মেহেরপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রাকিবুলের দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ: ভুক্তভোগীর আইনি নোটিশ
- আপডেট সময় : ০৪:১২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ১০১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেহেরপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর যেন নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল আহসানের ব্যক্তিগত সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদার ও কর্মকর্তারা। বহু বছর ধরে একই জেলায় অবস্থান, ক্ষমতার দাপট, কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া কাগজপত্রে কাজ বরাদ্দ, এমনকি দুদকের তদন্ত থামিয়ে পদোন্নতি নেওয়া—সব মিলিয়ে এক বিস্তৃত অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে অভিযোগকারীদের বক্তব্যে।
টেন্ডার–কমিশন বাণিজ্যই রুটিন কাজ
অভিযোগ আছে, রাকিবুল আহসান ঠিকাদারদের কাছ থেকে খোলাখুলি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করেন। সহকারী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে একজন ভুক্তভোগী দুদকে লিখিত অভিযোগও করেন। তদন্ত শুরু হলে তার পদোন্নতি আটকে যায়। এরপরই এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর তদবিরে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা থেমে যান বলে অভিযোগ। পরে দুদকের কাছ থেকে ‘বাধাহীন পোস্টিং’-এর প্রত্যয়ন নিয়ে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী পদে উন্নীত হন।
বদলি হলেও যোগদান আটকেছে বিক্ষোভে
মেহেরপুরে দীর্ঘদিনের অনিয়মে বিতর্কের মুখে গত ১৬ অক্টোবর তাকে যশোরে বদলি করা হয়। কিন্তু স্থানীয় ঠিকাদারদের প্রতিবাদের মুখে তিনি সেখানে যোগদান করতে পারেননি। তারা অভিযোগ করেন, রাকিবুল আহসান শুধু মেহেরপুরে নয়, আগেও চাপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামী শাসনের প্রভাব দেখিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং বিপুল অবৈধ সম্পদ সংগ্রহ করেন।
পিপিআর ভঙ্গ, রেট শিডিউল ফাঁস, ভুয়া কাগজপত্রে কাজ বরাদ্দ
গত ১১ সেপ্টেম্বর ফার্নিচার ক্রয়ের একটি ওপেনিং টেন্ডারে সাত গ্রুপের কাজ থাকলেও অংশগ্রহণ করেন দশ ঠিকাদার। অভিযোগ—রাকিবুল সুবিধা নিয়ে পাঁচজন ঠিকাদারের মাঝে কাজ ভাগ করে দেন। পিপিআর ২০০৬ ও ২০০৮-এর নিয়ম ভেঙে তিনি ‘সিমিলার’ নাই এমন প্রতিষ্ঠানের ভুয়া কাগজপত্র সংগ্রহ করিয়ে তাদের কাজ দিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, ঠিকাদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে—অফিসে সপ্তাহে দু’দিনই উপস্থিত থাকেন তিনি, এবং কর্মকর্তাদের সাথে আচরণও অত্যন্ত বিরূপ।
টেন্ডার ম্যানিপুলেশন নিয়ে ক্ষোভ বিস্তার
০৮ সেপ্টেম্বর আহ্বান করা তিনটি টেন্ডারে রাকিবুল আহসান অভিযোগ অনুযায়ী নিজের তৈরি ‘মনগড়া মূল্যায়ন নির্ণায়ক’ বসান। সব শর্ত পূরণ করে একমাত্র যোগ্য প্রতিষ্ঠান হয়েও একজন ঠিকাদার কাজ পাননি। ওই প্রতিষ্ঠান আইনজীবী মারফত লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে। অভিযোগ—পিপিআর বা সিপিটিইউ কোনো নথিতেই নেই এমন মানদণ্ড ব্যবহার করে রাকিবুল আহসান পরিকল্পিতভাবে তাদের বাদ দিয়েছেন।
নোটিশদাতা প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী জানান, সব প্রমাণ তাদের হাতে আছে, এবং অনিয়ম বাতিল না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানও চলছে দুদকে
চাপাইনবাবগঞ্জে কর্মরত থাকার সময় রাকিবুল আহসান ও তার স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পদের তথ্য পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগকারীরা মনে করেন, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে তিনি ঠিকাদারদের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন এবং এখনো সেই সুবিধা আদায় করছেন।
ঠিকাদারদের অভিযোগ: জিম্মি করে টাকা আদায়
ঠিকাদার আনোয়ার হোসেনসহ অনেকে জানান, যোগদানের পর থেকেই রাকিবুল নানা অজুহাতে ঠিকাদারদের জিম্মি করে টাকা আদায় করছেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নাম ভাঙিয়ে কাজের সময় বাড়ানোর জন্য ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ারও অভিযোগ এসেছে।
রাকিবুল আহসানের অবস্থান
বিষয়টি নিয়ে রাকিবুল আহসানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, “একজন ঠিকাদার আমাকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন, আমি এ বিষয়ে ” অফিসিয়াল আইন মেনে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
















