ভারতীয় সাংবাদিক সুবীর ভৌমিককে নিয়ে বিএনপির নতুন কৌশল

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:২৬ অপরাহ্ণ, ২৬ জুন ২০২০

সকালের সংবাদঃ  ড. কামাল হোসেনের জামাতা ডেভিড বার্গম্যানকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সরকারের সমালোচনাসহ দেশ বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়াটা স্বাভাবিক পর্যায় হিসেবে যখন পরিগণিত হচ্ছে, তখন নতুন ছক নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি-জামায়াত চক্র। নয়া কৌশল হিসেবে ভারতের সাবেক বিবিসি প্রতিনিধি সুবীর ভৌমিককে দিয়ে সরকার বিরোধী প্রপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। আর প্রপাগান্ডার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যকার কিছু আজগবী গল্প একে। এ ধরণের গল্প শুরু হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এসএসএফ সদস্য দ্বারা হত্যা পরিকল্পনার বানোয়াট গল্প দিয়ে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরণের সংবাদের বিরুদ্ধে তখন তীব্র প্রতিবাদও করা হয়েছিল।

এইবার প্রপাগান্ডার অস্ত্র হিসেবে কেন ব্যবহার করা হচ্ছে সেনাবাহিনীকে? সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাক-বিএনপির রাজনীতি মানেই সেনাবাহিনীর বলয়ে আর্শীবাদপুষ্ট একটি দল। যে দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতি সুদূর পরাহত এক মরীচিকা। জনগণের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন একটি দল যারা সব সময়ে সেনাবাহিনীর উপর ভর করতে চায়। কোন নির্বাচনে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে কি থাকবেনা এটা গণতান্ত্রিক একটি চর্চা। কিন্তু বিএনপি সব সময়েই দাবি করে থাকে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি দিতে হবে। সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি দিলেই মনে হয় বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। এই করোনাকালেও এইড টু সিভিল প্রশাসন হিসেবে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া হলে তারা তার সমালোচনা করেন। বিএনপি কেন যেন, গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর আস্থা রাখতে পারেননা। অর্থাৎ অরাজক একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার পায়তারা সব সময়ে থাকে বিএনপির। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দক্ষ ও পেশাদার সুশৃঙ্খল একটি বাহিনী। এ বাহিনীর নামে আজগুবি গল্প তৈরি করে ফায়দা তোলার আর সুযোগ আছে বলে মনে হয়না।

বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে সরিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল শফিকুর রহমানকে পরবর্তী সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে- এমন আজগবি ও বানোয়াট গল্প নিয়ে আবারও হাজির হচ্ছেন একদা বিবিসির সাবেক ভারতী সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক।

‘A crack in the hornets’ nest strife within Bangladesh Military order’ শিরোনামে সুবীর ভৌমিকের নামে গত ১০ জুন ২০২০ খ্রিঃ এ সংবাদটি প্রচার করে The Telegraph, Online Addition.

‘Why Bangladesh Army Chief is Dragged Into Controversy ‘ শিরোনামে সুবীর ভৌমিকের করা গত ১৪ জুন ২০২০ খ্রিঃ এ সংবাদটি প্রচার করে The eastern Link. দুটি লেখাতেই তিনি জেনারেল আজিজ আহমেদ এর বিপক্ষে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর মধ্যকার ষড়যন্ত্র তথ্যে কার লাভ? এই মুহূর্তে মোটা দাগে বলতে গেলে বিএনপির চাওয়াটা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তুলে ধরছে সুবীর ভৌমিক। আর সুবীর ভৌমিক যে ভাষায় এবং যে সুরে সংবাদ প্রচার করছেন, সেই একই তথ্যগুলো সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার করছে বিএনপি’র নেতা- কর্মীরা। বর্তমান সিজিএস লেফটেন্যান্ট জেনারেল শফিকুর রহমান পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন এমন তথ্য প্রচার করছে তারা। কমেন্টে অভিনন্দনও জানাচ্ছেন তারা। সুকৌশলে একটি বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ে গুজব ছড়িয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টির পায়তারা করছে তারা। অর্থাৎ ইকুয়েশনটা খুব সহজে মিলে যাচ্ছে। আর এ কাজে সুবীর ভৌমিককে মনগড়া তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন সাবেক আর্মি অফিসার।

তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ দেশের বাইরে বসে বাংলাদশে ও সরকার বরিোধী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা লেখা অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছেন তিনি। অনুসন্ধানে জানা জানা গেছে শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ www.sheikhnews.com নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল চালান। তিনি বাংলাদেশে দৈনিক শক্তি পত্রিকায় কিছুদিন সাংবাদিকতা করেন এবং লিবারেল পার্টি পরিচালনা করেন। জাতীয় প্রেসক্লাবে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। বিএনপিপন্থী সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ ও জামায়াতপন্থী সাংবাদিক নেতা রূহুল আমিন গাজীসহ বিএনপি জামায়াতের সাংবাদিকদের সাথে তার যোগাযোগ ছিলো।

বিএনপি তথা চারদলীয় জোটের পতনের পর ২০০৭ সালে শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ লন্ডনে গিয়ে বাংলাদেশ ও সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র করা শুরু করেন। সভা সেমিনার ফেসবুক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে বাংলাদেশ, সরকার ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা কথা বলেন এবং লিখেন। এ কারনে তিনি লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্র‍য় চেয়ে নাগরিকত্ব পাননি।লন্ডনে গিয়ে তারেক জিয়ার সাথে তিনি সাক্ষাৎ করেন। তারেক জিয়ার সাথে ভালো সম্পর্ক হয়ে গেলে তিনি তারেক জিয়ার কথামতো বাংলাদেশ ও সরকার এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে ষড়যন্ত্রে নামেন। লন্ডনে বসে sheikhnews.com অনলাইন নিউজ র্পোটাল খুলে আওয়ামী লীগ, সরকার ও সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে মিথ্যা বানোয়াট লেখা লিখেন। লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় না পেয়ে পরে তিনি আয়ারল্যান্ড গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে নাগরিকত্ব পান। তারেক জিয়ার কথামতো তিনি আয়ারল্যান্ডে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং অনলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সূত্র জানায়। সুবীর ভৌমিক যে সুরে যে তথ্য প্রকাশ করছেন সেই একই তথ্য প্রচারে নেমেছেন শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ।

ফ্ল্যাশব্যাকে যাওয়া যাক-

২০১৬ সালে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। আর সেই বৈঠকটিও করা হয় ভারতে। বিবিসিসহ প্রায় সকল গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচার পায়। পরে আসলাম চৌধুরীকে ঢাকায় গ্রেফতার করা হলে তিনি তা স্বীকার করেন।

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মিয়ানমারের সংবাদ মাধ্যম মিজ্জিমা তে সুবীর ভৌমিক প্রকাশ করলেন- বিপথগামী এসএসএফ’র ৬/৭ জন সদস্য দ্বারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র। দেশের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত বাহিনীর বিপক্ষে এমন মনগড়া গল্পকে নাকচ করে কড়া স্টেটমেন্ট

দেয় সরকার। অর্থাৎ এ ধরণের বানোয়াট গল্প তৈরি করে সরকার ও প্রশিক্ষিত বাহিনীর মধ্যে দূরুত্ব তৈরির পায়তারা করছে সুবীর ভৌমিক। ২০১৮ সালের জুনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও দলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভারতের মন গলাতে গোপনে সেদেশ সফর করেন। সফরে তারা ক্ষমতাশীল বিজেপিসহ কিছু রাজনৈতিক -অর্থনৈতিক বিশ্লেষকের সংগে দেখা করেন বলে তখন বিবিসি সহ ভারতীয় গণমাধ্যম খবর প্রচার করে। বিএনপি আন্তর্জাতিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দ্য হিন্দুকে দেয়া এক মন্তব্য এ বলেন, বিএনপি আমলগুলোতে ভারত ও বাংলাদেশের খারাপ সম্পর্ককে ভুল নীতি হিসেবে আখ্যা দেন। একটি রাজনৈতিক দল আরেকটি দেশের সরকার তথা বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে সফর করতেই পারেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিগুলো চীন -রাশিয়া ভ্রমণ করছেন রাজনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য। কিন্তু প্রশ্নটা উঠে যখন সফরটা গোপনে হয়। তাই এটা প্রমানিত হয় যে, লন্ডনে পলাতক থাকা তারেক রহমানের নির্দেশে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে আঁতাত করতেই সেখানে যান তারা। সেই আঁতাতের ফসল সুবীর ভৌমিক।

আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করা বিএনপি-জামায়াতের নতুন কোন কৌশল নয়; ৩০ জানুয়ারি ২০১৩ আমেরিকান পত্রিকা The Washington Times এ ‘The Thankless Role in Saving Democracy in Bangladesh’ শিরোনামে আর্টিক্যাল লিখে আমেরিকাকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিকে দেয়া জিএসপি সুবিধা বাতিলের দাবি জানায় বিএনপি সভানেত্রী স্বয়ং খালেদা জিয়া। বেগম খালেদা জিয়া মুখে যখন দেশপ্রেমের কথা বলেন, তখন জাতির কাছে তা প্রহসন ছাড়া আর কিছু মনে হয়না। ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করতে দেশের বিরুদ্ধে যেতেও তাদের বেগ পেতে হয়না। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে সেনাপ্রধানের দূরুত্ব হলে তিনি অবশ্যই টিকতে পারেননা।

তাই এটা বলা বাহুল্য যে, জেনারেল আজিজ সরকারের আস্থার প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। করোনা কালে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী সাধারণ মানুষের পাশে দাড়িয়ে করোনা মোকাবিলায় কাজ করছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সৃষ্টি হয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্যে অর্থাৎ সরাসরি রণক্ষেত্রের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া একটি বাহিনী। যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে একটি মানচিত্রের জন্ম দিয়েছে। সেই প্রশিক্ষিত বাহিনী বর্তমানে জাতিসংঘের শন্তি মিশনে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা সমুন্নত করছেন। মিয়ানমারের সংবাদ মাধ্যম মিজ্জিমা গ্রুপের কনসাল্টিং এডিটর সুবীর ভৌমিক আপনি আপনার দেশ ও মিয়ানমার নিয়ে চিন্তা করূন। গুজব আবার সাংবাদিকতা এক হলো কবে? তাই আপনাকে আর বিবিসির সাবেক সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেয়া সমীচীন হবেনা। আপনার পরিচয় আপনি এখন একজন গুজব রচয়িতা! আপনি জেনে থাকবেন গুজব প্রতিরোধে বাংলাদেশ যথেষ্ট সফল।

আপনার মতামত লিখুন :