ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পুলিশের হামলার পরও ৬ ঘন্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধে কুবি শিক্ষার্থীর Logo শাবিপ্রবির প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. কবির হোসেনের সফলতার একবছর পূর্তি Logo এবার আলোচনায় আওয়ামী লীগের থানা ওয়ার্ড কমিটিতে পদ বাণিজ্যে! Logo প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহার দাবি Logo শাবি উপাচার্যের কৃতিত্ব; মাত্র ৪বছরেই আয়োজন করছেন ২ বার কনভোকেশন Logo কুবিতে সমাপ্ত হলো আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসব Logo পর্দা নামলো থিয়েটার কুবি আয়োজিত দুই দিনের আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসব Logo রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট শহীদ উল্লাহর সম্পদের খনি  Logo সাবরেজিস্ট্রার অফিসের হিসেবে ৬৭৭ কোটি টাকার নয় ছয় Logo সাংবাদিকদের নিয়ে মতিউরের স্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদ: হাজার কোটি টাকা মানহানী মামলার হুমকি বিএমইউজে’ র




চাঁদা না পেয়ে মসজিদের কাজ বন্ধ করে দিল ছাত্রলীগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১০১ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি পঞ্চগড়; 
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাসফিকুর রহমান সাকিবের বিরুদ্ধে চাঁদা না পেয়ে মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় ঠিকাদারসহ তার লোকজনদের মারধর এবং ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় বৃহষ্পতিবার দুপুরের পর ঠিকাদারের পক্ষ থেকে থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার কথা অস্বীকার করে পুলিশ জানায়, ওই লিখিত কাগজটি মামলা নেয়ার মতো না।

ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, দেশের ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের ডাঙ্গীবস্তি এলাকায় ৫০ শতক জমির উপর মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। গণপূর্ত বিভাগের অধীনে ১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনতলা ভবন বিশিষ্ট মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ করছে রংপুরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নর্দান টেকনো ট্রেড। কিন্তু কাজ শুরুর প্রাথমিক অবস্থা থেকেই স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাদের বাধার মুখে পড়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তেঁতুলিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাসফিকুর রহমান সাকিব। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় বুধবার থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয় সাকিব। বৃহস্পতিবার সকালে ভিত্তি ঢালাইয়ের কাজ শুরু হলে ছাত্রলীগ নেতা সাকিব তার ২০/২৫ জন সহযোগী নিয়ে মডেল মসজিদ নির্মাণ স্থলে হাজির হয়। এ সময় তারা সেখানে অস্থায়ী ঘর ও চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করে। তারা ঠিকাদার নাজমুলহকসহ অন্য কর্মীদের মারধর করে।

ঠিকাদার নাজমুল হক বলেন, সাকিব ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমরা তা দিতে অস্বীকার করায় বারবার আমাদের কাজ বন্ধ দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে মডেল মসজিদের ভিত্তির ঢালাইয়ের কাজ শুরু হলে সাকিব তার ২০/২৫ জন সহযোগী নিয়ে হাজির হয়ে বলেন, কাজ শুরুর অনুমতি কে দিলো বলেই ভাঙচুর শুরু করেন। তারা আমাদের মারধর করে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

প্রকল্পের প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, তাদের চাঁদা না দেয়ায় এবং ইট, বালু ও পাথর সরবরাহের সুযোগ না দেয়ায় তারা এসে কোনো কথা না বলে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় ঠিকাদার ও আমাদের লোকজনদের মারধর করে তারা। কাজ শুরু করলে আমাদের সিমেন্টের সঙ্গে বেঁধে ঢালাই করে দেয়ার হুমকি দেয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে তেঁতুলিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাসফিকুর রহমান সাকিব বলেন, আমরা কোথাও কোনো চাঁদাবাজি করিনি। আমরা চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজিতে বিশ্বাস করি না। তবে আমি আমার নেতাকর্মীদের এসব থেকে বিরত রাখতে তাদের কাজের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলাম। তারা যেসব অভিযোগ করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশের ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনা শোনার পর আমি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। তবে এখনও কেউ আমাকে কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারা যে লিখিত নিয়েছেন, সেটা মামলা নেওয়ার মতো কোনো লিখিত অভিযোগ নয়।।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




চাঁদা না পেয়ে মসজিদের কাজ বন্ধ করে দিল ছাত্রলীগ

আপডেট সময় : ০৮:৫২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জেলা প্রতিনিধি পঞ্চগড়; 
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাসফিকুর রহমান সাকিবের বিরুদ্ধে চাঁদা না পেয়ে মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় ঠিকাদারসহ তার লোকজনদের মারধর এবং ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় বৃহষ্পতিবার দুপুরের পর ঠিকাদারের পক্ষ থেকে থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার কথা অস্বীকার করে পুলিশ জানায়, ওই লিখিত কাগজটি মামলা নেয়ার মতো না।

ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, দেশের ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের ডাঙ্গীবস্তি এলাকায় ৫০ শতক জমির উপর মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। গণপূর্ত বিভাগের অধীনে ১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনতলা ভবন বিশিষ্ট মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ করছে রংপুরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নর্দান টেকনো ট্রেড। কিন্তু কাজ শুরুর প্রাথমিক অবস্থা থেকেই স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাদের বাধার মুখে পড়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তেঁতুলিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাসফিকুর রহমান সাকিব। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় বুধবার থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয় সাকিব। বৃহস্পতিবার সকালে ভিত্তি ঢালাইয়ের কাজ শুরু হলে ছাত্রলীগ নেতা সাকিব তার ২০/২৫ জন সহযোগী নিয়ে মডেল মসজিদ নির্মাণ স্থলে হাজির হয়। এ সময় তারা সেখানে অস্থায়ী ঘর ও চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করে। তারা ঠিকাদার নাজমুলহকসহ অন্য কর্মীদের মারধর করে।

ঠিকাদার নাজমুল হক বলেন, সাকিব ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমরা তা দিতে অস্বীকার করায় বারবার আমাদের কাজ বন্ধ দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে মডেল মসজিদের ভিত্তির ঢালাইয়ের কাজ শুরু হলে সাকিব তার ২০/২৫ জন সহযোগী নিয়ে হাজির হয়ে বলেন, কাজ শুরুর অনুমতি কে দিলো বলেই ভাঙচুর শুরু করেন। তারা আমাদের মারধর করে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

প্রকল্পের প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, তাদের চাঁদা না দেয়ায় এবং ইট, বালু ও পাথর সরবরাহের সুযোগ না দেয়ায় তারা এসে কোনো কথা না বলে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় ঠিকাদার ও আমাদের লোকজনদের মারধর করে তারা। কাজ শুরু করলে আমাদের সিমেন্টের সঙ্গে বেঁধে ঢালাই করে দেয়ার হুমকি দেয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে তেঁতুলিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাসফিকুর রহমান সাকিব বলেন, আমরা কোথাও কোনো চাঁদাবাজি করিনি। আমরা চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজিতে বিশ্বাস করি না। তবে আমি আমার নেতাকর্মীদের এসব থেকে বিরত রাখতে তাদের কাজের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলাম। তারা যেসব অভিযোগ করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশের ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনা শোনার পর আমি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। তবে এখনও কেউ আমাকে কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারা যে লিখিত নিয়েছেন, সেটা মামলা নেওয়ার মতো কোনো লিখিত অভিযোগ নয়।।