ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ১৭ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত হয়েছে: সংস্কারের আশ্বাস ইশরাকের Logo চট্টগ্রাম রেলের জমি দখলে ‘অসাধু সিন্ডিকেট’: রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, লিজ নিয়েও জমি পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠান Logo নিষিদ্ধ সংগঠনের ‘পুনর্গঠন’ বার্তা: ছাত্রলীগের নোটিশ ঘিরে প্রশ্ন ও শঙ্কা Logo দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নলীগ লুট করে আগষ্টিন শত কোটি টাকার মালিক Logo জিয়া শিশুকিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক হলেন হাফিজুর রহমান শফিক Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা  Logo ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজ ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক Logo প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তা আতিকুর পাহাড়সমান অভিযোগ নিয়েও বহাল Logo বদলি-বাণিজ্য ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন সিন্ডিকেট Logo রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ 

ডিজে নেহার কথিত সেই খালাতো ভাই কারাগারে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ৩০০ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ডিজে নেহার কথিত খালাতো ভাই সাফায়েত জামিলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিন রিমান্ড শেষে সাফায়েত জামিলকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. সাজেদুল হক। আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন শুনানির জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি সাফায়েত জামিলকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবার দায়ের করা মামলায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাফায়েত জামিল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

সেদিন লিখিতভাবে বলেন, তিনি এই মামলার আসামি হতে চান। তাকে যেন এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেদিন আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে ডিজে নেহার কথিত এই খালাতো ভাইকে নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেপ্তার এই তরুণের পুরো নাম সাফায়েত জামিল বিশাল। এই তরুণ ডিজে নেহা ওরফে কুইন নেহার সম্পর্কে ‘খালাতো ভাই’। নেহার ডান হাত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন সাফায়েত।

সাফায়েত প্রায় সার্বক্ষণিকই নেহার সঙ্গেই থাকতেন বলে জানা গেছে। শিশা লাউঞ্জে নেহা ও বিশালের গোপন ভিডিও গণমাধ্যমের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

নেহার খালাতো ভাই পরিচয় দেওয়া সাফায়েত মূলত তাদের রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় নয় বলে জানান নেহার খালা। তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, নেহারা আগে যে বাসায় ভাড়া থাকতেন ওই বাসার এক মহিলাকে ধর্মের বোন ডেকেছে আমার বোন। সে থেকেই নেহা ও সাফায়েত খালাতো ভাইবোন পরিচয়ে একসঙ্গে চলাফেরা করতেন, ঘুরে বেড়াতেন। সাফায়েত উশৃঙ্খল প্রকৃতির ছেলে। আমাদের সন্দেহ হচ্ছে- সাফায়েতের হাত ধরেই নেহা এমন পথে পা বাড়ায়

তথ্য পাওয়া গেছে, উত্তরার ব্যাম্বু স্যুট রেস্টুরেন্টে ইউল্যাব শিক্ষার্থীদের মদপান করাতে নেহা ও তার খুব কাছের বন্ধু আরাফাত ভূমিকা পালন করেন। মদপানের পর ওই আরাফাতও মারা গেছেন। নেহার ফোনেই তার খালাতো ভাই সাফায়েত জামিল এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে মদ কিনে নিয়ে যান ওই রেস্টুরেন্টে। সাফায়েত নেহার ক্লায়েন্টদের তালিকা সংরক্ষণ করতেন। এছাড়াও অবৈধ দরদামে তিনি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্বপালন করতেন।

নেহার খুব পছন্দের মোবাইল ফোন ব্রান্ড ‘আইফোন’। টার্গেটকৃত শিল্পপতি ও ধনী যুবকদের নম্বর ‘ক্লায়েন্ট-১’, ‘ক্লায়েন্ট-২’, ‘ক্লায়েন্ট-৩’ এমন ধারাবাহিকভাবেই মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করে রাখতেন ডিজে নেহা।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে করা মামলায় বৃহস্পতিবার ডিজে নেহা গ্রেপ্তার হন। এরপর শুক্রবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে রাতের ঢাকার বার-রেস্টুরেন্টের অজানা তথ্য বেরিয়ে আসে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ডিজে নেহার কথিত সেই খালাতো ভাই কারাগারে

আপডেট সময় : ০৮:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২১

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ডিজে নেহার কথিত খালাতো ভাই সাফায়েত জামিলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিন রিমান্ড শেষে সাফায়েত জামিলকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. সাজেদুল হক। আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন শুনানির জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি সাফায়েত জামিলকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবার দায়ের করা মামলায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাফায়েত জামিল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

সেদিন লিখিতভাবে বলেন, তিনি এই মামলার আসামি হতে চান। তাকে যেন এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেদিন আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে ডিজে নেহার কথিত এই খালাতো ভাইকে নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেপ্তার এই তরুণের পুরো নাম সাফায়েত জামিল বিশাল। এই তরুণ ডিজে নেহা ওরফে কুইন নেহার সম্পর্কে ‘খালাতো ভাই’। নেহার ডান হাত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন সাফায়েত।

সাফায়েত প্রায় সার্বক্ষণিকই নেহার সঙ্গেই থাকতেন বলে জানা গেছে। শিশা লাউঞ্জে নেহা ও বিশালের গোপন ভিডিও গণমাধ্যমের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

নেহার খালাতো ভাই পরিচয় দেওয়া সাফায়েত মূলত তাদের রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় নয় বলে জানান নেহার খালা। তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, নেহারা আগে যে বাসায় ভাড়া থাকতেন ওই বাসার এক মহিলাকে ধর্মের বোন ডেকেছে আমার বোন। সে থেকেই নেহা ও সাফায়েত খালাতো ভাইবোন পরিচয়ে একসঙ্গে চলাফেরা করতেন, ঘুরে বেড়াতেন। সাফায়েত উশৃঙ্খল প্রকৃতির ছেলে। আমাদের সন্দেহ হচ্ছে- সাফায়েতের হাত ধরেই নেহা এমন পথে পা বাড়ায়

তথ্য পাওয়া গেছে, উত্তরার ব্যাম্বু স্যুট রেস্টুরেন্টে ইউল্যাব শিক্ষার্থীদের মদপান করাতে নেহা ও তার খুব কাছের বন্ধু আরাফাত ভূমিকা পালন করেন। মদপানের পর ওই আরাফাতও মারা গেছেন। নেহার ফোনেই তার খালাতো ভাই সাফায়েত জামিল এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে মদ কিনে নিয়ে যান ওই রেস্টুরেন্টে। সাফায়েত নেহার ক্লায়েন্টদের তালিকা সংরক্ষণ করতেন। এছাড়াও অবৈধ দরদামে তিনি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্বপালন করতেন।

নেহার খুব পছন্দের মোবাইল ফোন ব্রান্ড ‘আইফোন’। টার্গেটকৃত শিল্পপতি ও ধনী যুবকদের নম্বর ‘ক্লায়েন্ট-১’, ‘ক্লায়েন্ট-২’, ‘ক্লায়েন্ট-৩’ এমন ধারাবাহিকভাবেই মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করে রাখতেন ডিজে নেহা।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে করা মামলায় বৃহস্পতিবার ডিজে নেহা গ্রেপ্তার হন। এরপর শুক্রবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে রাতের ঢাকার বার-রেস্টুরেন্টের অজানা তথ্য বেরিয়ে আসে।