ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মূল্যবোধভিত্তিক পেশাদারিত্বই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্তম্ভ: আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

মাদারীপুরের আবাসিক হোটেল মালিককে ওসির মারধর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯ ২৩২ বার পড়া হয়েছে

মাদারীপুর প্রতিনিধি;

মাদারীপুর সদর থানার ওসি সওগাতুল আলম একটি আবাসিক হোটেল মালিককে থানায় নিজ কক্ষে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার হোটেল মালিক সিরাজ মুন্সী বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার দাবি, মাসিক পনের হাজার টাকা চাঁদা দিতে না চাওয়ায় নির্যাতনের পাশাপাশি একটি সাজানো মামলা দিয়ে তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।

সিরাজ মুন্সী মাদারীপুর শহরের অবস্থিত সুমন আবাসিক হোটেলের মালিক। তিনি জানান, গত সোমবার রাতে মাদারীপুর পৌর শহরে অবস্থিত তার হোটেলে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে থাকতে আসেন শরিয়তপুর সদর উপজেলার এক শালি-দুলাভাই। ঘটনাটি জেনে রাতেই ওই হোটেল তল্লাশি করতে যান মাদারীপুর পুলিশের ডিএসবি শাখার সদস্য শহিদুল ইসলাম। এসময় তিনি দু’জনের কথায় অমিল খুঁজে পান। এক পর্যায় তারা নিজেদের সম্পর্কের কথা শিকার করেন। পরে পুলিশ সদস্য শহিদুল ইসলাম বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য ওই ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা বিকাশে আনতে বলেন। এ সময় হোটেলের মালিক সিরাজ মুন্সীকে টাকার বিষয়টি কাউকে না জানাতে বলেন এবং তাকে দাবিকৃত চাঁদার টাকা বিকাশের দোকান থেকে আনতে পাঠান ওই পুলিশ সদস্য। সিরাজ মুন্সী বিকাশের দোকান থেকে টাকা নিয়ে ফেরার সময় সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

সিরাজ মুন্সী বলেন, পরের দিন সকালে সদর থানার ওসি সওগাতুল আলম আমাকে তার নিজ কক্ষে ডেকে নেন। এ সময় তিনি মাসিক ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে না চাইলে ওসি আমাকে এলোপাথাড়ি চড়-থাপ্পর দিতে থাকেন। ওসির মারধরে আমার চোখে রক্ত জমাট বেধে যায়। এরপর ওসি হোটেলে ওঠা সেই ব্যক্তিকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা দিয়ে আদালতে পাঠান। এরপর আদালত আমাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জামিন দেন। পরে চোখের আঘাত গুরুতর হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হই।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ জুলাই ওসি মাদারীপুর সদর থানায় যোগ দেন। এরপর দুইবার আমাকে তার রুমে ডেকে মাসিক পনের হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি তাকে চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করেছি। তিনি তখন থেকেই আমার ওপরে ক্ষেপে আছেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও উপযুক্ত বিচার চাই।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবির হোসেন জানান, চোখের আঘাত বেশি হওয়ায় রোগীকে ভর্তি নেওয়া হয়েছে। তিনি এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে অধিকতর চিকিৎসার জন্যে অন্যত্র যেতে পারেন। তার চোখ ও মুখে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

সিরাজ মুন্সী বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গে হোটেলে ওঠা সেই ব্যক্তি বলেন, আমি কিছুই জানি না। থানার একজন অভিযোগ লিখেছে আমি টিপ সই দিয়েছি। আমি মামলা করতে রাজি না। এর আগে হোটেলে একজন পুলিশ পরিচয় আমাদের কাছে টাকা দাবি করেছে।

নির্যাতনের বিষয়ে সদর থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, আমার সঙ্গে তার (সিরাজ মুন্সী) দেখাই হয়নি। তাকে শারীরিক নির্যাতনের প্রশ্নই উঠে না। আমার বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি থানায় মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার বলেন, নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি ওসি নির্যাতন করে থাকেন, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

মাদারীপুরের আবাসিক হোটেল মালিককে ওসির মারধর

আপডেট সময় : ০৩:২৩:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

মাদারীপুর প্রতিনিধি;

মাদারীপুর সদর থানার ওসি সওগাতুল আলম একটি আবাসিক হোটেল মালিককে থানায় নিজ কক্ষে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার হোটেল মালিক সিরাজ মুন্সী বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার দাবি, মাসিক পনের হাজার টাকা চাঁদা দিতে না চাওয়ায় নির্যাতনের পাশাপাশি একটি সাজানো মামলা দিয়ে তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।

সিরাজ মুন্সী মাদারীপুর শহরের অবস্থিত সুমন আবাসিক হোটেলের মালিক। তিনি জানান, গত সোমবার রাতে মাদারীপুর পৌর শহরে অবস্থিত তার হোটেলে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে থাকতে আসেন শরিয়তপুর সদর উপজেলার এক শালি-দুলাভাই। ঘটনাটি জেনে রাতেই ওই হোটেল তল্লাশি করতে যান মাদারীপুর পুলিশের ডিএসবি শাখার সদস্য শহিদুল ইসলাম। এসময় তিনি দু’জনের কথায় অমিল খুঁজে পান। এক পর্যায় তারা নিজেদের সম্পর্কের কথা শিকার করেন। পরে পুলিশ সদস্য শহিদুল ইসলাম বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য ওই ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা বিকাশে আনতে বলেন। এ সময় হোটেলের মালিক সিরাজ মুন্সীকে টাকার বিষয়টি কাউকে না জানাতে বলেন এবং তাকে দাবিকৃত চাঁদার টাকা বিকাশের দোকান থেকে আনতে পাঠান ওই পুলিশ সদস্য। সিরাজ মুন্সী বিকাশের দোকান থেকে টাকা নিয়ে ফেরার সময় সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

সিরাজ মুন্সী বলেন, পরের দিন সকালে সদর থানার ওসি সওগাতুল আলম আমাকে তার নিজ কক্ষে ডেকে নেন। এ সময় তিনি মাসিক ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে না চাইলে ওসি আমাকে এলোপাথাড়ি চড়-থাপ্পর দিতে থাকেন। ওসির মারধরে আমার চোখে রক্ত জমাট বেধে যায়। এরপর ওসি হোটেলে ওঠা সেই ব্যক্তিকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা দিয়ে আদালতে পাঠান। এরপর আদালত আমাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জামিন দেন। পরে চোখের আঘাত গুরুতর হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হই।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ জুলাই ওসি মাদারীপুর সদর থানায় যোগ দেন। এরপর দুইবার আমাকে তার রুমে ডেকে মাসিক পনের হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি তাকে চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করেছি। তিনি তখন থেকেই আমার ওপরে ক্ষেপে আছেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও উপযুক্ত বিচার চাই।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবির হোসেন জানান, চোখের আঘাত বেশি হওয়ায় রোগীকে ভর্তি নেওয়া হয়েছে। তিনি এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে অধিকতর চিকিৎসার জন্যে অন্যত্র যেতে পারেন। তার চোখ ও মুখে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

সিরাজ মুন্সী বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গে হোটেলে ওঠা সেই ব্যক্তি বলেন, আমি কিছুই জানি না। থানার একজন অভিযোগ লিখেছে আমি টিপ সই দিয়েছি। আমি মামলা করতে রাজি না। এর আগে হোটেলে একজন পুলিশ পরিচয় আমাদের কাছে টাকা দাবি করেছে।

নির্যাতনের বিষয়ে সদর থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, আমার সঙ্গে তার (সিরাজ মুন্সী) দেখাই হয়নি। তাকে শারীরিক নির্যাতনের প্রশ্নই উঠে না। আমার বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি থানায় মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার বলেন, নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি ওসি নির্যাতন করে থাকেন, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।