রপ্তানি ঘোষণার অমিল বন্ড তদারকিতে পুকুর চুরি: জেসি কামরুলের সহায়তায় কয়েকশ কোটি টাকা রাজস্ব আত্মসাৎ
- আপডেট সময় : ০১:২৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ২৬৫ বার পড়া হয়েছে
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

নিজস্ব প্রতিবেদক: বন্ড সুবিধা ব্যবহারে সম্ভাব্য অনিয়ম, আমদানি–রপ্তানি ঘোষণায় অসংগতি এবং ট্রান্সফার প্রাইসিং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি নিয়ে Rafayet Fabrics Ltd ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রাপ্ত নথিপত্র ও অভিযোগ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আলোচিত বেশ কিছু কার্যক্রম সংঘটিত হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কাস্টমস প্রশাসনে জেসি কামরুল ইসলামের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে ফাঁকি দিয়ে কয়েকশো কোটি টাকার রাজস্ব অনিয়মের মাধ্যমে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ফলে ওই সময়ের তদারকি ও নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও উত্থাপিত বিষয়গুলো এখনো অভিযোগ পর্যায়ে রয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

নথি অনুযায়ী, Rafayet Fabrics Ltd বন্ড সুবিধার আওতায় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন করে আসছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণ, উৎপাদনের হিসাব এবং রপ্তানি ঘোষণার মধ্যে স্পষ্ট ইনপুট–আউটপুট সামঞ্জস্য থাকার কথা। তবে পর্যালোচিত নথিতে দেখা যায়, কিছু ক্ষেত্রে এই তিনটির মধ্যে প্রত্যাশিত মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অসংগতি সাধারণত বন্ড রেজিস্টার, কনজাম্পশন চার্ট এবং ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের সময় শনাক্ত হওয়ার কথা। ফলে তদারকির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, Rafayet Fabrics Ltd-এর রপ্তানি কার্যক্রমে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ALMASAHA TEXTILES TRADING LLC ক্রেতা বা কনসাইনি হিসেবে যুক্ত ছিল। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, দেশীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর যোগসূত্র থাকলে তা ‘রিলেটেড পার্টি ট্রানজেকশন’-এর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের ঘোষণামূল্য আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, সে বিষয়টিও যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
একই HS Code ব্যবহার করে বিভিন্ন চালানে পণ্যের ঘোষণামূল্যে বড় ধরনের পার্থক্যের তথ্যও উঠে এসেছে নথিপত্রে। দেখা যায়, একই কোডের পণ্যের ক্ষেত্রে কখনো তুলনামূলক কম, আবার কখনো বেশি মূল্য দেখানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের মূল্য বৈচিত্র্য আন্ডার-ইনভয়েসিং বা ভুল ঘোষণার ঝুঁকির ইঙ্গিত দিতে পারে, যা কাস্টমস পর্যায়ে বিস্তারিত যাচাইয়ের বিষয়।
অন্যদিকে কারখানার যন্ত্রপাতি, শ্রমিক সংখ্যা এবং বিদ্যুৎ–গ্যাস ব্যবহারের সক্ষমতার তুলনায় ঘোষিত উৎপাদন ও রপ্তানির পরিমাণের মধ্যেও অসামঞ্জস্যের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে বন্ড লেজার, ইন-বন্ড ও আউট-বন্ড হিসাব এবং উৎপাদন সক্ষমতার পূর্ণাঙ্গ অডিট প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যেহেতু আলোচিত সময়কালটি কাস্টমস প্রশাসনে জেসি কামরুল ইসলামের দায়িত্বকালীন সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই উত্থাপিত অভিযোগগুলো ওই সময়ের প্রশাসনিক তদারকি ও জবাবদিহির বিষয়টিকেও সামনে আনছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বন্ড সুবিধার মতো সংবেদনশীল ব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা প্রশাসনিক গাফিলতির ফল নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে জেসি কামরুল ইসলামের বক্তব্য জানতেই তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে খুঁজে বার্তা পাঠানো হলেও কোন সাড়া মেলেনি।
অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, বন্ড সুবিধা ও রপ্তানিমুখী শিল্প দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাত। তবে এ খাতে স্বচ্ছতা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব সুরক্ষা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই জেসি কামরুল ইসলামের দায়িত্বকাল ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর তথ্যভিত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
(চলবে — ১ম পর্ব)



















