ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বন্ড সুবিধার আড়ালে শত কোটি টাকার কারসাজি, নাটের গুরু কমিশনার আবু ওবায়দা Logo লঞ্চ থেকে মেঘনায় লাফ দেওয়া যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার, প্রশংসায় নৌ পুলিশের তৎপরতা Logo স্থানীয় কৃষকদের থেকে ভাড়ায় জমি নিয়ে সাইন বোর্ড: প্লট বানিজ্যের নামে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী কর্তৃপক্ষ’র প্রতারণা Logo “নৌ-খাতের সিমুলেটর বাণিজ্যের লুটেরা সিন্ডিকেট সাব্বির মাদানি” Logo গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ত্রাসের রাজত্ব! নকল নবীশ মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি ও দূর্নীতির অভিযোগ Logo ‘শিশু হাসপাতালে উপ-পরিচালক নেছার উদ্দীন সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও লুটপাট’ Logo গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও টেন্ডার কারসাজি Logo মাঠের ত্যাগী না অভিজ্ঞ নেতা: রাজধানীর বিএনপিতে কোন পথে যাচ্ছে নেতৃত্ব? Logo অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে ডিসিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ দেয়নি: রাষ্ট্রপতি Logo পথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি

গণপূর্তের কম্পিউটার অপারেটর জয়নুলের শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৭৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপূর্ত অধিদপ্তর নিয়ে নানা সময় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পিয়ন থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা—অনেকে যোগদানের পরই অনিয়ম, ঘুষ আর অবৈধ অর্থ আয়কে পেশার অংশে পরিণত করেছেন। সেই দীর্ঘ তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম এখন কম্পিউটার অপারেটর জয়নুল আবেদীন।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা জয়নুল সরকারি বেতনভুক্ত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। স্থাপত্য অধিদপ্তরে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে তার মাসিক আয়ে নিজ গৃহস্থালি চালানোরই কথা। কিন্তু বাস্তবে তার জীবনযাপন বিলাসবহুল—নিজের গাড়ির চালককেই দেন এমন বেতন যা তার নিজস্ব আয়ের চেয়েও বেশি।

বিভিন্ন তথ্য বলছে, ২৮ বছরের চাকরিজীবনে জয়নুল গড়েছেন শত কোটি টাকার সম্পদ।
তার নামে ও স্ত্রীর নামে রয়েছে—
– ঢাকায় ৫টি ফ্ল্যাট
– একাধিক প্লট
– ময়মনসিংহে পাঁচতলা বাড়ি
– ঈশ্বরগঞ্জে জমি
– ৪৮ লাখ টাকার টয়োটা প্রিমিওসহ কয়েকটি প্রাইভেটকার

সহকর্মীদের অভিযোগ, নকশা অনুমোদন, টেন্ডার, কেনাকাটা সব জায়গায় তার সরাসরি প্রভাব রয়েছে। অনেক কাজ তিনি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বদলে নিজেই করিয়ে নেন। এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্টদের ‘ভাগ দেওয়া’ তার নিয়মিত চর্চা। ফলে জয়নুল হাউজিং কোম্পানি ও বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কাছেও পরিচিত ও প্রভাবশালী।

এমনকি আদাবরের ৪৩/১৩/বি, শ্যামলী হাউজিং এলাকার একটি ভবনের নির্মাণ কমিটির সভাপতিও তিনি এলাকায় তিনি ‘শিল্পপতি’ হিসেবেও পরিচিত।

দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়লেও কোনোটি বাস্তব তদন্তে এগোয়নি। অনেকেই মনে করেন, অভ্যন্তরীণ প্রভাব ও নিয়মিত ভাগ-বাটোয়ারাই তাকে এতদিন অটুট রেখেছে।

দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “৫ আগস্ট ২০২৪-এর আগের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করবো না। তবে এখন কোনো দুর্নীতিবাজ কর্মচারী ছাড় পাবে না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিটি প্রতিবেদন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”

জয়নুলকে ঘিরে এই অভিযোগগুলো আবারও দেখিয়ে দেয়—গণপূর্ত অধিদপ্তরের গভীর দুর্নীতি কতটা শেকড় গাড়া এবং কীভাবে তৃতীয় শ্রেণির এক কর্মচারী পর্যন্ত ক্ষমতা ও প্রভাবের ছত্রছায়ায় কোটি টাকার মালিকে পরিণত হতে পারে।

এসব অভিযোগ এর বিষয়ে জয়নুলের মুঠোফোনে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে ধমক দিয়ে বলেন, আপনারা আমাকে কি পেয়েছেন! এই বাড়ির কাগজ নিয়ে আসেন আপনাদের লিখে দেই। পরে কল কেটে দেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

গণপূর্তের কম্পিউটার অপারেটর জয়নুলের শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:০৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপূর্ত অধিদপ্তর নিয়ে নানা সময় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পিয়ন থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা—অনেকে যোগদানের পরই অনিয়ম, ঘুষ আর অবৈধ অর্থ আয়কে পেশার অংশে পরিণত করেছেন। সেই দীর্ঘ তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম এখন কম্পিউটার অপারেটর জয়নুল আবেদীন।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা জয়নুল সরকারি বেতনভুক্ত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। স্থাপত্য অধিদপ্তরে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে তার মাসিক আয়ে নিজ গৃহস্থালি চালানোরই কথা। কিন্তু বাস্তবে তার জীবনযাপন বিলাসবহুল—নিজের গাড়ির চালককেই দেন এমন বেতন যা তার নিজস্ব আয়ের চেয়েও বেশি।

বিভিন্ন তথ্য বলছে, ২৮ বছরের চাকরিজীবনে জয়নুল গড়েছেন শত কোটি টাকার সম্পদ।
তার নামে ও স্ত্রীর নামে রয়েছে—
– ঢাকায় ৫টি ফ্ল্যাট
– একাধিক প্লট
– ময়মনসিংহে পাঁচতলা বাড়ি
– ঈশ্বরগঞ্জে জমি
– ৪৮ লাখ টাকার টয়োটা প্রিমিওসহ কয়েকটি প্রাইভেটকার

সহকর্মীদের অভিযোগ, নকশা অনুমোদন, টেন্ডার, কেনাকাটা সব জায়গায় তার সরাসরি প্রভাব রয়েছে। অনেক কাজ তিনি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বদলে নিজেই করিয়ে নেন। এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্টদের ‘ভাগ দেওয়া’ তার নিয়মিত চর্চা। ফলে জয়নুল হাউজিং কোম্পানি ও বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কাছেও পরিচিত ও প্রভাবশালী।

এমনকি আদাবরের ৪৩/১৩/বি, শ্যামলী হাউজিং এলাকার একটি ভবনের নির্মাণ কমিটির সভাপতিও তিনি এলাকায় তিনি ‘শিল্পপতি’ হিসেবেও পরিচিত।

দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়লেও কোনোটি বাস্তব তদন্তে এগোয়নি। অনেকেই মনে করেন, অভ্যন্তরীণ প্রভাব ও নিয়মিত ভাগ-বাটোয়ারাই তাকে এতদিন অটুট রেখেছে।

দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “৫ আগস্ট ২০২৪-এর আগের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করবো না। তবে এখন কোনো দুর্নীতিবাজ কর্মচারী ছাড় পাবে না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিটি প্রতিবেদন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”

জয়নুলকে ঘিরে এই অভিযোগগুলো আবারও দেখিয়ে দেয়—গণপূর্ত অধিদপ্তরের গভীর দুর্নীতি কতটা শেকড় গাড়া এবং কীভাবে তৃতীয় শ্রেণির এক কর্মচারী পর্যন্ত ক্ষমতা ও প্রভাবের ছত্রছায়ায় কোটি টাকার মালিকে পরিণত হতে পারে।

এসব অভিযোগ এর বিষয়ে জয়নুলের মুঠোফোনে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে ধমক দিয়ে বলেন, আপনারা আমাকে কি পেয়েছেন! এই বাড়ির কাগজ নিয়ে আসেন আপনাদের লিখে দেই। পরে কল কেটে দেন তিনি।