ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

গণপূর্ত প্রকৌশলী জহির রায়হানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অভিযান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫ ৫০৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির রায়হান–এর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং বেআইনিভাবে সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি দুদক একটি বিশেষ টিম গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

দুদক জানায়, গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে প্রকৌশলী জহির রায়হান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করেছেন। পাশাপাশি, ঘন ঘন বদলি ও পদোন্নতির জন্য উপরের মহলে মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের প্রমাণও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রকৌশলী জহির রায়হানের নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জমি, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও উচ্চমূল্যের ব্যক্তিগত যানবাহনের হদিস পাওয়া গেছে, যার উৎস নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। অথচ সরকারি বেতন-ভাতা অনুযায়ী এই পরিমাণ সম্পদ অর্জন ছিল প্রায় অসম্ভব।

দুদক সূত্রে জানা যায়, তার নামে ভুয়া নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে—যার বৈধতা প্রমাণ করতে পারেননি তিনি। ইতোমধ্যে তার দপ্তরের কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে এবং ব্যক্তিগত আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা সংাঁদমাধ্যমকে বলেন, “প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দুদক যে কোনো মুহূর্তে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারে।”

এদিকে, জহির রায়হান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমি সব তথ্য-প্রমাণ নিয়ে দুদকের সঙ্গে সহযোগিতা করব।”

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত: গণপূর্ত অধিদপ্তরে অতীতে বিভিন্ন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক এই অভিযানের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রশাসনের ভেতরে জমে থাকা দুর্নীতিকে প্রকাশ্যে আনতে উদ্যোগী হয়েছে।

 

Loading

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

গণপূর্ত প্রকৌশলী জহির রায়হানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অভিযান

আপডেট সময় : ১২:১৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির রায়হান–এর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং বেআইনিভাবে সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি দুদক একটি বিশেষ টিম গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

দুদক জানায়, গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে প্রকৌশলী জহির রায়হান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করেছেন। পাশাপাশি, ঘন ঘন বদলি ও পদোন্নতির জন্য উপরের মহলে মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের প্রমাণও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রকৌশলী জহির রায়হানের নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জমি, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও উচ্চমূল্যের ব্যক্তিগত যানবাহনের হদিস পাওয়া গেছে, যার উৎস নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। অথচ সরকারি বেতন-ভাতা অনুযায়ী এই পরিমাণ সম্পদ অর্জন ছিল প্রায় অসম্ভব।

দুদক সূত্রে জানা যায়, তার নামে ভুয়া নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে—যার বৈধতা প্রমাণ করতে পারেননি তিনি। ইতোমধ্যে তার দপ্তরের কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে এবং ব্যক্তিগত আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা সংাঁদমাধ্যমকে বলেন, “প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দুদক যে কোনো মুহূর্তে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারে।”

এদিকে, জহির রায়হান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমি সব তথ্য-প্রমাণ নিয়ে দুদকের সঙ্গে সহযোগিতা করব।”

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত: গণপূর্ত অধিদপ্তরে অতীতে বিভিন্ন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক এই অভিযানের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রশাসনের ভেতরে জমে থাকা দুর্নীতিকে প্রকাশ্যে আনতে উদ্যোগী হয়েছে।

 

Loading