ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ




মানিকগঞ্জে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ ৮৫ বার পড়া হয়েছে

দেওয়ান আবুল বাশার: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে মোট বিশজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুইটিতে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে জমজমাট প্রচার প্রচারণা চলছে। অন্যটিতে নির্বাচনী আমেজ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন উত্তেজনা বা সহিংসতা নেই। তবে রাষ্ট্রিয় প্রটোকলে নির্বাচনী প্রচারণা করায় প্রার্থীকে সতর্ক করেছে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা বারো লাখ বাষট্টি হাজার চারশত ৪৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ছয় লাখ বত্রিশ হাজার নয়শত আট ও মহিলা ভোটার ছয় লাখ ঊনত্রিশ হাজার পাঁচশত বত্রিশ জন।

মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনের দুইটিতে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী রয়েছে। মানিকগঞ্জ-২ আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপি মমতাজ বেগম। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বর্তমান এমপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক। মানিকগঞ্জ-১ আসনে বর্তমান এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয় কে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সেখানে নৌকা পেয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাড. আব্দুস সালাম। দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। সেখানে মহাজোট সমর্থিত জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করছেন জহিরুল আলম রুবেল।

মানিকগঞ্জ-২ আসনটিতে বর্তমানে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোট দশজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের মমতাজ ও স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করা ট্রাক প্রতীকের দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর সাথে। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) প্রচারণায় বাধা ও প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দেওয়ান জাহিদ। সেখানকার সহিংসতা নিয়ে থানায় মামলাও হয়েছে।

মানিকগঞ্জ-১ আসনেও টানটান নির্বাচনী উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে ৪জন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দিতায় রয়েছে স্বতন্ত্র থেকে ঈগল প্রতিক নিয়ে জাহিদ ও মহাজোট সমর্থিত লাঙল প্রতিকের রুবেল। ভোটারদের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। নৌকার প্রার্থী প্রত্যাহার করায় সেখানে আওয়ামীলীগের কর্মীরা দ্বিধান্বিতায় ভুগছেন। একদিকে দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের সুখ ও দুর্দিনের কান্ডারি কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা সালাউদ্দিন মাহমুদ অন্যদিকে মহাজোটের (জেপি) প্রার্থী জহিরুল আলম রুবেল। যদিও সেখানে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি একসাথে মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়েছে।

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন প্রার্থী যে কয়জনই থাক মূল প্রতিদ্বন্দি¦তায় থাকবে নৌকার প্রার্থী জাহিদ মালেক ও উদীয়মান সূর্য নিয়ে গণফোরামের প্রার্থী মফিজুল ইসলাম খান কামাল। নির্বাচনী উত্তাপ এ আসনে না থাকলেও প্রচারণা চলছে দিনরাত। ২৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রিয় প্রটোকলে নির্বাচনী প্রচারণার অভিযোগে জাহিদ মালেককে সতর্ক করা হয়। এবিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হলে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেককে সতর্ক করেন।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার রেহেনা আকতার বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ খুবই সুন্দর। প্রার্থীরা দিনরাত্রি ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছে। তারা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছারা নির্বাচনী পরিবেশ সন্তোষজনক।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




মানিকগঞ্জে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা

আপডেট সময় : ০৮:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩

দেওয়ান আবুল বাশার: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে মোট বিশজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুইটিতে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে জমজমাট প্রচার প্রচারণা চলছে। অন্যটিতে নির্বাচনী আমেজ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন উত্তেজনা বা সহিংসতা নেই। তবে রাষ্ট্রিয় প্রটোকলে নির্বাচনী প্রচারণা করায় প্রার্থীকে সতর্ক করেছে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা বারো লাখ বাষট্টি হাজার চারশত ৪৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ছয় লাখ বত্রিশ হাজার নয়শত আট ও মহিলা ভোটার ছয় লাখ ঊনত্রিশ হাজার পাঁচশত বত্রিশ জন।

মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনের দুইটিতে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী রয়েছে। মানিকগঞ্জ-২ আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপি মমতাজ বেগম। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বর্তমান এমপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক। মানিকগঞ্জ-১ আসনে বর্তমান এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয় কে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সেখানে নৌকা পেয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাড. আব্দুস সালাম। দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। সেখানে মহাজোট সমর্থিত জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করছেন জহিরুল আলম রুবেল।

মানিকগঞ্জ-২ আসনটিতে বর্তমানে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোট দশজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের মমতাজ ও স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করা ট্রাক প্রতীকের দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর সাথে। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) প্রচারণায় বাধা ও প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দেওয়ান জাহিদ। সেখানকার সহিংসতা নিয়ে থানায় মামলাও হয়েছে।

মানিকগঞ্জ-১ আসনেও টানটান নির্বাচনী উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে ৪জন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দিতায় রয়েছে স্বতন্ত্র থেকে ঈগল প্রতিক নিয়ে জাহিদ ও মহাজোট সমর্থিত লাঙল প্রতিকের রুবেল। ভোটারদের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। নৌকার প্রার্থী প্রত্যাহার করায় সেখানে আওয়ামীলীগের কর্মীরা দ্বিধান্বিতায় ভুগছেন। একদিকে দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের সুখ ও দুর্দিনের কান্ডারি কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা সালাউদ্দিন মাহমুদ অন্যদিকে মহাজোটের (জেপি) প্রার্থী জহিরুল আলম রুবেল। যদিও সেখানে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি একসাথে মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়েছে।

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন প্রার্থী যে কয়জনই থাক মূল প্রতিদ্বন্দি¦তায় থাকবে নৌকার প্রার্থী জাহিদ মালেক ও উদীয়মান সূর্য নিয়ে গণফোরামের প্রার্থী মফিজুল ইসলাম খান কামাল। নির্বাচনী উত্তাপ এ আসনে না থাকলেও প্রচারণা চলছে দিনরাত। ২৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রিয় প্রটোকলে নির্বাচনী প্রচারণার অভিযোগে জাহিদ মালেককে সতর্ক করা হয়। এবিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হলে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেককে সতর্ক করেন।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার রেহেনা আকতার বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ খুবই সুন্দর। প্রার্থীরা দিনরাত্রি ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছে। তারা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছারা নির্বাচনী পরিবেশ সন্তোষজনক।