ঢাকা ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা Logo জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নথি জালিয়াতি: ৫ জনকে শোকজ ও মামলা Logo সওজে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজাদের ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’ ও অবৈধ সম্পদ: পূর্বাচলে কয়েক কোটি টাকার প্লট Logo শহীদ জিয়ার মাজারে জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কমিটির শ্রদ্ধা Logo এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পাশে জিয়া শিশু কিশোর মেলা: বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণ Logo কবি আকাশমণির রোমান্টিক লেখা “ক্লান্তরা সুখ হয়ে ওঠে” Logo লালপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতার Logo মোহনা টিভি দখলের অপচেষ্টা: মিরপুরে উত্তেজনা, থানায় জিডি Logo বন বিভাগে পদোন্নতি জট ও কর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ: আদালতের হস্তক্ষেপে নতুন করে উত্তেজনা Logo জেল থেকে ফিরেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রকৌশলী জুয়েল রানা

৮০ টাকার আদা ৩৫০, ম্যাজিস্ট্রেট দেখে পালালেন ব্যবসায়ীরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০ ২২৬ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, 

চট্টগ্রামে ৮০ টাকায় আমদানি করা আদা পাইকারি বাজারে ২৫০ টাকা এবং নগরের বাজারগুলোতে খুচরা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা। এখবরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পণ্যের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান শুরু করলে নগরীর হামিদুল্লাহ বাজার, নবী সুপার মার্কেট, আমির মার্কেট, ইয়াকুব বিল্ডিং, চাক্তাই এলাকার বেশ কিছু আমদানিকারক তাদের অফিস বন্ধ করে গা ঢাকা দেন।

এসময় চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে আদা বিক্রি করায় ৭ ব্যবসায়ীকে ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার দুপুরে খাতুনগঞ্জে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি বলেন, খাতুনগঞ্জ বাজারে অভিযানকালে দেখা যায়, আদার আড়তগুলোতে আমদানি মূল্যের চাইতে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে আদা বিক্রি হচ্ছে। হাতেনাতে অধিক মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আদা বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মার্কেটের কামাল উদ্দিন ব্রাদার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া পাহাড়তলী বাজার ও ফইল্লাতলী বাজারে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সামাদ শিকদার পাহাড়তলী বাজারে এক ব্যবসায়ীকে অতিরিক্ত দামে আদা বিক্রি, আদা ক্রয়ের রশিদ না থাকা এবং মূল্য তালিকা না থাকায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া সর্বমোট ৫টি মামলায় পাঁচজন ব্যবসায়ীকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
আমদানি তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি ২০২০ হতে ২৪ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৩৫ জন আমদানিকারক মোট ৩১৪৩.৯৫ মেট্রিক টন আদা আমদানি করেছে। যার কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সসহ আমদানি খরচ ২৫২ কোটি ৬১ লাখ ৭ হাজার টাকা। এ হিসেবে আদার গড় আমদানি মূল্য কেজি প্রতি ৮০ টাকার মতো। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশ থেকে যে আদা আমদানি হয়েছে সেগুলোর কেজি প্রতি মূল্য ৯০-৯৫ টাকার মতো।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, পাহাড়তলির বিভিন্ন আড়ত ও মোকামে রেজিস্ট্রার অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে যে, বিগত ১৫ এপ্রিলের পর থেকে আদা ব্যবসায়ী চক্র (আমদানিকারক, ব্রোকার, কমিশন এজেন্ট, আড়তদার) আদার মূল্য বাড়িয়ে ১২৫ টাকা থেকে কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৫০ টাকার উপরে নিয়ে গেছেন। আমদানিকারকরা বন্দর থেকে সরাসরি দালাল (ব্রোকার), কমিশন এজেন্টদের মাধ্যমে আড়তদারদের নিকট এসব পণ্য পৌঁছে দেন। মূলত চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে আদার বাজার অস্থিতিশীল করার পেছনে কতিপয় আমদানিকারক ও ব্রোকারদের (দালাল) যোগসাজশে আদার বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে।
খাতুনগঞ্জে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম এবং আলী হাসান র‌্যাব-৭ সদস্যরা বিভিন্ন আদা, রসুন, পেঁয়াজ, খেজুর, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান শুরু করলে হামিদুল্লাহ বাজার, নবী সুপার মার্কেট, আমির মার্কেট, ইয়াকুব বিল্ডিং, চাক্তাই এলাকার বেশ কিছু আমদানিকারক তাদের অফিস বন্ধ করে গা ঢাকা দেয়। এদের মধ্যে যেসকল প্রতিষ্ঠান গা ঢাকা দিয়েছে তাদের অধিকাংশই আদা ব্যবসায়ী। বিভিন্ন পাইকারি দোকান, আড়ত ও মোকামে বিক্রেতাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আদার আমদানিকারকদের সাথে একটি দালাল (ব্রোকার) এবং কমিশন এজেন্টচক্র যুক্ত হয়ে আদার বাজার মূল্যে কারসাজি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

৮০ টাকার আদা ৩৫০, ম্যাজিস্ট্রেট দেখে পালালেন ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, 

চট্টগ্রামে ৮০ টাকায় আমদানি করা আদা পাইকারি বাজারে ২৫০ টাকা এবং নগরের বাজারগুলোতে খুচরা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা। এখবরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পণ্যের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান শুরু করলে নগরীর হামিদুল্লাহ বাজার, নবী সুপার মার্কেট, আমির মার্কেট, ইয়াকুব বিল্ডিং, চাক্তাই এলাকার বেশ কিছু আমদানিকারক তাদের অফিস বন্ধ করে গা ঢাকা দেন।

এসময় চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে আদা বিক্রি করায় ৭ ব্যবসায়ীকে ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার দুপুরে খাতুনগঞ্জে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি বলেন, খাতুনগঞ্জ বাজারে অভিযানকালে দেখা যায়, আদার আড়তগুলোতে আমদানি মূল্যের চাইতে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে আদা বিক্রি হচ্ছে। হাতেনাতে অধিক মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আদা বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মার্কেটের কামাল উদ্দিন ব্রাদার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া পাহাড়তলী বাজার ও ফইল্লাতলী বাজারে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সামাদ শিকদার পাহাড়তলী বাজারে এক ব্যবসায়ীকে অতিরিক্ত দামে আদা বিক্রি, আদা ক্রয়ের রশিদ না থাকা এবং মূল্য তালিকা না থাকায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া সর্বমোট ৫টি মামলায় পাঁচজন ব্যবসায়ীকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
আমদানি তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি ২০২০ হতে ২৪ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৩৫ জন আমদানিকারক মোট ৩১৪৩.৯৫ মেট্রিক টন আদা আমদানি করেছে। যার কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সসহ আমদানি খরচ ২৫২ কোটি ৬১ লাখ ৭ হাজার টাকা। এ হিসেবে আদার গড় আমদানি মূল্য কেজি প্রতি ৮০ টাকার মতো। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশ থেকে যে আদা আমদানি হয়েছে সেগুলোর কেজি প্রতি মূল্য ৯০-৯৫ টাকার মতো।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, পাহাড়তলির বিভিন্ন আড়ত ও মোকামে রেজিস্ট্রার অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে যে, বিগত ১৫ এপ্রিলের পর থেকে আদা ব্যবসায়ী চক্র (আমদানিকারক, ব্রোকার, কমিশন এজেন্ট, আড়তদার) আদার মূল্য বাড়িয়ে ১২৫ টাকা থেকে কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৫০ টাকার উপরে নিয়ে গেছেন। আমদানিকারকরা বন্দর থেকে সরাসরি দালাল (ব্রোকার), কমিশন এজেন্টদের মাধ্যমে আড়তদারদের নিকট এসব পণ্য পৌঁছে দেন। মূলত চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে আদার বাজার অস্থিতিশীল করার পেছনে কতিপয় আমদানিকারক ও ব্রোকারদের (দালাল) যোগসাজশে আদার বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে।
খাতুনগঞ্জে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম এবং আলী হাসান র‌্যাব-৭ সদস্যরা বিভিন্ন আদা, রসুন, পেঁয়াজ, খেজুর, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান শুরু করলে হামিদুল্লাহ বাজার, নবী সুপার মার্কেট, আমির মার্কেট, ইয়াকুব বিল্ডিং, চাক্তাই এলাকার বেশ কিছু আমদানিকারক তাদের অফিস বন্ধ করে গা ঢাকা দেয়। এদের মধ্যে যেসকল প্রতিষ্ঠান গা ঢাকা দিয়েছে তাদের অধিকাংশই আদা ব্যবসায়ী। বিভিন্ন পাইকারি দোকান, আড়ত ও মোকামে বিক্রেতাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আদার আমদানিকারকদের সাথে একটি দালাল (ব্রোকার) এবং কমিশন এজেন্টচক্র যুক্ত হয়ে আদার বাজার মূল্যে কারসাজি করেছে।