরিবারের লোকজন।

এদিকে যুবকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য দেখা দিলে তড়িঘড়ি করে দাফনের জন্য পরিবারের সদস্যরা ও আত্মীয়-স্বজন উদ্যোগ নেয়। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়, বিষয়টি আবারো পুলিশকে অবহিত করা হলে, শনিবার দুপুরে কমলগঞ্জ থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক চম্পক দামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল লাশ দাফনের কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃত ব্যক্তির ঘাড়ে ও গলায় আঘাতে চিহ্ন দেখে মৃত্যুর কারণ ও ফাঁস লাগানোর আলামত কোথায় এমন প্রশ্নে পরিবারের লোকজন মুখ না খুললেও তার দুই সহোদর বদর ও মামুন রহস্যজনক আচরণ করায় পুলিশের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে।

পরে লাশ দাফনের অনুমতি না দিয়েই লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ব্যাপারে এসআই চম্পক দাম জানান, তার ঘাড় ও গলায় ফাঁস লাগার চিহ্ন অবস্থায় সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান জানান,আগামী ২৯শে মার্চ বুলবুলের বিয়ে হওয়ার কথা,কিন্তু এর আগেই কেন আত্মহত্যা করলো সেটাই ভাবার বিষয়।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফুর রহমান বলেন, রাতে আমরা স্ট্রোক করে মারা যাওয়ার কথা শোনে লাশ দাফনের অনুমতি দিয়েছি, সকালে যখন শুনেছি ফাঁস লাগানোর কথা, তখন দুপুরে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে, ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে বুঝা যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যার ঘটনা।