নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির রায়হান–এর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং বেআইনিভাবে সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি দুদক একটি বিশেষ টিম গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
দুদক জানায়, গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে প্রকৌশলী জহির রায়হান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করেছেন। পাশাপাশি, ঘন ঘন বদলি ও পদোন্নতির জন্য উপরের মহলে মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের প্রমাণও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রকৌশলী জহির রায়হানের নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জমি, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও উচ্চমূল্যের ব্যক্তিগত যানবাহনের হদিস পাওয়া গেছে, যার উৎস নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। অথচ সরকারি বেতন-ভাতা অনুযায়ী এই পরিমাণ সম্পদ অর্জন ছিল প্রায় অসম্ভব।
দুদক সূত্রে জানা যায়, তার নামে ভুয়া নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে—যার বৈধতা প্রমাণ করতে পারেননি তিনি। ইতোমধ্যে তার দপ্তরের কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে এবং ব্যক্তিগত আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা সংাঁদমাধ্যমকে বলেন, "প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দুদক যে কোনো মুহূর্তে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারে।"
এদিকে, জহির রায়হান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমি সব তথ্য-প্রমাণ নিয়ে দুদকের সঙ্গে সহযোগিতা করব।”
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত: গণপূর্ত অধিদপ্তরে অতীতে বিভিন্ন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক এই অভিযানের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রশাসনের ভেতরে জমে থাকা দুর্নীতিকে প্রকাশ্যে আনতে উদ্যোগী হয়েছে।