ঢাকা ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লঞ্চ থেকে মেঘনায় লাফ দেওয়া যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার, প্রশংসায় নৌ পুলিশের তৎপরতা Logo স্থানীয় কৃষকদের থেকে ভাড়ায় জমি নিয়ে সাইন বোর্ড: প্লট বানিজ্যের নামে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী কর্তৃপক্ষ’র প্রতারণা Logo “নৌ-খাতের সিমুলেটর বাণিজ্যের লুটেরা সিন্ডিকেট সাব্বির মাদানি” Logo গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ত্রাসের রাজত্ব! নকল নবীশ মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি ও দূর্নীতির অভিযোগ Logo ‘শিশু হাসপাতালে উপ-পরিচালক নেছার উদ্দীন সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও লুটপাট’ Logo গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও টেন্ডার কারসাজি Logo মাঠের ত্যাগী না অভিজ্ঞ নেতা: রাজধানীর বিএনপিতে কোন পথে যাচ্ছে নেতৃত্ব? Logo অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে ডিসিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ দেয়নি: রাষ্ট্রপতি Logo পথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি Logo সাভার পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আমজাদ মোল্লার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

টানা ৩৫ বছর চেয়ারম্যান বিএনপির হাফিজুর!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০১৯ ২৩৫ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি;

ইউপি নির্বাচনে পরপর ৬ বার বিজয়ী হয়ে টানা ৩০ বছর ধরে চেয়ারম্যান হিসেবে একই চেয়ারে ছিলেন। এরপর চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আরও ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

টানা ৩৫ বছর পর গত ৩০ এপ্রিল চেয়ার ছাড়লেন সদ্য বিদায়ী নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান।

বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিত্বের লড়াইয়ে এবার অংশ নেননি তিনি। হাফিজুর রহমান বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে অহিদুল ইসলাম গকুল দায়িত্বভার গ্রহণ করলে টানা ৭ বারের বিজয়ী চেয়ারম্যান হিসেবে ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটে বিএনপির উপজেলা পর্যায়ের এই শীর্ষ নেতার।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হাফিজুর রহমান ১৯৮৩ সালে বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথম নির্বাচিত হন। এর পর কর্মদক্ষতা আর জনগণের ভালবাসায় পর পর ৬ বার একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি অংশ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

হাফিজুর রহমান প্রথমে ওয়াকার্সপার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ২০০৫ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

ব্যাপক পরিচিতি এবং জনপ্রিয় হাফিজুর রহমান ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালে বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তিনি জামনগর ইউনিয়ন থেকে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-৯৯ তে পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য কার্যক্রমে রাজশাহী বিভাগে শ্রেষ্ঠ এবং বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০০১-এ অব্যাহত উন্নয়নে নারীর মর্যাদা ও উন্নত পরিবেশ কার্যক্রমে শ্রেষ্ঠ হওয়ায় জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৬-০৭ অর্থ বছরে নাটোর জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সরকারি খরচে দীর্ঘ একমাস চীন সফর করেন।

হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ও নম্র স্বভাবের হাফিজুর রহমান বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের নিভৃত পল্লীর সবুজ বৃক্ষরাজির ছাঁয়ায় ঘেরা কৈপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান। তার পিতা মৃত দেল মোহম্মাদ। মায়ের নাম মৃত হামিদা খাতুন। তার জন্ম ১৯৬০ সালের ৭ জুলাই। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তিনি ৩ কন্যা সন্তানের জনক।

কৈপুকুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা শেষে নাটোর নবাব সিরাজ উদ-দোলা কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৮১ সালে তিনি বিএ পাস করেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র মোশাররফ হোসেন বলেন, জনগণের জন্য আমরা রাজনীতি করি। তাই ব্যক্তি স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে হাফিজুর রহমান দলের সিদ্ধান্তকে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেননি। তিনি যদি বিএনপি থেকে অংশ নিতেন তবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আবারও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতেন। তিনি একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ।

এ ব্যাপারে বিদায়ী উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘জনগণের ভালবাসায় দীর্ঘ সময় আমি জনপ্রতিনিধিত্ব করেছি। চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারে না থাকলেও জীবনের বাকি দিনগুলোও মানুষের সেবায় কাজ করতে চাই। তাছাড়া চেয়ারম্যান নির্বাচনের পূর্বেও আমি সমাজ সেবামুলক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই ছিলাম। বর্তমানে বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি আমার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সুচারুরূপে পালন করে যেতে চাই।’

বিএনপি পরবর্তীতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে আবারও স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের কারণেই এবার নির্বাচনে অংশ নিইনি। তবে দল কখনো যদি আবারও নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সাধারণ মানুষ চাইলে এবং দলীয় মনোনয়ন পেলে অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই’।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

টানা ৩৫ বছর চেয়ারম্যান বিএনপির হাফিজুর!

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০১৯

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি;

ইউপি নির্বাচনে পরপর ৬ বার বিজয়ী হয়ে টানা ৩০ বছর ধরে চেয়ারম্যান হিসেবে একই চেয়ারে ছিলেন। এরপর চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আরও ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

টানা ৩৫ বছর পর গত ৩০ এপ্রিল চেয়ার ছাড়লেন সদ্য বিদায়ী নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান।

বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিত্বের লড়াইয়ে এবার অংশ নেননি তিনি। হাফিজুর রহমান বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে অহিদুল ইসলাম গকুল দায়িত্বভার গ্রহণ করলে টানা ৭ বারের বিজয়ী চেয়ারম্যান হিসেবে ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটে বিএনপির উপজেলা পর্যায়ের এই শীর্ষ নেতার।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হাফিজুর রহমান ১৯৮৩ সালে বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথম নির্বাচিত হন। এর পর কর্মদক্ষতা আর জনগণের ভালবাসায় পর পর ৬ বার একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি অংশ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

হাফিজুর রহমান প্রথমে ওয়াকার্সপার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ২০০৫ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

ব্যাপক পরিচিতি এবং জনপ্রিয় হাফিজুর রহমান ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালে বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তিনি জামনগর ইউনিয়ন থেকে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-৯৯ তে পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য কার্যক্রমে রাজশাহী বিভাগে শ্রেষ্ঠ এবং বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০০১-এ অব্যাহত উন্নয়নে নারীর মর্যাদা ও উন্নত পরিবেশ কার্যক্রমে শ্রেষ্ঠ হওয়ায় জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৬-০৭ অর্থ বছরে নাটোর জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সরকারি খরচে দীর্ঘ একমাস চীন সফর করেন।

হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ও নম্র স্বভাবের হাফিজুর রহমান বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের নিভৃত পল্লীর সবুজ বৃক্ষরাজির ছাঁয়ায় ঘেরা কৈপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান। তার পিতা মৃত দেল মোহম্মাদ। মায়ের নাম মৃত হামিদা খাতুন। তার জন্ম ১৯৬০ সালের ৭ জুলাই। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তিনি ৩ কন্যা সন্তানের জনক।

কৈপুকুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা শেষে নাটোর নবাব সিরাজ উদ-দোলা কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৮১ সালে তিনি বিএ পাস করেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র মোশাররফ হোসেন বলেন, জনগণের জন্য আমরা রাজনীতি করি। তাই ব্যক্তি স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে হাফিজুর রহমান দলের সিদ্ধান্তকে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেননি। তিনি যদি বিএনপি থেকে অংশ নিতেন তবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আবারও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতেন। তিনি একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ।

এ ব্যাপারে বিদায়ী উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘জনগণের ভালবাসায় দীর্ঘ সময় আমি জনপ্রতিনিধিত্ব করেছি। চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারে না থাকলেও জীবনের বাকি দিনগুলোও মানুষের সেবায় কাজ করতে চাই। তাছাড়া চেয়ারম্যান নির্বাচনের পূর্বেও আমি সমাজ সেবামুলক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই ছিলাম। বর্তমানে বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি আমার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সুচারুরূপে পালন করে যেতে চাই।’

বিএনপি পরবর্তীতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে আবারও স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের কারণেই এবার নির্বাচনে অংশ নিইনি। তবে দল কখনো যদি আবারও নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সাধারণ মানুষ চাইলে এবং দলীয় মনোনয়ন পেলে অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই’।