ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিআরটিসিতে দুর্নীতির বরপুত্র চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা Logo শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় Logo বরিশালে গণপূর্তে ঘুষ–চেক কেলেঙ্কারি! Logo ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস্ ক্রাইম রিপোর্টাস সোসাইটির কম্বল ও খাবার বিতরন Logo বাংলাদেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন Logo নাগরিক শোকসভা কাল: সঙ্গে আনতে হবে আমন্ত্রণপত্র Logo উত্তরায় হোটেলে চাঁদা চাওয়ায় সাংবাদিককে গণধোলাই Logo ৩০ লক্ষ টাকায় বনানী ক্লাবের সদস্য হওয়া দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কমিশনার জাকিরের পুনর্বাসন Logo চমেকে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করল দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন Logo তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পাদক-সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স : আতঙ্কের এক নতুন নাম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৮ ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

 

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাংলাদেশের মতো নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য খুব উদ্বেগের একটি বিষয়।গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি নিয়ে কী আমরা যথেষ্ট সচেতন?

অ্যান্টিবায়োটিক হলো অনুজীব বিশেষত ব্যাকটেরিয়া ঘটিত বিভিন্ন ধরনের সংক্রমনের চিকিত্সায় ব্যবহৃত জীবনরক্ষাকারী ওষুধ। অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন হয়েছি।
সংক্রমনকারী অনুজীব বা ব্যাকটেরিয়ার উপর নির্ভর করে কোন চিকিত্সায় কোন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হবে।কিন্তু আমাদের যথেচ্ছ ব্যবহার ও ভুল প্রয়োগের ফলে ব্যাকটেরিয়া গুলো ধ্বংস না হয়ে বরং অ্যান্টিবায়োটিক স্কটিশ চিকিত্সক স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং সেটা ১৯২৯ সালে।

বিংশ শতাব্দীর এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের ফলে আমরা সংক্রামক ঘটিত রোগগুলোকে পরাস্ত করে একদিকে রোগাগ্রস্তের সংখ্যা অন্যদিকে মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে সংক্ষম প্রতিরোধী হয়ে উঠছে,যাকে বলা হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ।

এটি এমন একাট অবস্থা নির্দেশ করে, যখন শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করে না।১৯৪৫ সালে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি পরবর্তী ভাষণ প্রদান কালে স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ভবিষ্যত্ বাণী করেছিলেন যে, ওষুধটির অতিব্যবহার ও কম মাত্রায় ব্যবহারের ফলে জীবানুরা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে।

আজ সাত দশক পর তার একথা সত্য হতে চলেছে। বিশ্বের মোটব্যবহৃত ওষুধের ২১ দশমিক ৩ শতাংশই হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। আর মোট অ্যান্টিবায়োটিকের ৩০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় মানবদেহে এবং বাকী ৭০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় প্রাণীর স্বাস্থ্য চিকিত্সায়।

ইতোমধ্যে,বাংলাদেশ সহ এশিয়ার ১১ টি দেশে বেশ কিছু অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের কারনে কতজন মানুষ মারা যায় তার সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলে ও আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন এর তথ্যমতে, প্রতিবছর প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স জনিত রোগে আক্রান্ত হয় ও প্রায় ২৩,০০০ লোকের প্রানহানি ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে,২০৫০ সাল নাগাদ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স জনিত কারনে প্রায় ৩০ কোটি লোক মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকবে।

অ্যান্টিবায়েটিকের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ায় গনোরিয়া,ক্যান্সার,অস্ত্রোপাচার সহ জটিল রোগের চিকিত্সা ক্রমাগতভাবে কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ অবস্থাকে তুলনা করছে অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার হওয়ার আগের যুগের সঙ্গে। অ্যান্টিবায়োটিকের সহজলভ্যতা, রেজিস্টার্ড চিকিত্সকের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ সেবন, ওষুধ সেবনের পর ভালোবোধ করলে পূর্নমাত্রায় সেবন না করা, সাধারন ঠান্ডা জ্বরের জন্য অ্যান্টিবায়েটিক ব্যবহার করা,অন্য কারো ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সেবন করা ছাড়াও নানা কারনে জীবানুরা অ্যান্টিবায়েটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে।

লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে, অ্যান্টিবায়েটিকে রেজিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়াগুলো শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি,কাশির মাধ্যমে সুস্থ ব্যক্তির মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রন শাখা বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতোমধ্যে জাতীয় কৌশলপত্র প্রনয়ন করেছে।

তাই খুব দেরী হওয়ার আগেই সরকার ও সচেতন সমাজের উচিত সচেতনা কার্যক্রম বেগবান করা এবং তা তৃনমূলে ছড়িয়ে দেওয়া। সেটি করতে ব্যর্থ হলে,আমাদের অবতীর্ন হতে হবে জীবানুর বিরুদ্ধে এক অসম লড়াইয়ের জন্য যেখানে রোগাগ্রস্ত ব্যক্তি চিকিত্সকের শরনাপন্ন হওয়া সত্বেও চিকিত্সার জন্য কার্যকর ওষুধ পাওয়া যাবে না ,ফলে চিকিত্সা না পেয়ে মারা যাবে ব্যক্তিটি। তাই আসুন অ্যান্টিবায়েটিক রেজিস্ট্যান্সের এই আতঙ্ক থেকে দূরে থাকতে সচেতন হই এখনই।

লেখক- প্রমিত বনিক
চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ, মহাখালী,ঢাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স : আতঙ্কের এক নতুন নাম

আপডেট সময় : ১১:৫৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৮

 

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাংলাদেশের মতো নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য খুব উদ্বেগের একটি বিষয়।গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি নিয়ে কী আমরা যথেষ্ট সচেতন?

অ্যান্টিবায়োটিক হলো অনুজীব বিশেষত ব্যাকটেরিয়া ঘটিত বিভিন্ন ধরনের সংক্রমনের চিকিত্সায় ব্যবহৃত জীবনরক্ষাকারী ওষুধ। অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন হয়েছি।
সংক্রমনকারী অনুজীব বা ব্যাকটেরিয়ার উপর নির্ভর করে কোন চিকিত্সায় কোন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হবে।কিন্তু আমাদের যথেচ্ছ ব্যবহার ও ভুল প্রয়োগের ফলে ব্যাকটেরিয়া গুলো ধ্বংস না হয়ে বরং অ্যান্টিবায়োটিক স্কটিশ চিকিত্সক স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং সেটা ১৯২৯ সালে।

বিংশ শতাব্দীর এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের ফলে আমরা সংক্রামক ঘটিত রোগগুলোকে পরাস্ত করে একদিকে রোগাগ্রস্তের সংখ্যা অন্যদিকে মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে সংক্ষম প্রতিরোধী হয়ে উঠছে,যাকে বলা হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ।

এটি এমন একাট অবস্থা নির্দেশ করে, যখন শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করে না।১৯৪৫ সালে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি পরবর্তী ভাষণ প্রদান কালে স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ভবিষ্যত্ বাণী করেছিলেন যে, ওষুধটির অতিব্যবহার ও কম মাত্রায় ব্যবহারের ফলে জীবানুরা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে।

আজ সাত দশক পর তার একথা সত্য হতে চলেছে। বিশ্বের মোটব্যবহৃত ওষুধের ২১ দশমিক ৩ শতাংশই হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। আর মোট অ্যান্টিবায়োটিকের ৩০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় মানবদেহে এবং বাকী ৭০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় প্রাণীর স্বাস্থ্য চিকিত্সায়।

ইতোমধ্যে,বাংলাদেশ সহ এশিয়ার ১১ টি দেশে বেশ কিছু অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের কারনে কতজন মানুষ মারা যায় তার সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলে ও আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন এর তথ্যমতে, প্রতিবছর প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স জনিত রোগে আক্রান্ত হয় ও প্রায় ২৩,০০০ লোকের প্রানহানি ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে,২০৫০ সাল নাগাদ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স জনিত কারনে প্রায় ৩০ কোটি লোক মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকবে।

অ্যান্টিবায়েটিকের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ায় গনোরিয়া,ক্যান্সার,অস্ত্রোপাচার সহ জটিল রোগের চিকিত্সা ক্রমাগতভাবে কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ অবস্থাকে তুলনা করছে অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার হওয়ার আগের যুগের সঙ্গে। অ্যান্টিবায়োটিকের সহজলভ্যতা, রেজিস্টার্ড চিকিত্সকের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ সেবন, ওষুধ সেবনের পর ভালোবোধ করলে পূর্নমাত্রায় সেবন না করা, সাধারন ঠান্ডা জ্বরের জন্য অ্যান্টিবায়েটিক ব্যবহার করা,অন্য কারো ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সেবন করা ছাড়াও নানা কারনে জীবানুরা অ্যান্টিবায়েটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে।

লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে, অ্যান্টিবায়েটিকে রেজিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়াগুলো শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি,কাশির মাধ্যমে সুস্থ ব্যক্তির মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রন শাখা বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতোমধ্যে জাতীয় কৌশলপত্র প্রনয়ন করেছে।

তাই খুব দেরী হওয়ার আগেই সরকার ও সচেতন সমাজের উচিত সচেতনা কার্যক্রম বেগবান করা এবং তা তৃনমূলে ছড়িয়ে দেওয়া। সেটি করতে ব্যর্থ হলে,আমাদের অবতীর্ন হতে হবে জীবানুর বিরুদ্ধে এক অসম লড়াইয়ের জন্য যেখানে রোগাগ্রস্ত ব্যক্তি চিকিত্সকের শরনাপন্ন হওয়া সত্বেও চিকিত্সার জন্য কার্যকর ওষুধ পাওয়া যাবে না ,ফলে চিকিত্সা না পেয়ে মারা যাবে ব্যক্তিটি। তাই আসুন অ্যান্টিবায়েটিক রেজিস্ট্যান্সের এই আতঙ্ক থেকে দূরে থাকতে সচেতন হই এখনই।

লেখক- প্রমিত বনিক
চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ, মহাখালী,ঢাকা।