ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নলীগ লুট করে আগষ্টিন শত কোটি টাকার মালিক Logo জিয়া শিশুকিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক হলেন হাফিজুর রহমান শফিক Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা  Logo ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজ ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক Logo প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তা আতিকুর পাহাড়সমান অভিযোগ নিয়েও বহাল Logo বদলি-বাণিজ্য ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন সিন্ডিকেট Logo রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ  Logo প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য Logo ‘৬ বছরে ৮৬৫০ কোটি লুটপাট : সওজে নতুন করে সক্রিয় সেই ‘ডন’ রায়হান মুস্তাফিজ!’ Logo ৮০ কোটির জালিয়াতি: শিল্পগোষ্ঠীকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে বৃষ্টি–মেসবাহ দম্পতি লাপাত্তা 

পেয়ারার মন ১ শ টাকা!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি;
‘বাংলার আপেল’ খ্যাত দক্ষিণাঞ্চলের পেয়ারার মোকাম ঝালকাঠির ভীমরুলী গ্রাম। সেখানে বর্তমানে পেয়ারার দাম খুবই কম। এতে পেয়ারা গাছ থেকে তোলার শ্রমিক মজুরিও হয় না। তাই হতাশ হয়ে পেয়ারা বিক্রি না করে ফিরে যান পেয়ারা চাষিরা। ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভীমরুলী গ্রামের পেয়ারা চাষি সুজন হালদার শানু বলেন, ‘আমরা ১শ’ টাকায় ১ মণ পেয়ারা বিক্রি করি। সেই পেয়ারা ঢাকায় কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা বিক্রি হয়। ১ মণ পেয়ারা বিক্রি করে ২ কেজি চালও কেনা যায় না।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার কীর্তিপাশা, ভীমরুলী, শতদাসকাঠি, খাজুরা, মিরাকাঠি, ডুমুরিয়া, জগদীশপুর, খোদ্রপাড়া, পোষন্ডা, হিমানন্দকাঠি, বেতরা, কাপড়কাঠি ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানার বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে পেয়ারা বাগান। সড়ক ও জলপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ মোকাম থেকে পেয়ারা সরবরাহ করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, দ্রুত পচনশীল এ ফল ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো বড় শহরে নিয়ে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই স্থানীয় বাজারে পাইকারদের কাছে নামমাত্র মূল্যে পেয়ারা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। ফলে কিছু মানুষ বিনাশ্রমে বিপুল পরিমাণ মুনাফা পাচ্ছে। অন্যদিকে কঠোর পরিশ্রম করেও চাষিরা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে পারছে না।

কাপড়কাঠি গ্রামের পেয়ারা চাষি পরিতোষ বেপারী বলেন, ‘আমার দেড় একর জমিতে পেয়ারার বাগান রয়েছে। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে ৮০ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি করেছি। এখন পেয়ারার ভরা মৌসুম কিন্তু দাম অনেক কম। যে দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, তাতে প্রতিদিনের শ্রমিক খরচও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

শতদাসকাঠি গ্রামের বিপুল হালদার বলেন, ‘আমার এক একর ২৫ শতাংশ জমিতে পেয়ারার বাগান রয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। আমরা পেয়ারা মহাজনদের কাছে বিক্রি করি। মহাজনরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেন। এতে মহাজন ও পাইকাররা লাভবান হচ্ছেন।’

ভবেন্দ্রনাথ হালদার বলেন, ‘প্রতিবছর বড় বড় কোম্পানি যদি জেলি তৈরির জন্য এখান থেকে পেয়ারা কিনতো, তাহলে আমরা বেশি লাভবান হতাম। সবচেয়ে ভালো হতো ভীমরুলী গ্রামে জেলি কারখানা স্থাপন করলে।’

ভীমরুলী গ্রামের পেয়ারার মহাজন লিটন হালদার বলেন, ‘সারাবছর কঠোর পরিশ্রম করেও পেয়ারা চাষিরা ঋণের বোঝা মুক্ত হতে পারছে না। দারিদ্র্য আঁকড়ে ধরেছে তাদের জীবনযাত্রাকে। আমরা যতটা পারি তাদের সহায়তা করি।’

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ বছর ৬৫০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ হয়েছে। গড়ে ৮ টন করে ফলন হয়েছে। তবে চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না, বিধায় হতাশ হয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

পেয়ারার মন ১ শ টাকা!

আপডেট সময় : ০৩:০৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯

জেলা প্রতিনিধি;
‘বাংলার আপেল’ খ্যাত দক্ষিণাঞ্চলের পেয়ারার মোকাম ঝালকাঠির ভীমরুলী গ্রাম। সেখানে বর্তমানে পেয়ারার দাম খুবই কম। এতে পেয়ারা গাছ থেকে তোলার শ্রমিক মজুরিও হয় না। তাই হতাশ হয়ে পেয়ারা বিক্রি না করে ফিরে যান পেয়ারা চাষিরা। ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভীমরুলী গ্রামের পেয়ারা চাষি সুজন হালদার শানু বলেন, ‘আমরা ১শ’ টাকায় ১ মণ পেয়ারা বিক্রি করি। সেই পেয়ারা ঢাকায় কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা বিক্রি হয়। ১ মণ পেয়ারা বিক্রি করে ২ কেজি চালও কেনা যায় না।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার কীর্তিপাশা, ভীমরুলী, শতদাসকাঠি, খাজুরা, মিরাকাঠি, ডুমুরিয়া, জগদীশপুর, খোদ্রপাড়া, পোষন্ডা, হিমানন্দকাঠি, বেতরা, কাপড়কাঠি ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানার বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে পেয়ারা বাগান। সড়ক ও জলপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ মোকাম থেকে পেয়ারা সরবরাহ করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, দ্রুত পচনশীল এ ফল ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো বড় শহরে নিয়ে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই স্থানীয় বাজারে পাইকারদের কাছে নামমাত্র মূল্যে পেয়ারা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। ফলে কিছু মানুষ বিনাশ্রমে বিপুল পরিমাণ মুনাফা পাচ্ছে। অন্যদিকে কঠোর পরিশ্রম করেও চাষিরা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে পারছে না।

কাপড়কাঠি গ্রামের পেয়ারা চাষি পরিতোষ বেপারী বলেন, ‘আমার দেড় একর জমিতে পেয়ারার বাগান রয়েছে। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে ৮০ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি করেছি। এখন পেয়ারার ভরা মৌসুম কিন্তু দাম অনেক কম। যে দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, তাতে প্রতিদিনের শ্রমিক খরচও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

শতদাসকাঠি গ্রামের বিপুল হালদার বলেন, ‘আমার এক একর ২৫ শতাংশ জমিতে পেয়ারার বাগান রয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। আমরা পেয়ারা মহাজনদের কাছে বিক্রি করি। মহাজনরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেন। এতে মহাজন ও পাইকাররা লাভবান হচ্ছেন।’

ভবেন্দ্রনাথ হালদার বলেন, ‘প্রতিবছর বড় বড় কোম্পানি যদি জেলি তৈরির জন্য এখান থেকে পেয়ারা কিনতো, তাহলে আমরা বেশি লাভবান হতাম। সবচেয়ে ভালো হতো ভীমরুলী গ্রামে জেলি কারখানা স্থাপন করলে।’

ভীমরুলী গ্রামের পেয়ারার মহাজন লিটন হালদার বলেন, ‘সারাবছর কঠোর পরিশ্রম করেও পেয়ারা চাষিরা ঋণের বোঝা মুক্ত হতে পারছে না। দারিদ্র্য আঁকড়ে ধরেছে তাদের জীবনযাত্রাকে। আমরা যতটা পারি তাদের সহায়তা করি।’

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ বছর ৬৫০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ হয়েছে। গড়ে ৮ টন করে ফলন হয়েছে। তবে চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না, বিধায় হতাশ হয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন।’