• ১২ই আগস্ট ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

গায়িকাকে বিবস্ত্র করতে মেতে উঠলেন তৃণমূল নেতা!

সকালের সংবাদ ডেস্ক;
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯, ২২:৩৬ অপরাহ্ণ
গায়িকাকে বিবস্ত্র করতে মেতে উঠলেন তৃণমূল নেতা!

অনলাইন ডেস্ক:

স্টেজ-শো করাতে এনে এক গায়িকাকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগি উঠেছে সুরজিৎ সাহা ওরফে ভানু নামের স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। গণেশ পূজা উপলক্ষে স্টেজ-শো করাতে এনে বন্দুকের নলের সামনে ওই গায়িকাকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করেন তিনি।

এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মানিকতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিত গায়িকা। আর ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন ভানু।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজ’র প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে গণেশ পূজা উপলক্ষে মানিকতলার থানা এলাকার একটি জলসার আয়োজন করা হয়। ভানু ওরফে সুরজিৎ সাহা-ই জলসাটির আয়োজন করেছিলেন। সেখানেই গান গাইতে আসেন ওই তরুণী গায়িকা। তার সঙ্গে আরও একটি ব্যান্ডও পারফর্ম করে।

নির্যাতিত গায়িকা জানান, রাত ১০টায় শো-টাইম ছিল। ব্যান্ডের গানের পর রাত ১১টায় স্টেজে ওঠেন তিনি। গান শেষ করে স্টেজ থেকে যখন তিনি নামেন, তখন ঘড়ির কাঁটায় রাত সোয়া ১২টা পেরিয়ে গেছে। স্টেজের পেছনেই ছিল গ্রিনরুম। স্টেজ থেকে নেমে সেই গ্রিনরুমে গিয়েই ঢোকেন তিনি। তখন সেখানে ব্যান্ডের অন্য শিল্পীরাও ছিলেন।

ওই গায়িকার অভিযোগ, তিনি গ্রিনরুমে ঢোকার একটু পরেই সেখানে আসেন ভানু। গ্রিনরুমে ঢুকে সেখান থেকে সবাইকে বেরিয়ে যেতে বলেন তিনি। সবাই বেরিয়ে যেতেই বাইরে থেকে আটকে দেওয়া হয় গ্রিনরুমের দরজা। এমনকি যাতে কেউ ভিতরে ঢুকতে না পারে সেজন্য দরজার বাইরে পাহারায় থাকে দুজন। এরপরই ফাঁকা গ্রিনরুমে ওই গায়িকার ওপর জোরজবরদস্তি শুরু করেন। পরনের জামা ছিঁড়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় তাকে।

প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বন্দুকের নলের সামনে জোর করে ভানু তাকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করা করেন বলে অভিযোগ করেন ওই যুবতী।

গায়িকা জানান, বাইরে ব্যান্ডের শিল্পীরা দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। এরপর ‘ফ্ল্যাটে নিয়ে চলার কথা’ বলে কোনোমতে নিরস্ত্র করা হয় ভানুকে। তারপরই বন্ধ গ্রিনরুম থেকে পালাতে সক্ষম হন তিনি।

সেখান থেকে কোনোমতে বেরিয়েই পরিচিত এক ব্যক্তির মোটরসাইকেলে করে উল্টোডাঙা ব্রিজের কাছে এসে পুলিশের শরণাপন্ন হন ওই গায়িকা। তখনো তার পিছু পিছু ভানুর লোকজন ধাওয়া করছিল। উল্টোডাঙায় পৌঁছে নারী পুলিশদের সঙ্গে নিয়ে এরপর তিনি ফের ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু ততক্ষণে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা চলে যান।

অভিযুক্ত ভানু ওরফে সুরজিৎ সাহা তৃণমূল করেন বলে স্বীকার করেন স্থানীয় কাউন্সিলর। অভিযুক্ত ভানু ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা বলে জানা যায়।

যৌন হয়রানির বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর জানান, তিনি তৃণমূল করেন। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা দল সমর্থন করে না।

error: Content is protected !!