এযেন আরেক মতিউর: এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের অবৈধ সম্পদের পাহাড়
- আপডেট সময় : ০৭:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ২৩১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদন:
এ যেন দেশের আরেক মতিউর, এনবিআর এর আলোচিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মতিউরের মতই অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এলজিইডির বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম। এমন অভিযোগ মাথায় নিয়েই তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রকৌশলীর পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে জমতে থাকা অসংখ্য অভিযোগ আবার সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময় প্রকল্প বদলি, পদায়ন বাণিজ্য, ঘুষ লেনদেন থেকে শুরু করে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জন—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে তার ভূমিকা নিয়ে।
অভিযোগের সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পে পরিচালক এবং জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়নে তৈরি হয়েছিল বড় একটি বাণিজ্যচক্র। বদলি বা আকর্ষণীয় প্রকল্পে পদায়ন পেতে নাকি তৎকালীন মন্ত্রীর এপিএস জাহিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ই ছিল মুখ্য।
মুন্সীগঞ্জে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে প্রতিটি কাজের জন্য দুই শতাংশ করে ঘুষ নেয়ার অভিযোগও স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত।
আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প (এমডিএসপি) নিয়ে। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রায় শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, যা এখনো তদন্তের অপেক্ষায়।
আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ:
অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীর বেতন-ভাতা দিয়ে জাবেদ করিমের পরিবার যে পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হয়েছেন, তা কোনভাবেই স্বাভাবিক আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে—
গুলশান-১ এর ১৩০ নম্বর সড়কের ১১/বি-এর পাশে প্রায় ৩০ কাঠা জমিতে নির্মিত বিশাল গ্যারেজ। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ। বনানীর ২৫/এ সড়কের ৫৫ নম্বর বাড়ি। প্রগতি সরণির শহিদ আব্দুল আজিজ রোডের ৩০ কাঠার ৪৮ নম্বর প্লট। স্ত্রীর নামে পূর্বাচলের ৩ নম্বর সড়কের ৬৫ নম্বর প্লট। গাজীপুর চৌরাস্তা সংলগ্ন ৮ নম্বর রোডের ৭৫ নম্বর বাড়ি। উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সড়কের ৩৬ নম্বর বাড়িতে ৩২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। আফতাবনগরের ২ নম্বর সড়কের ৯৮ নম্বর প্লট—স্ত্রীর নামে। বসুন্ধরা আবাসিক ডি-ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৬৯ নম্বর প্লট, যেখানে এখন ৮ তলা ভবন নির্মাণাধীন। নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার ৯ নম্বর রাস্তার ৩৬ নম্বর বাড়ি।কেরানীগঞ্জের ৬ নম্বর সড়কের ১০ নম্বর বাড়িতে ৩৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর ই ব্লকের ৩ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর প্লট। ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের ৪ নম্বর সড়কের ৮৫ নম্বর প্লট—স্ত্রীর নামে।
সূত্র বলছেন, এত বিপুল সম্পদ কোনোভাবেই সরকারি চাকরির কর্মকর্তার বেতন ভাতা দিয়ে এই বিশাল পরিমাণে সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জাবেদ করিমের অবৈধ সম্পদের বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার কর্মী আব্দুর রাজ রাজ্জাক সংবাদমাধ্যমে বলেন, সরকারের যেকোনো পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা সারা জীবনের বৈধ আয় দিয়ে এমন সম্পদ অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সরকারি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা যদি এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয় তবে “ছাগল কান্ডের আলোচিত এনবিআর কর্মকর্তা মতিউরের মত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্ম নিবে”।
এই বিষয়ে জাবেদ করিমের সরাসরি মতামত জানতে একাধিকবার ফোন করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া দেননি।













