ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

গণপূর্ত প্রকৌশলী জহির রায়হানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অভিযান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫ ৪৯৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির রায়হান–এর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং বেআইনিভাবে সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি দুদক একটি বিশেষ টিম গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

দুদক জানায়, গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে প্রকৌশলী জহির রায়হান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করেছেন। পাশাপাশি, ঘন ঘন বদলি ও পদোন্নতির জন্য উপরের মহলে মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের প্রমাণও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রকৌশলী জহির রায়হানের নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জমি, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও উচ্চমূল্যের ব্যক্তিগত যানবাহনের হদিস পাওয়া গেছে, যার উৎস নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। অথচ সরকারি বেতন-ভাতা অনুযায়ী এই পরিমাণ সম্পদ অর্জন ছিল প্রায় অসম্ভব।

দুদক সূত্রে জানা যায়, তার নামে ভুয়া নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে—যার বৈধতা প্রমাণ করতে পারেননি তিনি। ইতোমধ্যে তার দপ্তরের কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে এবং ব্যক্তিগত আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা সংাঁদমাধ্যমকে বলেন, “প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দুদক যে কোনো মুহূর্তে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারে।”

এদিকে, জহির রায়হান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমি সব তথ্য-প্রমাণ নিয়ে দুদকের সঙ্গে সহযোগিতা করব।”

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত: গণপূর্ত অধিদপ্তরে অতীতে বিভিন্ন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক এই অভিযানের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রশাসনের ভেতরে জমে থাকা দুর্নীতিকে প্রকাশ্যে আনতে উদ্যোগী হয়েছে।

 

Loading

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

গণপূর্ত প্রকৌশলী জহির রায়হানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অভিযান

আপডেট সময় : ১২:১৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির রায়হান–এর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং বেআইনিভাবে সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি দুদক একটি বিশেষ টিম গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

দুদক জানায়, গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে প্রকৌশলী জহির রায়হান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করেছেন। পাশাপাশি, ঘন ঘন বদলি ও পদোন্নতির জন্য উপরের মহলে মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের প্রমাণও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রকৌশলী জহির রায়হানের নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জমি, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও উচ্চমূল্যের ব্যক্তিগত যানবাহনের হদিস পাওয়া গেছে, যার উৎস নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। অথচ সরকারি বেতন-ভাতা অনুযায়ী এই পরিমাণ সম্পদ অর্জন ছিল প্রায় অসম্ভব।

দুদক সূত্রে জানা যায়, তার নামে ভুয়া নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে—যার বৈধতা প্রমাণ করতে পারেননি তিনি। ইতোমধ্যে তার দপ্তরের কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে এবং ব্যক্তিগত আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা সংাঁদমাধ্যমকে বলেন, “প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দুদক যে কোনো মুহূর্তে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারে।”

এদিকে, জহির রায়হান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমি সব তথ্য-প্রমাণ নিয়ে দুদকের সঙ্গে সহযোগিতা করব।”

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত: গণপূর্ত অধিদপ্তরে অতীতে বিভিন্ন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক এই অভিযানের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রশাসনের ভেতরে জমে থাকা দুর্নীতিকে প্রকাশ্যে আনতে উদ্যোগী হয়েছে।

 

Loading