ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মূল্যবোধভিত্তিক পেশাদারিত্বই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্তম্ভ: আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

নাটোরে ছাত্রলীগের হাতে দুই চিকিৎসক লাঞ্ছিত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২৩৫ বার পড়া হয়েছে

নাটোরে ছাত্রলীগের হাতে দুই চিকিৎসক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার নাটোরের বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী চিকিৎসকদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের লোকজন তাদেরকে লাঞ্ছিত করেছে।

তবে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাদের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করা হয়েছে।

হাসপাতালের ডা. রাসেল এবং মেডিকেল অফিসার আবদুল্লাহ মোহাম্মদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে একজন যুবক রোববার দুপুর ২টার দিকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার জন্য ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হাসপাতালে ডা. রাসেলের কাছে এসেছিলেন। সে সময় চিকিৎসক রাসেল ১৭নং কক্ষে বহির্বিভাগের রোগী দেখছিলেন।

তারা বলেন, রোগীর চাপ বেশি থাকায় তিনি ওই যুবককে বিকাল ৩টার পরে আসতে বলেন। সে সময় বেরিয়ে গিয়ে কিছুক্ষণ পরে ১৫-১৬ জনের একটি দল নিয়ে যুবকটি হাসপাতালে ফিরে আসেন। সে সময় ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ এবং ডা. রাসেল একই কক্ষে ছিলেন।

ওই যুবকরা নিজেদের ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে দাবি করেন এবং চিকিৎসকরা ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে কেন টাকা চেয়েছেন এমন জানতে চান।

চিকিৎসক কোনো টাকা চাননি দাবি করলে বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

এ সময় যুবকদের কয়েকজন এসব কথপোকথন ভিডিও করতে থাকেন। উল্টো চিকিৎসক আবদুল্লাহ মোহাম্মদও ভিডিও করতে থাকলে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়।

সেসময় পুলিশ ডাকতে চাইলে আবাসিক চিকিৎসক ডা. রাসেলের কাছে থাকা সরকারি ও ব্যক্তিগত দুটি মোবাইল ফোনও তারা কেড়ে নিয়ে বাইরে চলে যায়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন ডা. রাসেল।

বিষয়টি তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলামকে মৌখিক ও পরে লিখিতভাবে জানান। এ ছাড়াও তারা বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনকেও জানিয়েছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন,ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতি-সেক্রেটারিসহ অনেককেই দেখেছি। তারা আমাকে জানিয়েছে, টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট দিয়েছে।

তিনি জানান, তার হাসপাতালে চিকিৎসকদের ১৪টি পদের মধ্যে তিনিসহ মাত্র ৩ জন চিকিৎসক রয়েছেন। আমাদের হাসপাতালে নামে রয়েছে ৭জন।

তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে মৌখিকভাবে সিভিল সার্জনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়গুলি জানানো হয়েছে। দুপুরে ছাত্রলীগের ছেলেগুলোর সঙ্গে চিকিৎসকদের যে ঘটনাটি ঘটে তা তিনি তৎক্ষনাৎ তার অফিসে বসিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করে দিয়েছি।

এ ব্যাপারে এমপি শহীদুল ইসলাম বকুল সমর্থিত উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মোল্লা জানান, এমন ঘটনা তিনি শুনেছেন তবে এসবের সঙ্গে তাদের কোনো সর্ম্পক নেই।

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার চৌধুরী বলেন, হাসপাতাল থেকে এমন কোনো অভিযোগ তারা পাননি। তবে যে কোনো বিষয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানালে তাৎক্ষণিকভাবে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

নাটোরে ছাত্রলীগের হাতে দুই চিকিৎসক লাঞ্ছিত

আপডেট সময় : ১১:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নাটোরে ছাত্রলীগের হাতে দুই চিকিৎসক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার নাটোরের বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী চিকিৎসকদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের লোকজন তাদেরকে লাঞ্ছিত করেছে।

তবে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাদের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করা হয়েছে।

হাসপাতালের ডা. রাসেল এবং মেডিকেল অফিসার আবদুল্লাহ মোহাম্মদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে একজন যুবক রোববার দুপুর ২টার দিকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার জন্য ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হাসপাতালে ডা. রাসেলের কাছে এসেছিলেন। সে সময় চিকিৎসক রাসেল ১৭নং কক্ষে বহির্বিভাগের রোগী দেখছিলেন।

তারা বলেন, রোগীর চাপ বেশি থাকায় তিনি ওই যুবককে বিকাল ৩টার পরে আসতে বলেন। সে সময় বেরিয়ে গিয়ে কিছুক্ষণ পরে ১৫-১৬ জনের একটি দল নিয়ে যুবকটি হাসপাতালে ফিরে আসেন। সে সময় ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ এবং ডা. রাসেল একই কক্ষে ছিলেন।

ওই যুবকরা নিজেদের ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে দাবি করেন এবং চিকিৎসকরা ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে কেন টাকা চেয়েছেন এমন জানতে চান।

চিকিৎসক কোনো টাকা চাননি দাবি করলে বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

এ সময় যুবকদের কয়েকজন এসব কথপোকথন ভিডিও করতে থাকেন। উল্টো চিকিৎসক আবদুল্লাহ মোহাম্মদও ভিডিও করতে থাকলে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়।

সেসময় পুলিশ ডাকতে চাইলে আবাসিক চিকিৎসক ডা. রাসেলের কাছে থাকা সরকারি ও ব্যক্তিগত দুটি মোবাইল ফোনও তারা কেড়ে নিয়ে বাইরে চলে যায়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন ডা. রাসেল।

বিষয়টি তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলামকে মৌখিক ও পরে লিখিতভাবে জানান। এ ছাড়াও তারা বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনকেও জানিয়েছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন,ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতি-সেক্রেটারিসহ অনেককেই দেখেছি। তারা আমাকে জানিয়েছে, টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট দিয়েছে।

তিনি জানান, তার হাসপাতালে চিকিৎসকদের ১৪টি পদের মধ্যে তিনিসহ মাত্র ৩ জন চিকিৎসক রয়েছেন। আমাদের হাসপাতালে নামে রয়েছে ৭জন।

তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে মৌখিকভাবে সিভিল সার্জনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়গুলি জানানো হয়েছে। দুপুরে ছাত্রলীগের ছেলেগুলোর সঙ্গে চিকিৎসকদের যে ঘটনাটি ঘটে তা তিনি তৎক্ষনাৎ তার অফিসে বসিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করে দিয়েছি।

এ ব্যাপারে এমপি শহীদুল ইসলাম বকুল সমর্থিত উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মোল্লা জানান, এমন ঘটনা তিনি শুনেছেন তবে এসবের সঙ্গে তাদের কোনো সর্ম্পক নেই।

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার চৌধুরী বলেন, হাসপাতাল থেকে এমন কোনো অভিযোগ তারা পাননি। তবে যে কোনো বিষয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানালে তাৎক্ষণিকভাবে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।