বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মাসুদ রানা: আশীর্বাদ না অভিশাপ?
- আপডেট সময় : ১২:১৯:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫ ৫৯১ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার:
বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মাসুদ রানাকে ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ তাকে বিএনপির “ঘরের শত্রু বিভীষণ” হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—তিনি আসলে আওয়ামী লীগের লোক না কি বিএনপির ভেতর ঢুকে পড়া কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রার্থী?
আওয়ামী লীগের পোস্টার বয় থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী!
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ রানা ২০১৩-১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর পুরো বাগেরহাট-১ জুড়ে আওয়ামী লীগের পোস্টারে নিজের প্রচার চালিয়েছিলেন। এরপর হঠাৎ ২০১৬-১৭ সালের দিকে রাজনৈতিক পরিচয় বা ছাত্র-যুব রাজনীতির কোনো পটভূমি ছাড়াই বিএনপিতে যোগ দেন এবং মনোনয়ন দাবি করতে শুরু করেন।
স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের প্রশ্ন—“যার রাজনীতির শিকড় আওয়ামী লীগে, তার টিকিট দাবির নৈতিকতা কোথায়?”
তারেক রহমানের নীতি ও ছাত্র রাজনীতির বাস্তবতা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র ও যুব রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট ও ত্যাগী নেতাদের অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। অথচ মাসুদ রানার রাজনৈতিক যাত্রায় ছাত্রদল বা যুবদলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তার প্রচার-প্রচারণাও মূলত কিছু নিরীহ কর্মীকে সামান্য টাকায় ব্যবহার করে গড়ে তোলা একপ্রকার সস্তা প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০১৮ সালের ‘নির্বাচনী নাটক’?
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপি থেকে মাসুদ রানা একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান, কারণ অন্য প্রার্থীরা বিতর্কিত ভোটপর্বে অংশ নেননি। কিন্তু নির্বাচনের মাঠে মাসুদ রানা ছিলেন নিস্ক্রিয়। স্থানীয়দের দাবি, তিনি শেখ হেলালের সাথে আঁতাত করে নিজের প্রচারণা মন্থর করেছেন। অভিযোগ উঠেছে—তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ‘সহজ জয়’ পাইয়ে দিতে গোপনে সহযোগিতা করেছেন।
আওয়ামী লীগের সাথে গোপন যোগাযোগের অভিযোগ
স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, মাসুদ রানা এখনও আওয়ামী লীগের কিছু নেতার সাথে গোপনে যোগাযোগ রাখেন এবং বিএনপির ভেতরে থেকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ভূমিকা পালন করছেন। ফলে, দলীয় ইমেজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেক সিনিয়র নেতাই।
দলের ভেতরে প্রবল বিরোধিতা ও প্রশ্ন
বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, “তাকে প্রার্থী করলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে এবং কর্মী-সমর্থকেরা হতাশ হয়ে পড়বে। জনগণের মধ্যেও নেতিবাচক বার্তা যাবে।”
স্থানীয় ভোটারদের সরাসরি প্রশ্ন—“মাসুদ রানা আসলে কার লোক?”
তারা মনে করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে যে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে বিএনপি আন্দোলন করছে, সেই চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায় যদি এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তি দলের হয়ে নেতৃত্ব পান।
তদন্ত দাবি হাইকমান্ডের প্রতি
বাগেরহাট-১ এর বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, দলের হাইকমান্ড মাসুদ রানার অতীত, রাজনৈতিক পরিচয় এবং আওয়ামী লীগের সাথে তার গোপন সম্পর্ক খতিয়ে দেখুক। কারণ, আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা কোনো ‘ঘরের দোসর’ যদি বিএনপির হয়ে প্রার্থী হন, তবে তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।
বিএনপির জন্য মাসুদ রানা কি কৌশলী শত্রু, নাকি হঠাৎ আবির্ভূত কোনো ‘নিরীহ’ প্রার্থী? এই প্রশ্নের উত্তর এখন সময় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের তদন্তেই নির্ভর করছে।






















